এইদিন ওয়েবডেস্ক,মহারাষ্ট্র,১০ সেপ্টেম্বর : মুসলিম টিকটকারকে বাড়িতে আমন্ত্রণ এবং গরবা উদযাপনে মুসলিমদের অংশগ্রহণের পক্ষে সওয়াল করে নেটিজেনদের নিশানায় মহারাষ্ট্রের বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশের স্ত্রী অমৃতা ।অমৃতা ফড়নবীশ বলেছেন, উৎসব সকলের জন্য উন্মুক্ত এবং কোনো মুসলিম ব্যক্তি এতে অংশ নিলে তাতে কোনো ভুল নেই। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা নিতেশ রানে নবরাত্রির অনুষ্ঠান থেকে মুসলিমদের বাদ দেওয়ার বিশ্ব হিন্দু পরিষদের আহ্বানকে সমর্থন করেছেন। তিনি বলেন, নবরাত্রি ও গরবা মানুষকে হিন্দু ধর্মের এক ঝলক দেখানোর খুব ভালো উপায় এবং তিনি এর অনন্যতার সঙ্গে বিশ্বকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য,বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) গত সপ্তাহে ঘোষণা করেছে যে, আগামী ১১ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া নবরাত্রি উৎসব চলাকালীন রাজ্যজুড়ে ‘গরবা’ এবং ‘ডান্ডিয়া’র স্থানগুলিতে মুসলিমদের প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না ।
তবে অমৃতা ফড়নবীশ সাংবাদিকদের বলেন,’যদি কোনো মুসলিম ব্যক্তিও সেখানে এসে উৎসবটি ঠিকমতো উপভোগ করেন, তাহলে আমি এতে কোনো ভুল দেখি না।’ যদিও সোমবার পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিতেশ রানে ভিএইচপি-র অবস্থানকে সমর্থন করেন। তিনি বলেন, গরবা স্থলে প্রবেশকারী ব্যক্তিদের পরিচয় আয়োজকদের যাচাই করা উচিত। তিনি আরও পরামর্শ দেন যে, অংশগ্রহণকারীদের প্রবেশের আগে হনুমান চালিসা পাঠ করা উচিত।রানে বলেন,“যারা মূর্তি পূজা করেন না, তাদের হিন্দু ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা উচিত নয়। যারা গরবা করতে আসছেন, তাদের প্রবেশের অনুমতি পাওয়ার আগে পরিচয়পত্র দেখাতে হবে এবং হনুমান চালিসা পাঠ করতে হবে ।” তিনি অভিযোগ করেন যে এই ধরনের উৎসবের সময় ‘লাভ জিহাদ’-এর ঘটনা বেড়ে যায়। কিছু গোষ্ঠী এই শব্দটি ব্যবহার করে দাবি করে যে, মুসলিম পুরুষরা অন্য ধর্মের নারীদের ইসলামে ধর্মান্তরিত করার জন্য সম্পর্কের ফাঁদে ফেলে। রানে ধর্মীয় শোভাযাত্রায় ব্যবহৃত সাউন্ড সিস্টেমের জন্য অভিন্ন নিয়ম চালুরও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “গণেশ উৎসব উদযাপনের সময় যদি ডিজেদের অনুমতি না দেওয়া হয়, তাহলে ঈদের শোভাযাত্রার ক্ষেত্রেও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত।”
এদিকে অমৃতা ফড়নবীশের এই মন্তব্যে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে । রিয়াজ আলি(Riyaz Aly) নামে এক টিকটকারের একটি পোস্টের স্ক্রীন শর্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হয়েছে । যেখানে রিয়াজের সঙ্গে অমৃতাকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় ছবি তুলতে দেখা যাচ্ছে । একজন এক্স ব্যবহারকারী ওই স্ক্রীন শর্ট পোস্ট করে লিখেছেন,’দেবেন্দ্র ফড়নবীশ জি, আপনার স্ত্রী অমৃতা ফড়নভিস একজন মুসলিম টিকটকারকে বাড়িতে আমন্ত্রণ জানাতে চান তার সাথে নাচতে বা রিল বানাতে। এটা তার ইচ্ছা, এবং এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু এই অযৌক্তিক দাবিটি করবেন না যে মুসলিম ছেলেদেরও গরবাতে অংশ নেওয়া উচিত। যদি আপনার এতই আগ্রহ থাকে, তবে বাড়িতেই গরবা উদযাপন করুন এবং যতজনকে ইচ্ছা আমন্ত্রণ জানান। সমাজের উপর নিজের ব্যক্তিগত পছন্দ চাপিয়ে দেবেন না।’
আর একজন লিখেছেন,’তাহলে ম্যাডাম অমৃতা ফড়নভিস গরবাতে মুসলিমদের আসার পক্ষে ব্যাট করছেন। ওহ্ মহারাষ্ট্রের হিন্দুরা! দেব_ফড়নভিস, উপনির্বাচনে কী মারাত্মক ভুলটাই না করলেন আপনারা। ছিঃ ছিঃ।’
অন্য একজন এক্স ব্যবহারকারী( https://x.com/i/status/2097495833600249908) লিখেছেন,প্রিয় জাতীয়তাবাদী ভাই ও বোনেরা, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ ওরফে দেবা ভাউ-এর স্ত্রী শ্রীমতী অমৃতা ফড়নবীশ রাজ্যে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন! তিনি রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য এবং কট্টর হিন্দু নেতা শ্রী নীতীশ রানের একটি মন্তব্যকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন, যেখানে রানে বলেছিলেন, “আমাদের গরবা অনুষ্ঠানে মুসলমানদের যোগদানে বাধা দেওয়া উচিত।”
রানের মন্তব্যটি সঠিক ছিল, কারণ অল্পবয়সী মুসলিম ছেলেরা গরবা অনুষ্ঠানে এসে হিন্দু মেয়েদের উত্ত্যক্ত করে! শ্রীমতী ফড়নবীশের এই ধরনের মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকা উচিত!’
ভিএইচপির নির্দেশিকা জারি
ভিএইচপি নবরাত্রি অনুষ্ঠানের আয়োজকদের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের আধার কার্ড যাচাই করতে এবং কপালে তিলক পরিয়ে দিতে বলেছে। ভিএইচপি-র মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব শ্রীরাজ নায়ার এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। পিটিআই-এর উদ্ধৃতি দিয়ে নায়ার বলেন, “আমরা নবরাত্রি উৎসবে গরবা-ডান্ডিয়া নৃত্যে মুসলিমদের অংশগ্রহণের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নবরাত্রি শুধু গান ও নাচের উৎসব নয়। এই উৎসবটি দেবীর আরাধনার। মূর্তি পূজার বিরোধী মুসলমানরা কেন এই উৎসবে অংশ নেবে?” তিনি বলেন। নায়ার দাবি করেন, এই পদক্ষেপগুলো হিন্দু উৎসবের সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য রক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে এবং এগুলো কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়।।
দেবেন্দ্র ফড়নবীশের স্ত্রী অমৃতার এহেন মন্তব্য এবং বাগেশ্বর ধামের ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর”মাংস খাওয়া” মন্তব্যে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সমালোচনা একরাশ প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে । প্রশ্ন উঠছে যে হিন্দুত্বের উপর ভর করে বিজেপি কেন্দ্র ও একাধিক রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে,সেই কট্টর হিন্দুত্ব থেকে কি তারা আস্তে আস্তে সরে আসতে চাইছে ? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর “সবকা সাথ সবকা বিকাশ সবকা বিশ্বাস” শ্লোগান আদপে কি মুসলিম ভোটব্যাংক টানার কৌশল ?

