এইদিন ওয়েবডেস্ক,কেরালা,০৫ অক্টোবর : সৌন্দর্য কমে যাওয়ায় স্ত্রীকে বেদম পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠালো সৌদি প্রবাসী গুনধর স্বামী । সৌদি আরবে স্বামীর হাতে নির্মমভাবে মার খাওয়ার পর গুরুতর আহত অবস্থায় দেশে ফেরা এক নববধূ কোল্লাম জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। কেরালার কোল্লাম (Kollam) জেলার নীন্দাকারা (Neendakara) অঞ্চলের মান্নাথারার (Mannathara) অনঘা মন্দিরম (Anagha Mandiram) -এর বাসিন্দা অঞ্জু স্বামী নন্দুর মারধরে গুরুতর আহত । অভিযোগ, তার সৌন্দর্য কমে যাওয়ায় এবং তিনি আরও যৌতুক দিতে অস্বীকার করায় তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়।
এই ঘটনায় স্থানীয় চাভারা (Chavara) পুলিশ প্রহৃত বধূর স্বামী ও শ্বশুর শাশুড়ির বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসাসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করেছে। মামলাটি স্বামী নন্দু দীনেশ এবং তার বাবা-মা দীনেশ ও জগদাম্মার বিরুদ্ধে, যারা নীন্দাকারা মুন্ডাকাথিলে থাকেন। নন্দু বর্তমানে সৌদি আরবে আছেন। পুলিশ তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।
অঞ্জু ও নন্দু দীনেশের বিয়ে হয়েছিল গত ২৭শে জুলাই। এক সপ্তাহের মধ্যেই অঞ্জুকে হয়রানি ও উপহাস করা শুরু হয়। এক মাস পর নন্দু সৌদি আরবে চলে যায়, কিন্তু অঞ্জুকে ফোনে সে গালিগালাজ করতে থাকে৷ পরে সে নিজের বাড়িতে ফিরে আসে। নন্দু তাকে বুঝিয়ে গত মাসের ৪ তারিখে অঞ্জুকে সৌদি আরবে নিয়ে যায়।
কিন্তু অভিযোগ যে,ফ্ল্যাটে আটকে রেখে তাকে কুকার, পাথর, ঝাড়ু, মপ, বেল্ট, ল্যাপটপ চার্জার ইত্যাদি দিয়ে পেটানো হয়। অঞ্জুর সারা শরীরে কালশিটে ও কাটা দাগ হয়ে যায় । অঞ্জু পুলিশকে এও জানায় যে, বোতল দিয়ে তার গোপনাঙ্গে আঘাত করা হয়েছিল। তাকে ছুরি দিয়ে ভয় দেখিয়ে বলানো হয় যে, বিয়ের আগে ও পরে তার অন্য পুরুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল এবং সে তা রেকর্ড করে স্থানীয় ও আত্মীয়দের কাছে পাঠিয়েছিল।
অঞ্জু আরও বলেন যে, তাকে জানানো হয়েছিল যে অনেক দৃশ্য পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে। মহিলাটি বলেন যে, তাদের বিয়ের আগেও নন্দু একজন মানসিক রোগীর মতো আচরণ করত এবং তিনি তখন বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি। অঞ্জু বলেন যে, তাকে তার বন্ধুদের সাথে কথা বলারও অনুমতি পর্যন্ত দেওয়া হতো না।
অবশেষে, ৩০শে সেপ্টেম্বর অঞ্জুকে তার দেশে ফেরত পাঠানো হয়। আত্মীয়রা জানান যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালা এবং মন্ত্রী বিন্দু কৃষ্ণ আশ্বাস দিয়েছেন যে এই ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।।

