এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৭ সেপ্টেম্বর : বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের শাসনের দুটি ‘কুফল’ তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । প্রথমটা হল : বাল্যবিবাহ ৷ এবং দ্বিতীয়টা হল : ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের গর্ভবতী হওয়ার ঘটনা । দ্বিতীয় ক্ষেত্রটিকে “ভয়ংকর অবস্থা” বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যে,পয়লা জানুয়ারী ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত মাত্র ৬ মাসে এই ঘটনায় শীর্ষে আছে মুর্শিদাবাদ (১২৮৪৭)। দ্বিতীয় নম্বরে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, তৃতীয় পূর্ব বর্ধমান। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই দুটো বিষয়ে আমরা প্রথম স্থানে আছি। এটা পূর্ববর্তী সরকারের শাসনের কুফল ।’ সেই সাথে ‘বাল্য বিবাহ’ ও ‘১৮ বছরের নিচে সন্তান প্রসবের ঘটনায়’ রাজ্য জুড়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন,’সংখ্যা এতটাই বেশি যে এরাজ্যের জেলগুলিতে অত জায়গা নেই । তবে আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তুলে আনব’ ।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ সংক্রান্ত ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং পকসোর আওতায় কি কি শাস্তির বিধান রয়েছে সেটা ‘মনযোগ দিয়ে শোনার’ আহ্বান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন : পয়লা জানুয়ারী ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত এই ৬ মাসে ভয়ংকর অবস্থা । আমরা সুনির্দিষ্ট মামলা তো করবোই । থামাতে হবে তো । এখন যেমন দেখছেন পচা খাবারের বিরুদ্ধে অভিযান হচ্ছে । এই বাল্যবিবাহ নিয়েও আমরা আরও বড় আকারে নামব এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে তুলে আনবো । তার আগে আমি আইনটাকে ওরে শোনাচ্ছি :
১.বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন ২০০৬ : ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়ে এবং ২১ বছরের কম বয়সী ছেলে শিশু হিসেবে গণ্য । ১৮ বছরের বেশি কোনও ব্যক্তি বাল্যবিবাহ করলে, ২ বছর পর্যন্ত জেল, ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
২. কোনও পুরোহিত, কাজী, বাবা-মা, কোনও অভিভাবক বাল্যবিবাহের ব্যবস্থা করলে ২ বছর পর্যন্ত জেল, ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
৩. বাবা-মা, কোনও অভিভাবক বাল্যবিবাহে উৎসাহ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
৪. মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে নাবালিকা পকসো আইনের সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হয় না। ১৮ বছরের নীচে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে পকসোর ধারা ৩ ও ধারা ৪ অনুযায়ী যৌন হেনস্থার অপরাধ হয় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে। হতে পারে ১০ বছরের কারাদণ্ড। নাবালিকার বয়স ১৬-র কম হলে হতে পারে আজীবন কারাদণ্ডের শাস্তি।
৫. একাধিকবার যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে বা নাবালিকা গর্ভধারণ করলে ২০ বছরের জেল। আজীবন মৃত্যুদণ্ড জরিমানা।
৬. সন্তান প্রসব হলে পকসোর ধারা অনুযায়ী রিপোর্ট করা আবশ্যক।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, নাবালিকাদের স্বামীদের স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফ একটা শোকজ লেটার দেওয়া হচ্ছে । ছেলের বয়স ২১ এবং মেয়ের বয়স ১৮ প্রমাণ করতে হবে । প্রমাণ যদি না করতে পারে তাহলে বা ভারতীয় ন্যায় সংহিতার অধীনে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে । শোকজের পর সরকারি সমস্ত সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করে দেবো আমরা । কোনো ভাতা পাবে না । রাস্তায় গড়াগড়ি খেলেও পাবেনা । তার সঙ্গে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার অধীনে সুনির্দিষ্ট মামলা-নথিভূক্ত হবে ।।
