বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর এলাকায় সরকারি প্রকল্পের টাকা বা অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ভাতা অ্যাকাউন্টে না ঢোকায় এক মধ্যবয়সী মহিলার অফিসের সামনে রাস্তায় কান্নাকাটির একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে সামনে এসেছে। মহিলাকে রাস্তায় বসে হাতে থাকা ব্যাগ বা ছাতা রাস্তায় চাপড়ে চাপড়ে রীতিমতো অভিশাপ দিতে শোনা যায় : “আমার কেউ নেই । আমার স্বামী অসুস্থ । হে ভগবান এর বিচার করো । আমরা এর পরিবর্তন চাই । এই সরকার আমরা রাখবো না ।” তার এই কর্মকাণ্ডের জেরে রাস্তায় লোকজন জড়ো হয়ে যায় । পরে কেউ একজন তাকে তুলে নিয়ে যায় । তাতেও মহিলা থামেননি। উঠে দাঁড়িয়ে রীতিমতো রাজনৈতিক নেতাদের কায়দায় “বন্দেমাতরম” শ্লোগান দিয়ে তাকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অনান্য মহিলাদের উদ্দেশ্যে বলতে শোনা যায় : “তোমরা সবাই এর প্রতিবাদ করো” ।
কিন্তু মহিলা নিজেকে যতটা দরিদ্র ও অসহায় হিসাবে উপস্থাপন করেছেন,ঠিক তার উলটো দাবি করা হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায় । মহিলার নাম প্রকাশ্যে না এনে নেটিজেনরা দাবি করছেন যে ওই মহিলা আদপে “তৃণমূলের মহিলা সেলের কর্মী” । এবং তার “ছেলে IIT, ভালো চাকরিকরে, 2 তলা বাড়ি, স্বামীর TV দোকান এবং CPM , নিজে তৃণমূল নেত্রী” ।
এই বিষয়ে ফেসবুকে লেখা একজন ব্যবহারকারীর প্রতিবেদনটি হল : “কলার মাইক গুঁজে যেভাবে আপনি অভিনয়টা করলেন, যেরকম স্টাইলে ঈশ্বরের নাম করে নতুন সরকারকে অভিশাপ দিলেন সেই অভিনয়ের জন্য ৩০০০ টাকা নয় আপনার তো অস্কার পাওয়া উচিত ।গলায়, হাতে সোনাও পর্যাপ্ত পরিমাণে আছে । তাছাড়া আপনাকে দেখে তো মনে হচ্ছে বয়স ৬০+ (যদিও প্রকৃত বয়স অজানা)। ৬০+ হলে আপনি বয়ষ্ক ভাতা পাওয়ার জন্য আবেদন করুন, অন্নপূর্ণা যোজনা নয়।”
এরপর লেখা হয়েছে,”এবার আসি ওনার পরিচয় দিতে। এই মহিলার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার । মাল্লেস্বরে রঘুর চাটের দোকানের কাছে উনার দোতালা বাড়ি আছে। ওনার স্বামী একজন নামকরা শিল্পী ছিলেন । এমনকি তিনি রাষ্ট্রপতি পুরস্কারও পেয়েছিলেন। এর আগে ছেলের জন্মদিন পালন করেছিলেন মদনমোহন রেস্ট হাউস ভাড়া নিয়ে। সেই সময়ের MLA তন্ময় ঘোষ থেকে শুরু করে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এমনকি তৃণমূলের বড় বড় নেতাকে ইনভাইট করেছিলেন। তিনি একজন তৃণমূলের সদস্য এটা সবাই জানে ।”
এরপর তিনি সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানিয়ে লিখেছেন,”আমি বিষ্ণুপুরের বুদ্ধিজীবী মানুষদের উদ্দেশ্যে বলছি, আপনারা দেখবেন যাতে ঐ মহিলার প্রকৃত উদ্দেশ্য সকলের সামনে আসে। আর সচ্ছল পরিবারের ইঞ্জিনিয়ার ছেলে তার মায়ের প্রতি ঠিক ঠাক দায়িত্ব পালন করছেন কিনা সেটাও খতিয়ে দেখবেন। কারণ একজন ইঞ্জিনিয়ার ছেলের মায়ের এরকম আচরণ সভ্য সমাজে শোভা পায় না ।লেখাটি সংগৃহীত।”
এই প্রতিবেদনের কমেন্ট সেকশনে একজন লিখেছেন,”বিষ্ণুপুর BDO অফিসের সামনে নিজের ছাতা ভেঙ্গে কান্নার অভিনয় করে বিক্ষোভ দেখানো এই মহিলা তৃণমূলের মহিলা সেলের কর্মী। এদের নিজেদের দোতলা পাকা বাড়ি, স্বামীর TV বিক্রির দোকান এবং স্বামী কমিউনিস্ট CPIM সদস্য, বাড়ির নীচে দুইঘর ভাড়াটিয়া, ছেলে ইঞ্জিনিয়ার এবং কলকাতার একটি বড় বেসরকারি সংস্থার কর্মী। গতকাল রাতে নথি পরীক্ষার পর দেখা গেছে, ইনি পর পর দু’মাস অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেয়েছেন ওনার পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে। এবার কী এনার অন্নপূর্ণার টাকা বন্ধ হওয়ার দরকার?লেখাটা সংগৃহীত ।”
যদিও সোশ্যাল মিডিয়ার এই সমস্ত দাবি যাচাই করেনি এইদিন । মহিলার পরিচয়ও প্রকাশ্যে আনা হয়নি । তবে নেটিজেনরা মহিলার আর্থিক সঙ্গতির কথা বিবেচনা করে তার অন্নপূর্ণা যোজনার অনুদান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন ।।
