এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১৬ অক্টোবর : বনগাঁয় পূজোমণ্ডপের কাছে সিপিএমকে বুকস্টল করার অনুমতি দিল না কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের ডিভিশন বেঞ্চ । বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চের দেওয়া নির্দেশ খারিজ করে দেওয়া হল আজ । ফলে এবারের দুর্গাপূজায় বনগাঁয় সিপিএম-এর (CPM) বুকস্টল হচ্ছে না । আগামী ২১ জানুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি। এটা সিপিএমের জন্য একটা চরম ধাক্কা ।
আজ শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সিপিএম-কে প্রশ্ন করেন, সিপিএম স্টল করার জন্য কোনও অনুমতি নিয়েছে কি ? যদি করে থাকেন তাহলে সেটা দেখান৷ উত্তরে সিপিএমের আইনজীবী শামিম আহমেদ জানান, রাজ্যের অনুমতি নেওয়া হয়নি। তবে তাঁরা মহকুমা শাসককে জানিয়েছিলেন। প্রতিবছর ওখানে কমপক্ষে একশো স্টল বসে,কখনও কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। উত্তরে প্রধান বিচারপতি বলেন, চল্লিশ বছর ধরে কোনও আইন কার্যকর করা হয়নি বলে এবছরও আইন প্রয়োগ করা যাবে না, সেটা হয় না। শেষ পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি নির্দেশ দেন,’রাস্তার ধারের সব স্টল তুলে দিন । পুলিশের অনুমতি না থাকলে কারোরই স্টলের প্রয়োজন নেই। আইনের চোখে সমান সবাই।’
সম্প্রতি বনগাঁ এবং নৈহাটিতে দুর্গাপুজোয় ২টি বুকস্টল করতে চেয়ে আবেদন জানায় সিপিএম। কিন্তু অভিযোগ, তাতে পুলিশ অনুমতি দেয়নি। যা ঘিরে শুরু হয় আইনি-সংঘাত। বৃহস্পতিবার বনগাঁয় সিপিএমের বুক স্টল তৈরিতে, অনুমতি দেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য ।আর তাঁর এই নির্দেশকে চ্য়ালেঞ্জ করে, ফের ডিভিশন বেঞ্চে যায় রাজ্য় সরকার। শুক্রবারই ডিভিশন বেঞ্চে সেই মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বলে দেন, অনুমতি নেওয়া না থাকলে স্টল তুলে দিতে হবে।।
সিপিএম-এর আইনজীবী মরিয়া হয়ে আবেদন জানান,’পার্টি অফিস সামনে ছাউনি ছাড়া শুধু টেবিল পেতে ৫ ফুট লম্বা স্টল করতে দেওয়া হোক। কিন্তু অ্যাডভোকেট জেনারেলের বিল্বদল ভট্টাচার্য বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরত্বের কথা উল্লেখ করে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন । এরপর প্রধান বিচারপতি সাফ জানিয়ে দেব, অনুমতি না থাকলে টেবিল-ছাতা পেতে স্টলেও অনুমতি নয়। নির্দেশের পর কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, এই মামলায় যুক্ত সব পক্ষকে নোটিস দিয়ে জানতে চেয়েছে আদালত ।।

