এইদিন ওয়েবডেস্ক,উত্তর ২৪ পরগণা,১৪ আগস্ট : আরজি করের ‘অভয়া’র মৃতদেহ তড়িঘড়ি দাহ করায় অন্যতম মূল অভিযুক্ত উত্তর ২৪ পরগণা জেলার পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ । এফআইআর দায়ের হতেই তিনি উড়িষ্যায় গাঢাকা দেন । আত্মগোপন করেছিলেন বালেশ্বরের সিমুলিয়া থানার একটি হোটেলে । বৃহস্পতিবার সেখানেই তাকে পাকড়াও করে পুলিশ । রাতেই আনা হয় খড়দহ থানায় । আজ শুক্রবার সকালে থানার ক্যান্টিনের এক কর্মীকে দেখতে পেয়ে আদা দেওয়া দুধ চা চান নির্মল। একটা বিস্কুটও চান তিনি। মেটানো হয় সেই আবদারও । চা-পান পর্ব মিটতেই ডিম টোস্ট, বাটার টোস্ট আর ঘুগনি দিয়ে ব্রেকফাস্ট সারেন । তারপর শুরু হয় আদালতে নিয়ে যাওয়ার তোড়জোড় । এদিকে থানার সামনে তখন প্রচুর ভিড় । নির্মলের গ্রেপ্তারিতে ডিজে বাজিয়ে অনেককে নাচতেও দেখা যায়। অঘটন যে ঘটতে পারে, তা আগেভাগেই টের পেয়েছিলেন পুলিশকর্মীরা। সেইমতো থানা থেকে বের করার সময় নির্মলের জন্য বাড়তি নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হয়। বাইরে আনা হয় হেলমেট পরিয়ে৷ তবে তাতেও কাজ হয়নি । প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ককে ডিম হামলার শিকার হতে হয়। খেতে হল চড়, লাথিও ।
গত ৯ আগস্ট অভয়ার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে পানিহাটিতে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ওই মঞ্চে দাঁড়িয়ে অভয়ার মৃত্যুর ঘটনায় পুনর্তদন্তের নির্দেশ দেন। ওই রাতে শ্মশানঘাটে কী হয়েছিল, বারাকপুরের সিপিকে সে তদন্ত করার নির্দেশও দেন তিনি। নির্মল ঘোষ, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় এবং সোমনাথ দে-র বিরুদ্ধে তদন্ত করার কথা বলেন। সেই মতো এফআইআর দায়ের করেন অভয়ার বাবা। তার অভিযোগের দু’দিন পরই ওড়িশা থেকে গ্রেপ্তার হন নির্মল ঘোষ।
তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট পুলিশ ও স্বাস্থ্য দফতরের শীর্ষকর্তাদের উপস্থিতিতেই তড়িঘড়ি নিহত তরুণী চিকিৎসকের মৃতদেহ হাসপাতাল থেকে বের করে নিয়ে গিয়ে সৎকার করা হয়েছিল। এই গোটা প্রক্রিয়ার নেপথ্যে তৎকালীন বিধায়ক নির্মল ঘোষের সরাসরি হাত ছিল বলেই অভিযোগ। আর জি কর আন্দোলনের অন্যতম মুখ অনিকেত মাহাতো বলেন, “আমরা প্রথম থেকেই বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের কথা বলে আসছি। সেদিন যখন অভয়ার দেহ বের করে নেওয়া হচ্ছিল, তখন কলেজ চত্বরে বিনীত গোয়েল, অ্যাডিশনাল সিপি, ডিসি নর্থ সহ পুলিশের অসংখ্য কর্তা, স্বাস্থ্যভবনের আধিকারিক এবং তৃণমূল ছাত্রনেতারা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ ও স্বাস্থ্যকর্তাদের উপস্থিতি সত্ত্বেও কীভাবে নির্মল ঘোষ নিজে থেকে দেহ তাড়াতাড়ি বের করে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন? এটা থেকেই পরিষ্কার যে এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে।” সিবিআইয়ের সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটেও এই প্রমাণ লোপাটের বিষয়টি স্পষ্ট করা উচিত বলে দাবি করেছেন তিনি।।
