ধর্মের ভিত্তিতে ভারত ভাগ হয় । ইসলামপ্রেমী গান্ধী আর নেহেরু মিলে ভারতের বাকি অংশকে ‘সেকুলার’ বানিয়ে দিলেন, দুই খন্ডিত অংশ পাকিস্তান আর বাংলাদেশ ইসলামি চরমপন্থাকে আদর্শ হিসাবে বেছে নেয় । আজ পাকিস্তান কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদীদের কারখানায় পর্যবসিত হয়েছে । পিছিয়ে নেই তার দোসর বাংলাদেশও । “মোল্লা” মহম্মদ ইউনূস যখন থেকে সেদেশের তদারকি সরকারের দায়িত্ব পেয়েছিল, তখন থেকেই উগ্র ইসলামি দলগুলি ১০০ শতাংশ মুসলিম রাষ্ট্র বানিয়ে দেশে খিলাফত প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে । আর তাদের এই পরিকল্পনায় সফট টার্গেট হচ্ছে সেদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুরা । বাংলাদেশে রোজ একের পর এক হিন্দুকে খুন করা হচ্ছে । নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হচ্ছে এক একটা পরিবারকে । গায়ের জোড়ে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে ভিটেমাটি ।
সঙ্গত কারনেই বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মানবতাবাদীরা এখন প্রশ্ন তুলেছেন । যদিও এই সমস্ত প্রশ্ন তোলা বাংলাদেশিরা আজ কেউ নিজের দেশে বসবাস করতে পারেন না । নিউইয়র্কে বসবাসরত এক অজ্ঞাত বাংলাদেশি ©️লুডিস ড্রিম নামে একটি ফেসবুক পেজে ইসলাম ও শান্তি নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন । তিনি বলেছেন : “আমাদের শেখানো হয়েছিল ইসলাম শান্তির ধর্ম! কিন্তু আসলেই কি তাই ?….আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ান।”
তার লেখাটি কুয়ালালামপুর প্রবাসী আসাদুজ্জামান আসাদ (https://www.facebook. com/share/1JYa3AY7k3/) ও বাংলাদেশের ফেনির বাসিন্দা মোরশেদা আখতার মিয়াজি(https://www. facebook.com/share/p/1SWRJWj4ey/) নিজের নিজের পেজে কপি পেস্ট করেছেন । লুডিস ড্রিম-এর উদ্ধৃতি দিয়ে লেখাটি নিচে হুবহু তুলে ধরা হল :
একটা মুসলমান পরিবারে আমার জন্ম হয়েছিল। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার জন্য আমি হুজুরেরও আগে মসজিদের দিকে দৌড়াতাম।এসবে অবদান ছিল আমার মায়ের, হুজুরের নয়। আমাদের পরিবার থেকেই আমরা ইসলামের শিক্ষা পেয়েছিলাম। আমাদের শেখানো হয়েছিল ইসলাম শান্তির ধর্ম! কিন্তু আসলেই কি তাই?
বাংলাদেশের নব্বই শতাংশ মুসলমানের উদ্দেশ্য বলবো , আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ান। নিজেদের বিবেককে প্রশ্ন করুন, আসলেই কি ইসলাম শান্তির ধর্ম?
ধর্মের নামে কারা মানুষের কল্লা কাটে? আজকের সভ্য পৃথিবীতে ধর্মের নাম দিয়ে জ্যান্ত মানুষ পুড়িয়ে হত্যা এসব কিসের আলামত?
বাংলাদেশের মোল্লারা ঘরে ঘরে গিয়ে আমাদের ইসলাম শিখায়নি। আমাদের মা আমাদের হাতে কোরআন শরীফ তুলে দিয়েছিল রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠেই তা পড়ার জন্য। নব্বইয়ের দশকে সাঈদী নামক একদল ভণ্ড মোল্লা ওয়াজের নামে নিজেদের পকেট ভর্তি করার রাজনীতি শুরু করে ধর্মটাকে ওদের পৈতৃক সম্পত্তি ও রাজনৈতিক ব্যবসা বানিয়ে ফেলেছে।এরাই আবার মরুভুমিতে উটের পাখনা লাগিয়ে চান্দের দেশ ঘুরে আসে , চাঁদের মধ্যে পর্যন্ত এদের ভণ্ডামি দেখা যায়, এমন ভণ্ডদের দেশে আমার জন্ম।
আমাদের মা – বাবা আমাদের কাউকে হত্যা না করার শিক্ষা দিয়েছেন, মিথ্যা না বলার শিক্ষা দিয়েছেন, চুরি না করার শিক্ষা দিয়েছেন।অথচ একদল ভণ্ড আল্লামা প্রকাশ্য মানুষ হত্যার উস্কানি দিচ্ছে, রাজনীতির নামে ওয়াজের মধ্যে মিথ্যার প্রচার করছে, মিথ্যাকে এরা শিল্প বানিয়ে ছেড়েছে।এসব ভণ্ডদের আমাদের দেশে কোন বিচার নেই, এমন অভিশপ্ত দেশ ও আইন একটি দেশের জন্য আর কি হতে পারে?
