এইদিন ওয়েবডেস্ক,কাটোয়া(পূর্ব বর্ধমান),২৪ জুলাই : নিজেদের প্রয়োজনে আদালতে এসেছিলেন এক দম্পতি । স্বামী কাজে ব্যস্ত থাকলে আদালত চত্বরে অপেক্ষা করছিলেন বধূ৷ সেই সময় হাতে লাল-হলুদ তাগা বাঁধা এক ভিন সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি বধূর পিছু নেয় । বধূকে সে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে বলে অভিযোগ । ক্ষিপ্ত হয়ে বধূ ওই ব্যক্তির জামার কলার ধরে জুতোপেটা করেন । বধূর সঙ্গে যোগ দেন তার স্বামীও । ঘটনাটি ঘটেছে আজ শুক্রবার দুপুরে পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া মহকুমা আদালত চত্বরে । পরে আদালতের নিরাপত্তারক্ষীরা অভিযুক্ত ইভটিজারকে ধরে কাটোয়া থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয় । পুলিশ জানিয়েছে,অভিযুক্তের নাম কেবির হোসেন সেখ । তার বাড়ি কাটোয়া থানার লোহাপোতা গ্রামে । গৃহবধূ জবা ঘোষ এনিয়ে কেবির হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ।
জানা গেছে,আজ দুপুরে নয়নদেবী এবং স্বামী রাজেশ নন্দীর সঙ্গে কাটোয়া মহকুমা আদালতে এসেছিলেন জবা ঘোষ । তারা তিনজন মহকুমাশাসকের কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেই সময় তাদের পাশেই অকারণ ঘুর ঘুর করছিল লোহাপোতা গ্রামের বাসিন্দা কেবির হোসেন সেখ । অভিযোগ, ভিড়ের মাঝে সকলে যখন যে যার কাজে ব্যস্ত ছিলেন সেই সুযোগে জবাদেবীকে দেখে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করতে থাকে কেবির হোসেন । জবাদেবী বলেন,’অনেকক্ষণ ধরেই লক্ষ্য করি যে ওই ব্যক্তি আমার পিছু নিয়েছে । অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করছিল । একবার ওকে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘ভাই , আপনার কি সমস্যা? আপনি কি আমাকে চেনেন?’ কিন্তু ওই ব্যক্তি কোনো উত্তর না দিয়ে হেসে দেয় । এই প্রকার ঘৃণ্য আচরণের জন্য ওই ব্যক্তিকে আমি জুতোপেটা করতে বাধ্য হয়েছি ।’
আদালতে আগত সকলে যখন নিজের নিজের কাজে ব্যস্ত সেই সময় হঠাৎ জবাদেবীকে দেখা যায় চরম উত্তেজিত হয়ে কেবির হোসেন সেখ নামে ওই ব্যক্তির জামার কলার ধরে নিজের পা থেলে জুতো খুলে এলোপাতাড়ি পেটাচ্ছে । স্ত্রীকে এই অবস্থায় দেখে ছুটে আসেন রাজেশ নন্দী । তিনিও ওই ইভটিজারকে ধরে চড় থাপ্পর দিতে শুরু করেন। এই প্রকার উত্তেজনাকর অবস্থায় প্রচুর লোকজন জড়ো হয়ে যায় সেখানে ৷ এরপর আদালত চত্বরে দায়িত্বে থাকা পুলিশ ও মহিলা পুলিশ কর্মীরা এসে পরিস্থিতি আয়ত্তে আনেন। পরে কাটোয়া থানার পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যায়। থানায় নিয়ে যাওয়া হয় জবাদেবীর স্বামীকেও। যদিও ইভটিজিং এর অভিযোগ অস্বীকার করেছে অভিযুক্ত ।
জবাদেবীর বলেন, ‘আমার জায়গায় অন্য কোনও মহিলা থাকলে এটাই করতেন।’ বধূর এই প্রকার সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা ।।
