সন্ত্রাসবাদের আঁতুরঘর পাকিস্তান নিজের জালে নিজেই জড়িয়ে পড়েছে । বেলুচিস্তান ইতিমধ্যেই স্বাধীনতা ঘোষণা করে দিয়েছে । পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের মানুষ সংঘবদ্ধ হয়ে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে পথে নেমেছে । অবৈধভাবে কব্জা করে রাখা ভারতের এই অঞ্চলটি যেকোনো সময় পাকিস্তানের হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে৷ পাশাপাশি খাইবার পাখতুনখোয়ার পাশতুনরাও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে । এদিকে চরম আর্থিক সঙ্কটে ধুঁকছে পাকিস্তান ।
সিপিইসি (CPEC)-এর আরেকটি ব্যর্থতা: চুক্তি লঙ্ঘন করে চীনা কোম্পানিগুলোর কাছে ৪২৩ বিলিয়ন পাকিস্তানি মূদ্রা বকেয়া পড়ে আছে। পাকিস্তান সিপিইসি (CPEC) সংক্রান্ত ঋণের ক্ষেত্রে ছাড় চেয়েছিল, কিন্তু চীন সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। ঋণ সংক্রান্ত বিষয়ে ছাড়ের জন্য আবেদন জানাতে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী এখন চীন সফর করছেন । সেই সাথে উচ্চ-সুদের চীনা ঋণের ফাঁদ থেকে বাঁচতে পাকিস্তান এখন কম সুদের ঋণের জন্য হাত পাতছে ইসলামি রাষ্ট্রগুলির কাছে । ঋণের ভারে জর্জরিত পাকিস্তান এখন পুরোনো ঋণ পরিশোধের জন্য আরও ঋণ নিচ্ছে। বিলম্ব-জনিত মাশুল বা ‘লেট চার্জ’ বাবদ ৫,৮০০ কোটি রুপি মওকুফ করতে চীন অস্বীকৃতি জানানোয়, ইসলামাবাদ এখন সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত নতুন স্বল্প-সুদের ঋণ পাওয়ার চেষ্টা করছে।
এমতবস্থায় আমেরিকার কাছ থেকে টাকা পাওয়ার লোভে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ইরানের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে অনুমান করছেন ইংরেজি ব্লিটজ পত্রিকার সম্পাদক সালহা উদ্দিন শোয়েব চৌধুরী ।
তিনি বলেছেন,ইরানের সাথে যুদ্ধে জড়াতে পারে পাকিস্তান!মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরান যুদ্ধ নিরসনে দূতিয়ালির ভূমিকা পালন করে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ গত কয়েক সপ্তাহ একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক মিডিয়ার পাদপ্রদীপে ছিলেন, অন্যদিকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে কোটি কোটি ডলার কমানোর সম্ভাবনাও দেখছিলেন।
কিন্তু এবার সবকিছু শুধু ভেস্তেই যাচ্ছেনা, অতি লোভের ফলে পাকিস্তান এবার সরাসরি ইরানের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে যাচ্ছে যেকোনো সময়। কারণ, সৌদির সাথে পাকিস্তানের বিদ্যমান সামরিক চুক্তির অধীনে সৌদি আরব অন্য কোনো দেশের দ্বারা আক্রান্ত হলে তাৎক্ষণিক পাকিস্তানকে সৌদির পক্ষে সামরিক সহযোগিতা প্রদান করতে হবে।
এবার ইসলামাদের জন্যে সেই ভয়াবহ সময় উপস্থিত! ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গ্রুপ সৌদি আরবে রকেট হামলা শুরু করেছে, যার ফলে পাকিস্তানকে এবার সৌদি আরবের পক্ষ নিয়ে পাল্টা হামলা চালাতেই হবে। আর এটা করলেই হুতিরা পাকিস্তানের দিকেও রকেট হামলা চালাতে শুরু করবে।
পাকিস্তানের একজন শীর্ষ সামরিক অফিসার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, সৌদি আরবে যেকোনো হামলাকে ইসলামাবাদ নিজেদের উপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করবে। অর্থাৎ, পাকিস্তান এবার হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অ্যাকশনে যাবে।
অন্যদিকে সৌদি আরবের পক্ষে পাকিস্তান সামরিক ব্যবস্থা না নিলে স্থায়ীভাবে রিয়াদের সাথে ইসলামাদের সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যেতে পারে, যার ফলশ্রুতিতে সৌদি আরব সেদেশে অবস্থানরত লাখ লাখ পাকিস্তানিকে বহিষ্কার করতে পারে। গোটা আরব বিশ্বে তখন পাকিস্তান চিহ্নিত হবে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে।
অন্যদিকে, ইসলামাদের হাতে হুতি বিদ্রোহীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখোমুখি হলে স্বয়ং ইরান তখন পাল্টা জবাব হিসেবে পাকিস্তানে শক্তিশালী মিসাইল হামলা চালিয়ে তাদের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলো তছনছ করে দিতে পারে। আর ওই সুযোগে পাকিস্তানের ভেতর অন্তত চারটি রাজ্য নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করতে পারে। তখন পাকিস্তান পড়বে অস্তিত্ব সংকটে। আপাতত এটা বোঝা যাচ্ছে, হুতি বিদ্রোহীরা যদি সৌদি আরবে এক্ষুনি হামলা বন্ধ না করে তাহলে ইসলামাবাদের সামনে মহা বিপদ!
