এইদিন ওয়েবডেস্ক,মুর্শিদাবাদ,০৮ আগস্ট : মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের কংগ্রেস প্রার্থী মহম্মদ আজাহারউদ্দিনের এজেন্ট উদ্দীপন দাসের সঙ্গে বিয়ের পর এই প্রথম ফেসবুক লাইভে এলেন বিজেপির প্রাক্তন প্রার্থী অনামিকা ঘোষ । লাইভে এসে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আমি বিয়ে করেছি” । পাশাপাশি তিনি উদ্দীপনের স্ত্রী পূর্ণিমা দাসের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দিলেন। শুধু তাইই নয়,অনামিকা ঘোষ সাংবাদিকদেরও পরামর্শ দিয়েছেন, ‘কারোর অভিযোগের ভিত্তিতে খবর না করে দেশের কাজে লাগে এমন খবর করুন ।’
অনামিকা ঘোষ বলেছেন,’হ্যাঁ,আমি ৭-৮ দিন আগে বিয়ে করেছি৷ বিয়ের পরে পরেই আমার যেখানে যেখানে জানানো জানিয়েছি । কিন্তু কিছু টিএমসি- এর আইটি সেল আছে,যারা নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে৷ তাদেরকেই আমি বলতে চাই, এমন নয় যে আমি লুকিয়ে লুকিয়ে বিয়ে করেছি । এবং যেখানে যেখানে জানানোর জানিয়েছি ।’
এরপর তিনি পূর্ণিমা দাসের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘যে মহিলা সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে,তাকে বলতে চাই আইনের পথ খোলা আছে । আইনের রাস্তায় হাঁটুন । কারন আমি আপনার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে চলেছি ।’ সেই সাথে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন,’সব কিছুতেই রাজনীতি খুঁজবেন না । কারোর অভিযোগের ভিত্তিতে যদি এই রকম সংবাদ পরিবেশন করেন… এমন বহু খবর থাকে যেগুলো দেশ ও দশের উপকারে লাগবে, সেগুলো পরিবেশন করুন ।’
উল্লেখ্য,গতকাল উদ্দীপনের স্ত্রী পূর্ণিমা দাস ফেসবুক লাইভে এসে মূলত তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধেই অভিযোগ তুলেছিলেন । তাঁর অভিযোগ, বিধানসভা নির্বাচনের সময় থেকেই তাঁর স্বামীর সঙ্গে বিজেপির প্রাক্তন প্রার্থী অনামিকা ঘোষের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। প্রতিবাদ করায় তাঁকে মারধর করা হয় এবং পরে দুই সন্তানকে নিয়ে বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় । তাঁর আরও অভিযোগ, পরে তাঁর স্বামী বিজেপি নেত্রী অনামিকা ঘোষকে বেআইনিভাবে বিয়ে করেছেন। বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ জানিয়েও কোনও সুরাহা না মেলায় তিনি বাধ্য হয়েই সোশাল মিডিয়ায় বিষয়টি পোস্ট করে মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপির রাজ্য সভাপতির কাছে বিচার চেয়ছেন। ভিডিওটিতে পূর্ণিমাকে বলতে শোনা যায়, ‘বিধানসভা নির্বাচনের সময় ওদের সম্পর্কের শুরু। প্রতিবাদ করলে আমার স্বামী মারধর করেন। দুই ছোট ছেলেকে নিয়ে বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। সেখানেই আছি। হঠাৎ জানতে পারি ২৭ জুলাই ওরা বিয়ে করেন। সমস্ত জায়গায় বিচারের দাবিতে আবেদন করেও বিচার মেলেনি। শেষ আশা নিয়ে তাই সমাজমাধ্যমে এই ভিডিও পোস্ট ।’
পূর্ণিমাদেবী তার বক্তব্যের কোথাও বিজেপি নেত্রী অনামিকা ঘোষের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেননি । তাই কিসের ভিত্তিতে পূর্ণিমাদেবী বিরুদ্ধে অনামিকা ঘোষ মামলা করতে চলেছেন, সেটা স্পষ্ট নয় । তবে যেটা জানা যাচ্ছে যে উদ্দীপন দাস ও পূর্ণিমা দাসের একটি ১০ বছরের মেয়ে ও ৬ বছরের ছেল রয়েছে৷ তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কাছে বিচারের আবেদন জানিয়ে বলেছিলেন,’কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আমাদের তিনজনকে মরা ছাড়া কোনো উপায় নেই ।’ একথা বলে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন ।।
