এইদিন ওয়েবডেস্ক,দক্ষিণ ২৪ পরগনার,১৭ জুলাই : ৬৪ বিঘা জমি…২৪ বিঘার উপর বাগানবাড়ি…৪০ বিঘার উপর জমিতে মাছের ভেড়ি….গোসাবায় আরও বেশ কয়েকটি বাড়ি… অফিসটাও রাজপ্রাসাদের চেয়ে কম কিছু নয়…শুধু গ্রামীণ এলাকা না…কলকাতার শহরতলিতেও রয়েছে একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি…কোন জমিদারের সম্পত্তির বর্ননা নয়,এই বিপুল সম্পত্তির পরিমাণ গোসাবার পাঠানখালির ত্রাস তৃণমূল নেতা সুবিদ আলি ঢালি ওরফে ঝড়োর ঢালির । তিনি প্রাক্তন গোসাবা ব্লক তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতিও । একসময় গ্রামে ছাগল ও মুরগি বিক্রি করে দিন গুজরান করে তৃণমূলের ছত্রছায়ায় ধনকুবের হয়ে ওঠা সুবিদ আলির বিরুদ্ধে রয়েছে হিন্দু মেয়েদের জোর করে বিয়ে করে সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার মত গুরুতর সব অভিযোগ । এলাকায় বিঘের পর বিঘে জমি লুট, কাটমানির টাকা তোলা-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষনা হতেই পালিয়ে বেড়াচ্ছিল । এমন কি বাংলাদেশে পালানোর ছক খুঁজছিল । বৃহষ্পতিবার রাতে জীবনতলা থানার অন্তর্গত খাগড়া গ্রামে থেকে আগ্নেয়াস্ত্র সহ সুবিদ আলি ও তার সাগরেদ মনিরুল পৈলানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ । ধৃতদের কাছ থেকে দুটি বন্দুক ও দুটি তাজা কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে । পুলিশ ধৃতদের বিরুদ্ধে একটি সুওমোটো মামলা রুজুর করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ধৃতদের পুলিশ হেফাজত চেয়ে শুক্রবার আদালতে তোলা হয়।
এক সময় অভাবের তাড়নায় মুরগি-ছাগল বিক্রি করাই পেশা ছিল সুবিদ আলির । মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের ছত্রছায়ায় আসার পর রকেট গতিতে তার উত্থান হয় । বর্তমানে ১০ একরেরও বেশি জমির উপরে বিশাল বাংলো বাড়ি,খামারবাড়ি, বিঘার পর বিঘা মেছোভেড়ি। গোসাবা, কলকাতা-সহ বিভিন্ন জায়গায় একাধিক বাড়ি। এহেন তৃণমূল নেতা সুবিদ আলি ঢালি। তবে ঝোড়ো নামেই এলাকায় বেশি পরিচিত। ঝোড়ো ঢালির রাজনৈতিক কুকীর্তির পাশাপাশি আরও চমকে দেওয়ার মতো অন্ধকার জগতের কাহিনী রয়েছে।পাঠানখালি তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি থেকে গোসাবা ব্লক তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি পদে বহাল হয় ঝোড়ো ঢালি।রাজনৈতিক উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে চলতে থাকে জমি দখল, বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মীদের উপর অত্যাচার।এমনকি তার বিরুদ্ধে মহিলাদের উপরে যৌন নির্যাতন ও শিশুদের আটকে রাখার অভিযোগ ।জোর করে হিন্দু মহিলাদের বিয়ের অভিযোগ রয়েছে তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে।
এলাকার মহিলারা সুবিদ আলি ঢালি ওরফে ঝোড়ো ঢালির বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ তুলেত। তাঁদের অঅভিযোগ, তাদের শিশুসন্তানকে পণবন্দি করে ঝোড়োর বাংলোয় আসতে বাধ্য করা হত। ঝোড়োর বাংলোয় ওইসব মায়েদের তৃণমূল নেতাদের মদের আসরে নাচতে বাধ্য করা হত। যৌন নির্যাতন থেকে ধর্ষণ পর্যন্ত করা হত। একজন দুজন মহিলা নয়, বহু মহিলা অভিযোগ করছেন, ঝোড়োর রাজপ্রাসাদে না এলে তাদের সন্তানদের মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হত। পুলিশে গেলে কোনও কাজই হত না ।
স্থানীয় এক মহিলা বলেন, এলাকার প্রতিটি মহিলার ক্ষোভ রয়েছে এই সুবিদ আলি ঢালির উপরে। অত্যাচার, যৌন নির্যাতন, শিশুদের অপহরণ, কী অভিযোগ নেই ঝোড়োর বিরুদ্ধে? শিশুদের তুলে এনে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হত এবং তাদের মায়েদের আসতে বাধ্য করা হত। ওই তৃণমূল নেতার ৪-৫টি বাংলো রয়েছে। সেখানে ওইসব মায়েদের নাচাতো। থানায় গেলে কোনও কাজ হত না। প্রমাণ চাইত। থানাটা ছিল ওর নিজের।
স্থানীয়দের দাবি, সুন্দরী মহিলাদের দেখলেও বিভিন্ন প্রলোভন দেখাত। বলত কাজ দেবো। এসব বলে ঘরে নিয়ে গিয়ে অকথ্য অত্যাচার করতো। এক মহিলা বললেন, ছেলেকে মার্ডার করবে বলে মাঠে নিয়ে চলে গিয়েছিল। কারও মাথায় বন্দুক ধরা হত, কোনও মহিলার স্বামীকে বেধড়ক মারধর করা হত। কলকাতা থেকে গোসাবার পাঠানখালির ঝেড়ো ঢালির বাড়ি যেতে গেলে দু’দুটো নদী পেরিয়ে যেতে হত। সেরকম একটি প্রত্যন্ত এলাকায় যেখানে নির্মাণ সামগ্রীর দাম অত্যন্ত চড়া। সেখানেই গড়ে উঠেছিল ঝোড়ো ঢালির বিশাল সাম্রাজ্য-তিরিশ বিঘে জমির উপরে পাঁচিল ঘেরে প্রসাদ। সেই চত্বরে একাধিক বিল্ডিং।
পালাবদলের পর সুবিদ আলির লোকজনকে এলাকায় দেখতে পাওয়া যাচ্ছিল না। তারা গা ঢাকা দিয়েছিল। বেপাত্তা ছিল সুবিদ আলিরও।বৃহষ্পতিবার রাতে গোপন সূত্র মারফত খবর পেতেই শুরু হয় অপারেশন। জীবনতলা থানার পুলিশ খাগড়া গ্রামে অভিযান চালায়। পলাতক ‘ওয়ান্টেড’ সুবিদ আলি ঢালি ওরফে ঝড়োকে পাকড়াও করা হয়। তৃণমূল নেতার সহযোগী মনিরুল পৈলানকেও ধরা হয়।।
