এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২২ জুলাই : আজ বুধবার বিধানসভার বাজেট অধিবেশন চলাকালীন ‘নতুন তৃণমূল’ শিবিরের মুখ্যসচেতক আখরুজ্জামানের সঙ্গে তুমুল বাকবিতণ্ডায় জড়ান’ কালীঘাট তৃণমূল’ শিবিরের কুণাল ঘোষ । স্পিকার রথীন্দ্র বসু কুণালকে বারবার নিজের আসনে বসার আবেদন জানালেও কোনো কাজ হয়নি । শেষে মার্শাল ডেকে কুণালকে অধিবেশনকক্ষ থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে দেওয়া হয় । এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানালেন মমতা ব্যানার্জি ।
তিনি এই ঘটনা প্রসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্ট করেছেন । মমতা লিখেছেন,’আজ বিধানসভার মধ্যে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক কুণাল ঘোষের কন্ঠরোধের চেষ্টায় যে বর্বরোচিত আচরণ করা হল, তার তীব্র নিন্দা করছি। একজন বিধায়কের কথা বন্ধ করতে তাকে শারীরিক নিগ্রহ করা হল, মার্শাল দিয়ে বার করে সাসপেন্ড করা হল। নিজেদের বি-টিমকে সামনে রেখে এই চক্রান্ত সরকার পক্ষেরই। আমাদের বিধায়করা এর প্রতিবাদে ওয়াকআউট করেন।’
মমতার অভিযোগ,’বিধানসভায় কুণালকে বলতে দেওয়া হচ্ছে না। গুন্ডাদমন বিল থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্র বাজেট, আমাদের দল এতে বক্তা হিসেবে কুণালের নাম দিয়েছিল। কিন্তু স্পিকারের অনৈতিকভাবে নিয়োগ করা বিরোধী মুখ্যসচেতক কুণালের নাম বাদ দিচ্ছে। সরকারপক্ষ চাইছে না গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রকৃত বিরোধী কন্ঠ বলুক। ওরা নিজেদের বি-টিম দিয়ে সাজানো বিরোধী অংশ থেকে নির্বিষ ভাষণ চায়। আজ কুণাল পুলিশবাজেটে চলতি পুলিশরাজ ও সন্ত্রাস নিয়ে বলতে তৈরি ছিল। তাই বিজেপি ও বিজেপির দালালদের চক্রান্তে ওর নাম কাটা হল।’
তিনি দাবি করেছেন,’যে নাম কেটেছে, সে নিজেই যখন সরকারকে খুশি করা ভাষণ দিতে যায়, সেই বিতর্কিত ও সরকারপোষিত বিরোধী মুখ্যসচেতককে কুণাল তখন প্রতিবাদ করে বলে,” আমাকে বলতে দেওয়া হচ্ছে না কেন?” তারপরই কুণালের উপর দমনপীড়ন চলে। আমরা এর নিন্দা করছি। বিধানসভার মধ্যে বিধায়ক যদি আক্রান্ত হয়, তাহলে গোটা বাংলায় কীভাবে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা হচ্ছে, সেটা স্পষ্ট। এসব করে তৃণমূল কংগ্রেসকে থামিয়ে রাখা যাবে না।’
আসলে,আজ স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বাজেট নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছিল। বিধায়করা একে একে বক্তব্য দিচ্ছিলেন৷ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় পন্থী তৃণমূলে যোগ দেওয়া বিধায়ক আখরুজ্জামান বক্তব্য দেওয়ার জন্য চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াতেই বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ তার দিকে তেড়ে আসেন । চলে তুমুল বাকবিতণ্ডা । সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করতে উঠেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাতে হইচই আরও বেড়ে যায় । ঘটনার প্রতিবাদ করেন বিদ্রোহী তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক পাশাপাশি বিজেপির মন্ত্রীরা। ওয়েলে নেমে প্রতিবাদ করেন মন্ত্রী শংকর ঘোষ, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়রা।স্পিকার রথীন্দ্র বসু কুণালকে বারবার নিজের আসনে গিয়ে বসার নির্দেশ দেন। কিন্তু সেই সতর্কবার্তায় কর্ণপাত করেননি কুণাল । বাকবিতণ্ডা
বাড়লে, এক সময় কুণালকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেন স্পিকার । স্পিকারের নির্দেশে বিধানসভার কক্ষের মধ্যেই মার্শালরা তাকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করলে কুণাল মেঝেতে উলটে পড়ে যান। শেষে তাকে চ্যাংদোলা করে বের করে দেওয়া হয় । সেই সময় মার্শালদের সাহায্য করতে দেখা যায় ঋতব্রত পন্থী কয়েকজন বিধায়ককে । কালীঘাট শিবিরের বিধায়কদের অভিযোগ ছিল, বক্তার তালিকায় তাঁদের নাম কেটে দিয়ে পক্ষপাতিত্ব করা হচ্ছে। অন্যদিকে শাসক শিবিরের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ।।
