এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,১২ সেপ্টেম্বর : সৌদি আরবের প্রধান তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলা হয়েছে । ইরাক থেকে এই ড্রোন হামলা চালানো হয় । ফলে পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই হামলার পর পাইপলাইনটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। রিয়াধ ও মদিনা এলাকার পাইপলাইনগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জানা গেছে, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র বাহিনী ইরাক থেকে এই হামলা চালিয়েছে। পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ প্রভাবিত হবে। এই হামলার নিন্দা জানিয়ে ইরাক ইরানের সঙ্গে তার সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে রিয়াধ ও মদিনা এলাকায় পাইপলাইন লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়। সৌদি সরকার জানিয়েছে, এতে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ড ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই ঘটনায় বহু মানুষ আহত হয়েছে । যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনার কারণে পারস্য উপসাগর থেকে তেল রপ্তানি এড়াতে সৌদি আরব এই পাইপলাইনের ওপর নির্ভর করে আসছে। দৈনিক ৭০ লাখ ব্যারেল ধারণক্ষমতার এই পাইপলাইনটি সৌদি আরবের মধ্য দিয়ে লোহিত সাগরের রপ্তানি টার্মিনাল পর্যন্ত বিস্তৃত।
সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার পর পাইপলাইন সুরক্ষিত করতে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করতে জরুরি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। একই সময়ে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, সৌদি আরব আপাতত প্রতিশোধমূলক হামলা থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে ইরাকি সরকারকে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা থেকে হামলা প্রতিরোধের জন্য সময় দেওয়া যায়।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে চলতি সপ্তাহে কয়েক মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। তেলের দাম ৮ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে, ইরানপন্থী জঙ্গিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলা তীব্রতর করেছে। সৌদি সরকার জানিয়েছে, ইয়েমেনে জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে হুথি জঙ্গিদের হামলায় ৭০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। হুথিরা গত জুলাইয়ে বাব আল-মান্দাব প্রণালী দিয়ে সৌদি তেল রপ্তানি ব্যাহত করার জন্য একটি সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করেছিল, যা লোহিত সাগরকে বিশ্ব বাজারের সাথে সংযুক্ত করে।।

