এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২২ জুলাই : আজ বুধবার বিধানসভার বাজেট অধিবেশন চলাকালীন ‘কালীঘাট তৃণমূল’ বনাম ‘নতুন তৃণমূল’-এর সংঘাত চরম আকার ধারন করল। ঋতব্রত ব্যানার্জি শিবিরের মুখ্যসচেতক আখরুজ্জামানের সঙ্গে তুমুল বাকবিতণ্ডায় জড়ান কালীঘাট শিবিরের কুণাল ঘোষ । স্পিকার রথীন্দ্র বসু তাকে বারবার নিজের আসনে বসার আবেদন জানালেও কোনো কাজ হয়নি । শেষে মার্শাল ডেকে কুণালকে অধিবেশনকক্ষ থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে দেওয়া হয় । এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে কক্ষত্যাগ (ওয়াকআউট) করেন কালীঘাট শিবিরের অন্যান্য বিধায়করাও। পরে শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় কুণালকে এই অধিবেশনের পুরো সময়ের জন্য সাসপেন্ড করার প্রস্তাব দেন। তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান যে, যাতে অনর্থক সে প্রচারের আলোয় না আসে সেজন্য আজকের দিনের জন্যই যেন তাঁকে সাসপেন্ড করা হয় । শেষ পর্যন্ত একদিনের জন্য কুণালকে সাসপেন্ড করে দেন স্পিকার ।
কেন এত উত্তেজিত হলেন কুণাল ঘোষ?
বিধানসভা গঠন হওয়ার পর থেকেই দুই তৃণমূলের সংঘাত বারবার সামনে এসেছে। কিন্তু আজ দুই তৃণমূল কংগ্রেসের নজিরবিহীন দ্বৈরথে তুলকালাম কান্ড বেধে যায় । আসলে,আজ স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বাজেট নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছিল। বিধায়করা একে একে বক্তব্য দিচ্ছিলেন৷ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় পন্থী তৃণমূলে যোগ দেওয়া বিধায়ক আখরুজ্জামান বক্তব্য দেওয়ার জন্য চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াতেই বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ তার দিকে আসেন । চলে তুমুল বাকবিতণ্ডা । সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করতে উঠেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই হইচইয়ের সূত্রপাত। ঘটনার প্রতিবাদ করেন বিদ্রোহী তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক পাশাপাশি বিজেপির মন্ত্রীরা। ওয়েলে নেমে প্রতিবাদ করেন মন্ত্রী শংকর ঘোষ, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়রা।স্পিকার রথীন্দ্র বসু কুণালকে বারবার নিজের আসনে গিয়ে বসার নির্দেশ দেন। কিন্তু সেই সতর্কবার্তায় কর্ণপাত করেননি কুণাল । বাকবিতণ্ডা
বাড়লে, এক সময় কুণালকে বের করে দিতে বলেন স্পিকার । স্পিকারের নির্দেশে বিধানসভার কক্ষের মধ্যেই মার্শালরা তাকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করলে কুণাল মেঝেতে উলটে পড়ে যান। শেষে তাকে চ্যাংদোলা করে বের করে দেওয়া হয় । সেই সময় মার্শালদের সাহায্য করতে দেখা যায় ঋতব্রত পন্থী কয়েকজন বিধায়ককে । কালীঘাট শিবিরের বিধায়কদের অভিযোগ ছিল, বক্তার তালিকায় তাঁদের নাম কেটে দিয়ে পক্ষপাতিত্ব করা হচ্ছে। অন্যদিকে শাসক শিবিরের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবাদ অনেক রকম হয়। এখানে ৭-৮ বারের বিধায়করাও আছেন। এরকম অসভ্যতামি আগে দেখিনি। আখরুজ্জামান সাহেব অনেক দিনের বিধায়ক, প্রাক্তন মন্ত্রী। ওনার বাবা হবিবুর রহমান সাহেব মুর্শিদাবাদ জেলার অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় একজন ব্যক্তি। আজকে যেভাবে মমতাপন্থী তৃণমূলের সদস্য তাঁকে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করতে এগিয়ে গিয়েছিলেন আমি মুখ্যমন্ত্রী এবং বিধানসভার দলনেতা হিসেবে তীব্র নিন্দা করছি।’ শেষ পর্যন্ত ধ্বনি ভোটে একদিনের জন্য কুণাল ঘোষকে সাসপেন্ড করা হয় ।।
