ভগবান শিব ও হিংলাজ মাতার শ্রদ্ধায় গান রচনা করল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দ্বারা অত্যাচারিত দ্য রিপাবলিক অফ বেলুচিস্তান । গানটি এক্স-এ পোস্ট করে নতুন ঘোষিত দেশটির মুখপাত্র মির ইয়ার বেলুচ এক্স-এ লিখেছেন,বেলুচিস্তান প্রজাতন্ত্র এবং ভারত প্রজাতন্ত্র—উভয়ই সভ্যতার প্রাচীন পীঠস্থান। এমন একটি গান যা হৃদয় ছুঁয়ে যায় এবং বেলুচিস্তানে জ্ঞানালোক, মানবতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার চেতনাকে তুলে ধরে। বেলুচিস্তান প্রজাতন্ত্র এমন এক ভূখণ্ড যেখানে মন্দির ও মসজিদ ঘৃণার প্রতীক নয়, বরং প্রেম, শ্রদ্ধা ও পারস্পরিক আস্থার দুটি বলিষ্ঠ স্তম্ভ। বেলুচ জনগণ সর্বদা এই শিক্ষাই দিয়েছে যে, উপাসনালয় ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু মানবতা অভিন্ন।
বেলুচিস্তান কেবল নিজেদের স্বাধীনতার জন্যই সংগ্রাম করছে না; তারা মন্দির, মসজিদ, গুরুদুয়ারা, গির্জা এবং সমস্ত পবিত্র উপাসনালয়—সেগুলোর ঘণ্টা-ধ্বনি, আজান, ভজন-সংগীত ও প্রার্থনা—সুরক্ষার জন্যও ত্যাগ স্বীকার করছে। কারণ একটি সভ্য জাতি বোঝে যে, উপাসনালয় রক্ষা করা মানে আসলে মানবতাকেই রক্ষা করা। বেলুচিস্তানকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার অর্থ কেবল এটুকু নয় যে, ভূখণ্ডের একটি অংশ পাকিস্তানের অবৈধ দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত হয়েছে। এর গভীরতর তাৎপর্য হলো—ঘৃণা, কুসংস্কার ও নিপীড়ন থেকে মানবতার মুক্তি।
এর অর্থ হলো—ঘৃণার সুউচ্চ প্রাচীর চিরতরে ভেঙে ফেলা এবং সকল মানুষের জন্য ভালোবাসার দ্বার উন্মুক্ত করা। এর অর্থ হলো—আবারও মন্দিরের ঘণ্টা বেজে ওঠা, মসজিদ থেকে শান্তির আহ্বানে আজান ধ্বনিত হওয়া, গুরুদুয়ারায় ভজন-কীর্তনের সুর ছড়িয়ে পড়া এবং গির্জাগুলো প্রার্থনায় মুখরিত হয়ে ওঠা; আর এসবের পাশাপাশি প্রতিটি মানুষ যাতে নির্ভয়ে ও স্বাধীনভাবে নিজ নিজ উপাসনা করতে পারে, তা নিশ্চিত করা। আমরা অঙ্গীকার করছি যে, বেলুচিস্তানের মাটিতে ধর্ম, জাতিসত্তা ও বিশ্বাসের ঊর্ধ্বে উঠে আমরা শান্তি, ভালোবাসা, অগ্রগতি, সমৃদ্ধি ও মানবতার এক নতুন অধ্যায় রচনা করব—এমন এক অধ্যায় যা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গর্বের সাথে স্মরণ করবে এবং যার মাধ্যমে বিশ্ব বেলুচিস্তানকে কেবল একটি স্বাধীন মাতৃভূমি হিসেবেই নয়, বরং সহনশীলতা, সহাবস্থান ও সমগ্র মানবজাতির প্রতি শ্রদ্ধাশীলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবেও চিনবে।
প্রসঙ্গত,বেলুচ আন্দোলনের নেতা মীর ইয়ার বেলুচ দাবি সম্প্রতি করেন, পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকা এখন বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বেলুচিস্তানকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
১৩ জুলাই তারিখের একটি চিঠি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মীর বেলুচ দাবি করেন, বেলুচিস্তান স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে। তিনি বলেন, অঞ্চলটির জন্য একটি জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীত তৈরি করা হয়েছে। ‘বেলুচি ফালুস’ নামে একটি মুদ্রাও চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসন ও নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
মীর বেলুচ আরও দাবি করেন,স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীগুলো বেলুচিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সোনা ও তামার খনি, গ্যাসক্ষেত্র এবং কয়লাখনি।
চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে, সামরিক, নৌ, বিমান ও বেসামরিক সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনী বেলুচিস্তানের প্রশাসন পরিচালনা করছে। তাদের লক্ষ্য ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ অঞ্চল থেকে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীকে পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়া।মীর ইয়ার বেলুচ আরও জানান, পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীতে কর্মরত অনেক বেলুচ ও পশতুন সদস্য চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান, ‘বেলুচিস্তান প্রজাতন্ত্র’কে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে।।
