এইদিন ওয়েবডেস্ক,মহারাষ্ট্র,০৫ সেপ্টেম্বর : পণের দাবিতে শ্বশুরবাড়ির অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে মহারাষ্ট্রের দুর্গ থেকে দুই শিশুসন্তান সহ ঝাঁপ দিয়েছিলেন প্রাক্তন জাতীয় স্তরের কুস্তিগীর অশ্বিনী পোল (৩০) । বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মহারাষ্ট্রের ধারাশিব জেলার নালদুর্গ দুর্গ থেকে ঝাঁপ দেওয়ার পর দুই সন্তানসহ অশ্বিনীদেবী মারা গেছেন । দ্বিতীয় শিশুকন্যা আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন । উমার্গার হোয়ান্টালের বাসিন্দা ও শিক্ষক, অশ্বিনীর বাবা তানাজি শিবাজি মোহিতে (৫৪)-র অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ লাতুর জেলার নীলাঙ্গা তালুকের আম্বুলগার বাসিন্দা অশ্বিনীর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, যৌতুকের দাবিতে অত্যাচার এবং নিষ্ঠুরতার মামলা দায়ের করেছে।
পুলিশের ভাষ্যমতে, অশ্বিনীর স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও মাসশাশুড়ি যৌতুক নিয়ে তাকে হয়রানি করতেন। বিয়ের সময় যথেষ্ট যৌতুক না আনায় তাকে কটূক্তি করতেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, যমজ কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়ার পর অশ্বিনীকে মানসিক নির্যাতনেরও শিকার হতে হয়েছিল। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রবীন্দ্র গাইকওয়াড বলেন, ‘লাতুর জেলার নীলাঙ্গা তালুকের আম্বুলগা গ্রামের বাসিন্দা অশ্বিনীর স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি এবং মাসশাশুড়ি, বিয়ের সময় তার বাবা-মা যৌতুক হিসেবে কিছুই দেননি বলে তাকে হয়রানি করতেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যমজ কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়ার পরেও অশ্বিনীকে মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল।’
পুলিশ জানায়, তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে বাবা-মায়ের কাছ থেকে সোনার চুড়ি ও অটো কেনার জন্য টাকা জোগাড় করতে চাপ দিত। এক কর্মকর্তা বলেন, “এই হয়রানিতে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি তার তিন সন্তানকে নিয়ে নালদুর্গ দুর্গ থেকে ঝাঁপ দেন।” পুলিশ জানায়, অশ্বিনী মারাঠওয়াড়ার একজন কুস্তিগীর ছিলেন এবং রাজ্য ও জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় পাঁচটি স্বর্ণ ও ছয়টি রৌপ্য পদক জিতেছিলেন। প্রাক্তন কুস্তিগীর, কোচ এবং আন্তর্জাতিক রেফারি দীনেশ গুন্ড বলেন, “তিনি একজন সম্ভাবনাময় কুস্তিগীর ছিলেন এবং পদকও জিতেছিলেন।”
