এইদিন ওয়েবডেস্ক,বেলুচিস্তান,২৪ আগস্ট : পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের মাস্তুং এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটিয়েদখলদার পাকিস্তানি সেনার ৯ জন সদস্যকে নিকেশ করল বেলুচ যোদ্ধারা । রবিবার সকালে পাকিস্তানি সৈন্যদের একটি কনভয়ে বিস্ফোরণ ঘটানো হয় । যার ফলে ৯ জন সৈন্য নিহত এবং আরও ১২ জন আহত হয়েছে । প্রতিবেদন অনুসারে, বিস্ফোরণটি এতটাই জোরালো ছিল যে এর শব্দ বহুদূর পর্যন্ত শোনা গেছে।
এদিকে বেলুচিস্তান প্রজাতন্ত্রের মুখপাত্র মীর ইয়ার বেলুচ জানিয়েছেন,বেলুচিস্তান জুড়ে বর্তমানে বিদ্যমান পাকিস্তান-সম্পর্কিত নাম ও প্রতীকসমূহ অপসারণের মাধ্যমে বেলুচিস্তানের পরিচয় পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু হবে। রবিবার (২৩ আগস্ট, ২০২৬) তারিখে একটি বিবৃতিতে তিনি বলেছেন,
বেলুচিস্তান প্রজাতন্ত্র একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ এবং এই স্বাধীনতার ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল ১৯৪৭ সালের ১১ আগস্ট। এই ঐতিহাসিক ও জাতীয় অবস্থানের ধারাবাহিকতায় এবং এর সাথে সঙ্গতি রেখে এখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, বেলুচিস্তান জুড়ে রাস্তা, মহাসড়ক, হাসপাতাল, বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়ক, চত্বর এবং অন্যান্য স্থানের নাম পর্যালোচনা করা হবে, যেখানে এই ধরনের নামগুলো পাকিস্তান, ব্রিটেন বা পূর্ববর্তী বিদেশী শাসন ও দখলদারিত্বের পরিচয় বা প্রতীককে প্রতিনিধিত্ব করে বা প্রতিফলিত করে।
এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য শুধু নাম পরিবর্তন করা নয়, বরং বেলুচিস্তানের নিজস্ব ঐতিহাসিক পরিচয়, জাতীয় চরিত্র এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করা।
কোয়েটা এবং বেলুচিস্তানের অন্যান্য অংশে, জিন্নাহ রোড, ফাতিমা জিন্নাহ রোড, ইকবাল রোড এবং এই জাতীয় অন্যান্য নামগুলি পর্যায়ক্রমে বেলুচিস্তানের প্রাচীন ইতিহাস, ভূগোল, সংস্কৃতি, শহীদ, জাতীয় নেতা এবং ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের সাথে সম্পর্কিত নাম দ্বারা প্রতিস্থাপিত হবে। একই নীতি অনুসারে, হাসপাতাল, বিমানবন্দর, বিমান সংস্থা, বাঁধ, খনিজ প্রকল্প, গ্যাস ক্ষেত্র, তেল কূপ, সমুদ্রবন্দর, মহাসড়ক, পার্ক, ব্যাংক, রিসোর্ট, মল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি ভবন এবং জনস্থানগুলিরও নামকরণ বেলুচিস্তানের নিজস্ব জাতীয় পরিচয় এবং ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের সাথে সঙ্গতি রেখে করা হবে।
তিনি বলেছেন,বেলুচিস্তান প্রজাতন্ত্রের সুস্পষ্ট অবস্থান হলো, একটি স্বাধীন দেশের পরিচয় অবশ্যই একটি স্বাধীন পরিচয় হতে হবে। একটি জাতির স্বাধীনতার প্রকৃত চেতনা কোনো রাজনৈতিক ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি তার ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষা, প্রতীক, প্রতিষ্ঠান এবং জনজীবনে প্রতিফলিত হয়।
অতএব, বেলুচিস্তান তার ভূমি থেকে সেইসব সরকারি ও প্রকাশ্য প্রতীকসমূহ পর্যায়ক্রমে অপসারণ করার প্রক্রিয়া শুরু করবে, যেগুলো তার জাতীয় অবস্থান অনুসারে বহিরাগত শাসন, আধিপত্য বা রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রতিনিধিত্ব করে। এই প্রক্রিয়াটি কোনো জাতি বা তার জনগণের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয়; বরং এটিকে বেলুচিস্তানের নিজস্ব জাতীয় পরিচয়ের পুনরুদ্ধার হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
এই স্থানগুলোর নাম পরিবর্তন একটি বৃহত্তর প্রক্রিয়ার অংশ হবে, যার লক্ষ্য হলো বেলুচিস্তানের ঐতিহাসিক ঐতিহ্যে প্রত্যাবর্তন, নতুন প্রজন্মকে তাদের নিজস্ব ইতিহাসের সাথে পুনরায় সংযুক্ত করা এবং সরকারি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি স্বতন্ত্র স্থানীয় জাতীয় পরিচয় প্রদান করা।।
