এইদিন ওয়েবডেস্ক,ত্রিপুরা,২৮ জুলাই : প্রলোভন দেখিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবতীর সঙ্গে সহবাস করেছিল প্রতিবেশী বৃদ্ধ ও তার বাবা । তরুনী বর্তমানে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা । কিন্তু গর্ভস্থ সন্তান কার ? এই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজে পাচ্ছেই না ওই তরুনী । এই চাঞ্চল্যকর ও অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে ত্রিপুরার উনকোটি জেলার কৈলাসহরের ভগবাননগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় । ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ।
জানা গেছে, নির্যাতিতা যুবতী কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন। পূর্বের বিবাহবিচ্ছেদের পর নিজের ৭ বছরের সন্তানকে নিয়ে ভগবাননগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় বাপের বাড়িতেই থাকেন তিনি । কিছুটা পাশেই বসবাস করে ৭০ বছর বয়সী কান্ত দাস । তাকে জেঠু বলে ডাকতেন ওই যুবতী। অভিযোগ, এই সম্পর্কের সুযোগ নিয়েই বৃদ্ধ কান্ত দাস নানা প্রলোভন দেখিয়ে ওই যুবতীকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যেত। বাড়ির রান্নাঘরেই তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করত । শুধু কান্ত দাসই নন, অভিযোগের আঙুল উঠেছে তার বিবাহিত ছেলে গৌতম দাস ওরফে কাজলের দিকেও। পরিবার ও স্ত্রীর চোখের আড়ালে গৌতমও ওই যুবতীর ওপর শারীরিক সম্পর্ক করত বলে অভিযোগ । ঘটনা চেপে রাখতে অভিযুক্ত পিতা-পুত্র যুবতীকে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেখায় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্প্রতি যুবতীর শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেওয়ায় পরিবার তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়। শারীরিক পরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, ওই যুবতী বর্তমানে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এই তথ্য সামনে আসতেই মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে নির্যাতিতার পরিবারের। সন্তান কার—বাবা না ছেলের ? এই নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম ধোঁয়াশা ।
ঘটনার চরম সত্য সামনে আসতেই আর দেরি করেনি পরিবার। গত রবিবার বিকেলে কৈলাসহর মহিলা থানায় অভিযুক্ত কান্ত দাস ও তার ছেলে গৌতম দাস ওরফে কাজলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতার বাবা। অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কৈলাসহর মহিলা থানার পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে ডিএনএ পরীক্ষাও করা হতে পারে । এখন দেখার, পুলিশি তদন্তে এই জঘন্য অপরাধের পেছনের আসল সত্য কীভাবে সামনে আসে এবং অভিযুক্তরা কীভাবে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়ায় ।।
