এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,১৪ অক্টোবর : বাংলাদেশের সাতক্ষীরায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ‘মানসিক ভারসাম্যহী’ যুবককে পিটিয়ে মারল ধর্মোন্মাদের দল । ঘটনাটি ঘটেছে সাতক্ষীরার দেবহাটায় ৷ মৃতের নাম ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৪০) । মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যার আগে দেবহাটার কুলিয়া এলাকায় প্রথম দফায় গণপিটুনির শিকার হন শামীম। খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে রাত ৯টার দিকে মিছিল নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে তাকে আবারও মারধর করা হয় । মধ্যরাতে তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত শামীম দেবহাটা উপজেলার বড় শান্তা গ্রামের মৃত শামছুর রহমানের ছেলে। স্থানীয়রা জানায়, শামীমের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ তুলে ফেসবুকে লাইভ করেন ফজলুল হক আমিনী নামে এক ব্যক্তি। এ সময় তিনি জনতাকে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান। পরে কুলিয়া এলাকায় গ্রাম্য চিকিৎসক সবুরের চেম্বারের সামনে লোকজন জড়ো হয় । সেখানে চিকিৎসাধীন শামীমকে বের করে প্রথম দফায় মারধর করা হয়।
ফজলুল হক আমিনী বলেন, ‘শামীম গত ছয় মাস ধরে আল্লাহ, রাসুল (সা.) ও ইসলাম ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে আসছিলেন। প্রতিবেশী বা অন্য কেউ তার সঙ্গে কথা বললে তিনি ইসলাম বিদ্বেষী কথাবার্তা বলতেন। আজ তৌহিদী জনতা গণপিটুনি দিয়ে তাকে পৃথিবী থেকে বিদায় করে দিয়েছে।’
শামীমের ছোট ভাই সাগর হোসেন বলেন, তারা পাঁচ ভাই। শামীম ছিলেন চতুর্থ। তিনি মাদ্রাসা থেকে কামিল পাস করার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তার দুই সন্তান রয়েছে।সাগর বলেন, ‘পারিবারিক সমস্যার কারণে ভাই মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি কখনো স্বাভাবিক আচরণ করতেন, আবার কখনো অস্বাভাবিক কথাবার্তা বলতেন। তার চিকিৎসা চলছিল । তিনি যদি কোনো অপরাধ করে থাকেন, তাহলে আইনের মাধ্যমে তার বিচার হতে পারত। এভাবে পিটিয়ে তাকে মেরে ফেলা হলো কেন? আমরা কিছুই করতে পারিনি। সামনে এগোলে আমাদেরও মারধর করা হতো।’তিনি আরও বলেন, দুই দিন আগে স্ত্রীর সঙ্গে শামীমের ঝগড়া হয়। ওই সময় তাদের কথাবার্তা আশপাশের কেউ রেকর্ড করে ছড়িয়ে দেন বলে তাদের ধারণা। এতে লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ঝগড়ার পর শামীম বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে তাকে কুলিয়ার গ্রাম্য চিকিৎসক সবুরের চেম্বারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। সেখানেই তাকে প্রথমে মারধর করা হয়। পরে হাসপাতালে গিয়ে আবারও মারধর করে তাকে হত্যা করা হয় ।।
In Satkhira, Bangladesh, a mob of religious zealots beat a ‘mentally unstable’ young man to death over allegations of বাংলাদেশের সাতক্ষীরায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ‘মানসিক ভারসাম্যহী’ যুবককে পিটিয়ে মারল ধর্মোন্মাদের দল
এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,১৪ অক্টোবর : বাংলাদেশের সাতক্ষীরায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ‘মানসিক ভারসাম্যহী’ যুবককে পিটিয়ে মারল ধর্মোন্মাদের দল । ঘটনাটি ঘটেছে সাতক্ষীরার দেবহাটায় ৷ মৃতের নাম ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৪০) । মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যার আগে দেবহাটার কুলিয়া এলাকায় প্রথম দফায় গণপিটুনির শিকার হন শামীম। খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে রাত ৯টার দিকে মিছিল নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে তাকে আবারও মারধর করা হয় । মধ্যরাতে তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত শামীম দেবহাটা উপজেলার বড় শান্তা গ্রামের মৃত শামছুর রহমানের ছেলে। স্থানীয়রা জানায়, শামীমের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ তুলে ফেসবুকে লাইভ করেন ফজলুল হক আমিনী নামে এক ব্যক্তি। এ সময় তিনি জনতাকে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান। পরে কুলিয়া এলাকায় গ্রাম্য চিকিৎসক সবুরের চেম্বারের সামনে লোকজন জড়ো হয় । সেখানে চিকিৎসাধীন শামীমকে বের করে প্রথম দফায় মারধর করা হয়।
ফজলুল হক আমিনী বলেন, ‘শামীম গত ছয় মাস ধরে আল্লাহ, রাসুল (সা.) ও ইসলাম ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে আসছিলেন। প্রতিবেশী বা অন্য কেউ তার সঙ্গে কথা বললে তিনি ইসলাম বিদ্বেষী কথাবার্তা বলতেন। আজ তৌহিদী জনতা গণপিটুনি দিয়ে তাকে পৃথিবী থেকে বিদায় করে দিয়েছে।’
শামীমের ছোট ভাই সাগর হোসেন বলেন, তারা পাঁচ ভাই। শামীম ছিলেন চতুর্থ। তিনি মাদ্রাসা থেকে কামিল পাস করার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তার দুই সন্তান রয়েছে।সাগর বলেন, ‘পারিবারিক সমস্যার কারণে ভাই মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি কখনো স্বাভাবিক আচরণ করতেন, আবার কখনো অস্বাভাবিক কথাবার্তা বলতেন। তার চিকিৎসা চলছিল । তিনি যদি কোনো অপরাধ করে থাকেন, তাহলে আইনের মাধ্যমে তার বিচার হতে পারত। এভাবে পিটিয়ে তাকে মেরে ফেলা হলো কেন? আমরা কিছুই করতে পারিনি। সামনে এগোলে আমাদেরও মারধর করা হতো।’তিনি আরও বলেন, দুই দিন আগে স্ত্রীর সঙ্গে শামীমের ঝগড়া হয়। ওই সময় তাদের কথাবার্তা আশপাশের কেউ রেকর্ড করে ছড়িয়ে দেন বলে তাদের ধারণা। এতে লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ঝগড়ার পর শামীম বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে তাকে কুলিয়ার গ্রাম্য চিকিৎসক সবুরের চেম্বারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। সেখানেই তাকে প্রথমে মারধর করা হয়। পরে হাসপাতালে গিয়ে আবারও মারধর করে তাকে হত্যা করা হয় ।।

