এইদিন ওয়েবডেস্ক,নদীয়া,২১ সেপ্টেম্বর : সিঁদ কেটে ঘরে ঢুকে ইঁট দিয়ে এক মহিলার মুখ থেঁতলে খুনের ঘটনা ঘটেছে নদীয়া জেলার শান্তিপুর থানার ফুলিয়ায় । পুলিশ জানিয়েছে,মৃতার নাম মিতালি বিশ্বাস(৪৫)৷ পুলিশ অকুস্থল থেকে খুনে ব্যবহৃত রক্তমাখা একটা আধলা ইঁট উদ্ধার করেছে । ইঁটটি ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে । পাশাপাশি মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কল্যানীর এইমসে পাঠানো হয়েছে । মৃতার পরিবারের দাবি, কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় খুন কর হয়েছে মিতালিদেবীকে । ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ।
জানা গেছে,নদীয়ার শান্তিপুর থানার নবলা গ্রাম পঞ্চায়েতের ফুলিয়া প্রফুল্লনগর এলাকায় বাড়ি মিতালি বিশ্বাসের । তিনি বাড়িতে বিড়ি বাধার কাজ করতেন । স্বামী পেশায় ভ্যানচালক । পাশাপাশি রাতে তিনি হোটেলে কাজ করেন । তাদের এক মেয়ে ও এক ছেলে । ছেলেমেয়ে দু’জনেরই বিয়ে হয়ে গেছে ।
জানা গেছে,করগেট দিয়ে ঘেরা ও করগেটের ছাউনির দু’কামরা ঘরে বসবাস পরিবারটির । অন্যান্য দিনের মত রবিবার রাতেও কাজে গিয়েছিলেন মিতালিদেবীর স্বামী৷ একটি ঘরে ঘুমচ্ছিলেন তিনি। অন্য ঘরে ছিলেন ছেলে বউমা । রাত্রি প্রায় সাড়ে ১২ টা নাগাদ গোঁগানির আওয়াজ পেয়ে মিতালিদেবীর ছেলে বাইরে আসার জন্য দরজা খুলতে গেলে দেখেন বাইরে থেকে ছিটকিনি লাগানো । অনেক চেষ্টার পর তিনি কোনো রকমে দরজা খুলে বাইরে এসে দেখেন মায়ের ঘরের দরজা খোলা । ঘরে ঢুকে দেখেন রক্তাক্ত রমিতালীদেবী মুখ থেঁতলানো অবস্থায় পড়ে রয়েছেন । এই দেখে তিনি চিৎকার করে প্রতিবেশীদের ডাকে । এরপর রক্তাক্ত অবস্থায় মিতালীদেবীকে রানাঘাট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় । কিন্তু আজ সোমবার সকাল প্রায় ৫ টা নাগাদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার ।
মৃতার মেয়ে লক্ষ্মী মন্ডল বলেন,’যেভাবে সিঁদ কাটা হয়েছে তা দিয়ে কোনো মোটাসোটা লোক ঘরে ঢুকতে পারবে না । রোগাপাতলা কেউ ঘরে ঢুকে দরজা খুলে দিলে ঘাতক এসে মাকে মুখ থেঁতলে খুন করে ।’ তিনি বলেন,’ঘরের কোনো জিনিসই খোয়া যায়নি । তাই নিশ্চিতভাবে চুরির উদ্দেশ্যে খুনের ঘটনা নয় । তবে মা প্রায়ই বলতেন যে, স্থানীয় এক বাসিন্দা মাকে কুপ্রস্তাব দিচ্ছিল । একবার ওই ব্যক্তি বাড়িতে এলে আমার ভাই তাকে চড়থাপ্পড় মেরে বাড়ি থেকে বের করে দেয় । সেই আক্রোশেই ওই ব্যক্তি আমার মাকে খুন করেছে বলে আমাদের সন্দেহ ।’
জানা গেছে,সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েছিলেন মিতালিদেবী । এই খুনের ঘটনায় ওই টাকার লোভ নাকি কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়া সেটা তদন্ত করে দেখছে । সকালের দিকে জেলা পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা অকুস্থলে তদন্তে আসেন । খুনে ব্যবহৃত ইঁটের পাশাপাশি তারা বেশ কিছু নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যান । ইঁটে আঙুলের ছাপ চিহ্নিত করতে সেটি ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে । এখন খুনের কিনারা করতে ওই ইঁটটিই পুলিশের একমাত্র ক্লু ।।

