এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১২ সেপ্টেম্বর : বিনা দোষে দীর্ঘ ২ বছর ধরে বাংলাদেশের কারাগারে বন্দি নিরীহ সন্নাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী । এদিকে মৃত্যুশজ্জায় ছেলের মুখটা একবার দেখার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে কাতর আবেদন জানিয়েছিলেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বৃদ্ধা মা সন্ধ্যা রানি ধর । কিন্তু ইসলামি মৌলবাদী সরকার সেই সুযোগ দেয়নি । অবশেষে বৃহস্পতিবার ভোরে চিন্ময় প্রভুর মা সন্ধ্যা রানি ধর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন । শেষ পর্যন্ত মাত্র ৫ ঘন্টার প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয় সন্নাসীকে । বিরাট নিরাপত্তা বাহিনী তাঁকে মায়ের অন্তেষ্টিক্রিয়ার জন্য আশ্রমে নিয়ে এলে নিজেকে আর স্থির রাখতে পারেননি চিন্ময় প্রভূ । মায়ের শবদেহ জড়িয়ে ধরে তার সেই মর্মভেদী হাহাকার গোটা বিশ্বের সংবেদনশীল মানুষের চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে গিয়েছিল । আজ শনিবার কলকাতার রাজারহাট-গোপালপুর বিধানসভার কেষ্টপুরে সিদ্ধিদাতা শ্রীশ্রী গণেশ পুজোর শুভ সূচনায় এসে চিন্ময় প্রভূর সেই সদ্য মাকে হারানোর কথা স্মরণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন,’ওপার বাংলার চিন্ময় প্রভুর চোখের জল গোটা পৃথিবীর সনাতনীদের হৃদয়ে নাড়িয়ে দিয়ে গেছে। আমি ওই চোখের জল দেখতে দেখতে ভাবছিলাম আমরা যদি সেদিন ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বা স্বামী প্রণবানন্দের লড়াইয়ের মাধ্যমে ভারতভুক্তি না পেতাম,তাহলে আজকে আমাদের অবস্থাও হয়তো চিন্ময় প্রভুর মতো হতো ।’
উল্লেখ্য,কংগ্রেস,সিপিএম আর তৃণমূল কংগ্রেস যখন দুর্গাপূজার সময় মাংস খাবে বলে আন্দোলন করছে, ঠিক সেই সময় বাংলাদেশের সদ্য মাতৃহারা ওই তরুন হিন্দু সন্নাসীর হাহাকারের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় । কিন্তু তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ ওই দলগুলি এনিয়ে একটা শব্দও ব্যয় করেনি । সনাতন সম্পর্কে সিপিএম আর তৃণমূল কংগ্রেসের মানসিকতার আজ তীব্র সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন,১৯৪৭ সালের ২০ জুন,পশ্চিমবঙ্গ হিসাবে বাঙালি হিন্দুদের হোমল্যান্ড তৈরির নেপথ্যে থাকা ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি ও স্বামী প্রণবানন্দের ভূমিকাকে ভুলিয়ে দিতে চেয়েছিল বামপন্থী আর তৃণমূল । বিগত ৪৯ বছর রাজত্ব করা বামপন্থীরা ধর্মকে আফিম বলত । আর ১৫ বছর যারা রাজত্বকরা দল পশ্চমবঙ্গকে গ্রেটার বাংলাদেশ বানাতে চেয়েছিল ।এই দুয়ের পরিবর্তন ঘটিয়ে প্রায় ৫০ বছর পরে এমন একটি সরকার তৈরি হয়েছে, যে সরকার বহুজন সুখায় বহুজন হিতায় নীতিতে বিশ্বাস করে । যে সরকার হিন্দুস্তানের যে ঐতিহ্য, বাঙালি হিন্দুর হোমল্যান্ড তৈরি করার জন্য শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী এবং স্বামী প্রণবানন্দের ভূমিকাকে যারা ভুলিয়ে দিতে চেয়েছিল, আমরা সেই ঐতিহ্য সেই সংস্কৃতি সেই পরম্পরা ফিরিয়ে আনতে চাই৷’।