যেদিন একটা নিস্পাপ ছেলে, বাংলাদেশের রত্ন ও বিজ্ঞানী অভিজিৎ কে নির্মম ও নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো, সেদিন থেকে নামাজ, খোদা সব বিশ্বাস উঠে গেল। ধর্মের জন্য এমন নৃশংসভাবে মানুষ মানুষকে হত্যা করতে পারে? সেদিন থেকে আমি ইসলামের সব বই পড়তে শুরু করেছি।আমি তাপসীর করতে শুরু করেছি, ভণ্ড মোল্লাদের ভণ্ডামি বুঝতে পেরেছি। মানুষ হয়ে আমার বিবেকের ডাক শুনেছি।
একদিন আমার বাবা আমাকে বললো, ‘ তুমি মসজিদে যাওয়া বাদ দিলে কেন? আমি সেদিন পাল্টা প্রশ্ন করে বলেছিলাম, একজন মানুষ হয়ে জন্ম নিয়ে আপনি অভিজিৎ এর নৃশংস হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ করেছিলেন? এক এক করে ওয়াশিকুর বাবু , দীপ , নীলয়দের নির্মমভাবে হত্যা করলো মুসলমানরা। আপনারা যারা এসব হত্যার বিরুদ্ধে সেদিন চুপ ছিলেন, আপনারা নিজেদের মানুষ বলে ডাকার অধিকার সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলেছেন সেদিন থেকেই।
ঘুমের মধ্যেও আমি ‘ মুসলমান ‘ শব্দটা শুনল ভয়ে আঁতকে উঠতাম। ঘরের দরজা -জানালা সব বন্ধ করে রাখতাম। মা এসব দেখে চোখের জল ফেলতেন। মানুষ দেখলেই আমার ভয় করতো। উগ্রবাদী মুসলমানদের দেখলেই আমি ভয় পেতাম। সেদিন আমি সিদ্ধান্ত নেই আমি কখনো বিয়ে করবো না। আমি বিয়ে করলে ওরা আমার স্ত্রী ছোট ছোট বাচ্চাদের সামনে ‘ নারায়ে তাকবীর আল্লাহ আকবর ‘ বলে নিলয়ের মত আমাকেও মেরে ফেলবে।আমার সন্তানদের এতিম করে দিয়ে ওরা ‘ ইসলাম জিন্দাবাদ’ দিবে ।
২০১৩ সালেই দেশ ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।অথচ, এই দেশের মাটি, ফুল ও প্রকৃতির সাথে আমি মিশে ছিলাম। পাহাড় ও নদীর সাথে ছোট বেলা থেকেই আমার বন্ধুত্ব হয়েছিল। বয়সের সাথে সাথে সে সম্পর্ক অনেক গভীর হয়েছিল। এসব ছেড়ে বিমানে উঠতে আমার ভয়ানক কষ্ট হয়েছে। বিমানের জানালা দিয়ে বারবার প্রিয় মাতৃভূমির মাটি দেখছিলাম। মনের অজান্তেই আমি বিমানের মধ্যে কিছুক্ষণ পর পর বাচ্চা শিশুর মতো কেঁদে উঠছিলাম।
বিদেশের মাটিতে পা দিয়েই আমি ইসলামের ইতিহাস পড়া শুরু করলাম। খলিফাদের ৭ বিয়ে থেকে শুরু করে মোঘল সম্রাটের ১১ বিয়ে ও ৫৪ সন্তান এসব আর আমার অজানা রইলো না। মাওলানা মওদুদী ও হাসান আল বান্নার জঙ্গীবাদের বই পড়লাম। মানুষ যে বিবেক বিসর্জন দিয়ে পশু হতে পারে এসব বই না পড়লে আমার কখনোই জানা হতো না। আপনাদের শুধু ইসলামের ইতিহাসের বিজয়ের গল্প শেখানো হয়েছে।এর পেছনে এদের অপকর্ম, সন্ত্রাস , লুটপাটের গল্প সম্পূর্ণ আপনাদের কাছ থেকে আড়াল রাখা হয়েছে।এরা কখনোই নিজেদের কুকর্মের ইতিহাস কোথাও বলে না।এসব কুকর্মের গোমর ফাঁস করে দিলেই আপনি ইসলামের সবচেয়ে বড় শত্রু । এসবের থেকে হাস্যকর আর কি হতে পারে? এরাই সন্তান থাকে তার মাকে আলাদা করে। লিখাটা এখনও শেষ হয়নি।লিখতে লিখতে একপর্যায়ে নিজের গন্তব্যে পৌঁছাতে একটি যাত্রীবাহী বাসে উঠলাম। বসার আসন সংকটে নারী পুরুষ সারিবদ্ধভাবে বাসে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে যাচ্ছে। এখানে কোন নারীর সাথে পুরুষের গা লেগে নুনুভুতির ভাইরাস নেই।কোন নারীকে লক্ষ্য করে কেউ একটা বাজে কথাও বলেনি।বয়স্ক ও নারীদের জন্য ছেলে ও মেয়েরা নিজেদের আসন থেকে উঠে দাড়াচ্ছে।না, এখানে কেউ যাত্রীবাহী বাসে কোন হিন্দু , মুসলমান অথবা নাস্তিক হত্যার কথা বলছে না।গাড়ীতে কোন উগ্রবাদী ওয়াজের প্রচার হচ্ছে না। একটিবারের জন্যও আমার পকেটে হাত দিতে হয়নি। এখানে পকেটমারের তেমন ভয় নেই বললেই চলে। আমাদের দেশে ধার্মিকও বেশি , চোরও বেশি, নুনুভুতির ভাইরাস টাও দিন দিন বেড়েই চলছে। আমাদের মা ও বাবা আমাদের বয়স্ক মানুষ ও নারীদের সম্মানের শিক্ষা দিয়েছেন।বর্তমানে বাংলাদেশের জিহাদী যৌনতাকে নূনুভুতি ও জিহাদের ভাইরাসে ধরেছে। এদের ধ্বংস অনিবার্য।
