এইদিন ওয়েবডেস্ক,নয়াদিল্লি,১২ সেপ্টেম্বর : ১৮তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে গৃহীত ‘নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্রে’ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের (UNSC) স্থায়ী সদস্য হিসেবে ভারত ও ব্রাজিলের অন্তর্ভুক্তিকে চীন ও রাশিয়া পুনরায় সমর্থন জানিয়েছে—যার মাধ্যমে দেশ দুটি নিরাপত্তা পরিষদে আরও বড় ভূমিকা পালন করতে চায়। এই ঘোষণায় নিরাপত্তা পরিষদকে আরও গণতান্ত্রিক, প্রতিনিধিত্বমূলক ও কার্যকর করে তোলার লক্ষ্যে সংস্কারের আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর গুরুত্ব ও প্রভাব বৃদ্ধি পায়।উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই প্রথমবার মিশর, ইথিওপিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের মতো ব্রিকসের নতুন সদস্যরা এমন একটি নথিতে স্বাক্ষর করেছে যেখানে ভারত ও ব্রাজিলের নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে; অথচ এর আগে কাজান ও জোহানেসবার্গের সম্মেলনে তারা এ বিষয়ে সম্মতি দিতে বিরত ছিল।
এছাড়া,সম্প্রতি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ব্রিকস (BRICS) । ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে গৃহীত ‘নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্র’-এ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া আরোপিত একতরফা ও ‘সেকেন্ডারি’ (তৃতীয় পক্ষের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী) নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানানো হয়েছে। ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন। নেতারা এসব নিষেধাজ্ঞার বাস্তব প্রভাবের বিষয়টিও তুলে ধরেছেন—যার মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মানবাধিকার, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও উন্নয়নের ওপর নেতিবাচক প্রভাব। ব্রিকস এসব পদক্ষেপ সম্পূর্ণভাবে বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে এবং জোর দিয়ে বলেছে যে, একমাত্র জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদেরই এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের এখতিয়ার রয়েছে। উল্লেখ্য, এমন এক সময়ে এই অবস্থান নেওয়া হলো যখন ভারত প্রথমবারের মতো ব্রিকস সম্মেলনের আয়োজন করছে, আর ঠিক সেই মুহূর্তেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে তাদের শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা নীতি আরও সম্প্রসারিত করে চলেছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০২৬ সালের ব্রিকস সম্মেলনের কেন্দ্রবিন্দুতে বিশ্ব শাসনব্যবস্থার সংস্কারকে জোরালোয়তুলে ধরেন। দিল্লি সম্মেলনে তিনি সংস্কারের একটি ১০-দফা রূপরেখা পেশ করেন—যার মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের (UNSC) সংস্কার, বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জোরালো অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং ব্রিকসের সিদ্ধান্তগুলোর প্রকৃত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য একটি স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলা। তাঁর মূল বার্তাটি ছিল : ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা উন্নয়নশীল বিশ্ব প্রায়শই বৈশ্বিক সংকটের সম্মুখসারিতে থাকলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে থাকে একেবারে পেছনের সারিতে। ইরানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌ-চলাচল রুটে বিঘ্ন ঘটার প্রেক্ষাপটে মোদী ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর নাবিকদের জন্য একটি জরুরি সহায়তা ব্যবস্থা চালুরও প্রস্তাব দিয়েছেন।।
