এইদিন ওয়েবডেস্ক,নয়াদিল্লি,২০ জুলাই : যত সময় যাচ্ছে ততই ককরোচ জনতা পার্টির (সি জে পি) আসল স্বরূপ সামনে আসছে । শুরুতে বলা হয়েছিল যে সিজেপি-এর আন্দোলনটি শুধুমাত্র নিট (NEET) পরীক্ষার বিষয়কে কেন্দ্র করে । কিন্তু সেই ‘শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ’ থেকে এখন সংসদে হুমকির পর্যায়ে চলে গেছে । বারবার দাবি করা হয়েছিল যে এটি একটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও অহিংস প্রতিবাদ। কিন্তু আজ ‘সংসদ চলো’ মিছিল চরম হিংসাত্মক হতে দেখা যাচ্ছে । নিরাপত্তা বাহিনীকে পাথর ছোড়া থেকে শুরু করে সংবাদমাধ্যমের উপর হামলা, কোনো কিছুই বাকি রাখেনি ‘আরশোলার’ দল । সঙ্গত কারনেই প্রশ্ন উঠছে যে তাহলে কি যেনতেন প্রকারেণ এফসিআরএ (FCRA) বা ‘বৈদেশিক অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন’ সংসদে পাশ করতে না দেওয়াটাই কি এর মূল উদ্দেশ্য ? এবং নেপথ্যে কোন বৈদেশিক শক্তির হাত আছে । সোশ্যাল মিডিয়ায় যা দাবি করা হচ্ছে তা রীতিমতো চমকে দেওয়ার মত ।
আজ পর্যন্ত ‘আরশোলা’ পার্টির মঞ্চে যাদের দেখা গেছে তারা মূলত বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিরোধী বলে পরিচিত । বামপন্থী ও উগ্র-বামন্থীরা এই কথিত আন্দোলনকে স্থায়ী করতে আদাজল খেয়ে মাঠে পড়ে আছে । রয়েছে আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিওয়াল, প্রশান্ত ভূষণরা ৷ দলিত সম্প্রদায়ের দল বলে পরিচিত ভীম আর্মির বিতর্কিত নেতা চন্দ্রশেখর রাবনকেও দেখা গেছে । উপস্থিত ছিলেন সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদবের স্ত্রী ডিম্পল যাদব । এমনকি মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র ও ছায়াগোষ্ঠী ‘বাংলা পক্ষ’কে পর্যন্ত আজ দেখা গেছে দিল্লির যন্তর মন্তরে ।
তবে যে সমস্ত মুখের উপস্থিতি কুখ্যাত মার্কিন উদ্যোগপতি জর্জ সোরসের সংযোগ নিয়ে সন্দেহ দানা বাধছে তারা হলেন : অভিনেত্রী সাবানা আজমি, অঞ্জলি ভরদ্বাজ,সোনম ওয়াংচুক ও অভিজিৎ দীপকের ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ মুখপাত্র সৌরভ দাস প্রমুখ ।
দাবি করা হচ্ছে যে অঞ্জলি ভরদ্বাজ মার্কিন বিদেশ দপ্তর থেকে একটি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তিনি শাবানা আজমির সাথে ব্রিটিশ খ্রিস্টান এনজিও ‘অ্যাকশনএইড’-এর চেয়ারপার্সন, যেটি বিগত কয়েক বছর ধরে ৮৫ থেকে ১০০ কোটি টাকারও বেশি বিদেশি অনুদান পাচ্ছে । আর সিজেপি মুখপাত্র সৌরভ দাসের সঙ্গে নরওয়ের সাংবাদিক হেলে লিং-এর মধ্যে সম্পর্ক আছে বলে দাবি করা হচ্ছে । প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, সৌরভ দাস কেন নরওয়ের এমন একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন যা ডাগসাভিসেন -এর প্রাক্তন সিইও ম্যাড নাইগার্ড আয়োজন করেছিলেন? সোশ্যাল মিডিয়ায় (amrit_bharat05) দাবি করা হচ্ছে,জর্জ সোরোসের ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশন, ফ্রিট অর্ড এবং ডাগসাভিসেন-এর মধ্যে অর্থায়নের একটি শক্তিশালী যোগসূত্র রয়েছে । যন্তর মন্তরে চলমান প্রতিবাদটি নিট (NEET) পরীক্ষার্থীদের জন্য নয়, বরঞ্চ ‘বৈদেশিক অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন’ সংসদে পাশ হতে না দেওয়া বলে দাবি ।
আর লেহের SECMOL-এর পরিচালক সোনম ওয়াংচুককে নিয়ে বিতর্ক তো দীর্ঘদিনের । রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে তাকে ইতিমধ্যে জেলেও কাটাতে হয়েছে ৷ এখন ‘আরশোলা’ দলের কথিত প্রতিবাদের কারনে ফের তিনি সংবাদের শিরোনামে এসেছেন । এই পরিস্থিতিতে ২০০৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারী তাকে লেহের জেলাশাসক স্বাক্ষরিত একটা চিঠি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে । যে চিঠির ৪ নম্বর পয়েন্টে বলা হয়েছে : “চীন ও অন্যান্য স্থানে আপনার দেশবিরোধী সংযোগ রয়েছে, যা দেশবিরোধী কার্যকলাপের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে বা হতে পারে।” এই কারনেই আজ ‘সংসদ চলো’র ডাক দেওয়ার নেপথ্যে বিদেশী শক্তির ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে ।
যদিও ককরোচ জনতা পার্টির দাবিদাওয়া শুনতে রাজি হয়েছে কেন্দ্র সরকার । কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ওই পার্টির মুখপাত্র সৌরভ দাস সহ প্রতিনিধিদলের মুখোমুখি কথা হয়েছে । সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অভিজিৎ দীপকে যন্তর মন্তরে অনশন শেষ করেছেন। সোনম ওয়াংচুকও তাঁর অনশন শেষ করেছেন বলে জানা গেছে ।।