গাড়ি থেকে নামতে গিয়েই আমার নৃশংসভাবে হত্যা করা বুয়েটের মেধাবী ছাত্র দীপের কথা মনে হলো। আবরার ফাহাদ ফেনী নদীর কবিতা লিখে বিখ্যাত হলেও দীপ হয়নি। বাংলাদেশে মানবতার কথা বললে মানুষ লাঞ্ছিত ও হত্যার শিকার হয়।তাই বাংলাদেশে গুণী মানুষের সম্মান নেয়। মৃত্যু হলেও দেশের এক টুকরো মাটি কপালে জুটেনি সত্তরের দশকে কবিতা লেখা দাউদ হায়দারের। এমন দেশে গো আযম, হাদী ও খালেদা জিয়ার জানাযা নিয়ে তো উল্লাস হবেই। যেই দেশে মৃত বাদল ভাইয়ের কবরে আগুন দেয়া হয় , মতিয়া চৌধুরীর লাশ দাফনে বাঁধা দেওয়া হয়, সেই দেশে ওয়াজ ও জানাযা এই দুটোই অন্যতম বড় ব্যবসা।
এসব নিয়ে আজ রাতে লিখবো। পারিবারিক ও নৈতিক শিক্ষার অভাবে বাংলাদেশের অধিকাংশ মুসলমান মানুষ হতে গিয়ে জিহাদী যৌনতা হয়ে গেছে।জানাযা ও ওয়াজ এদের কাছে ভণ্ডামি ও ধর্মীয় রাজনৈতিক ব্যাবসা ছাড়া আর কিছুই নয়।
কিন্তু কেন এই প্রশ্ন উঠছে ?
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম কয়েক মাসে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও হিন্দুদের ওপর হিংসার ঘটনায় শতাধিক খুন বা রহস্যজনক মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি থেকে জুন) ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৪৪ জন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন (৪০টি পৃথক ঘটনায়)।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনরিটিজ (HRCBM)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে (জানুয়ারি থেকে এপ্রিল) বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ৫০৫টি হিংসার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের ১০০টি খুন ও রহস্যজনক মৃত্যু রয়েছে। এই চার মাসে ৯৫টি মন্দিরে হামলা বা ভাঙচুর, ২৮টি যৌন হিংসা এবং ১৪৪টি অপহরণ ও শারীরিক আঘাতের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে হত্যাকাণ্ড ও রহস্যজনক মৃত্যু, শারীরিক নির্যাতন, অপহরণ, যৌন হিংসা, মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভূমি দখল, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, ভীতি প্রদর্শন এবং ধর্ম অবমাননা-সংক্রান্ত নিপীড়ন।
এই চার মাসব্যাপী তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদনটি বাংলাদেশে হিন্দু এবং অন্যান্য ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর চলমান মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে এইচআরসিবিএম-এর সাম্প্রতিকতম ও অন্যতম বিশদ নাগরিক সমাজ মূল্যায়ন তুলে ধরেছে।অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, নথিভুক্ত ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন বা কোনো নির্দিষ্ট স্থানের নয়, বরং এগুলো দেশজুড়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে প্রভাবিত করে এমন হিংসা, ভীতি প্রদর্শন, যৌন নিপীড়ন, ভূমি উচ্ছেদ, ধর্মীয় আক্রমণ, গণ-আক্রমণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষার ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তিমূলক ধারাকেই প্রতিফলিত করে ।।
দাবিত্যাগ : প্রতিবেদনটি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত মতামতের উপর ভিত্তি করে লেখা । এর সঙ্গে এইদিন-এর কোনো সম্পর্ক নেই । কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে নিশানা করার উদ্দেশ্যে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়নি । বরঞ্চ বাংলাদেশের বাস্তব চিত্র তুলে ধরাই একমাত্র উদ্দেশ্য ।

