এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১৪ জুলাই : মুসলিমদের তীব্র প্রতিবাদের কারনে পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল সিপিএমের সরকার । তৃণমূলের জমানাতেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয় । অবশেষে বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই যোগ্য সম্মান পেতে চলেছেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)। ২০০৭ সালের ২১ নভেম্বর অর্থাৎ প্রায় ২০ বছর পর তসলিমা নাসরিন কলকাতায় আসছেন । আগামী ১ অগাস্ট রবীন্দ্রসদনে মৌলবাদ বিরোধী কবি-সাহিত্যিকদের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। একই মঞ্চে উপস্থিত থাকতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ।তসলিমা নিজেই সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে এই খবরটি ভাগ করে নিয়েছেন।
২০০৭ সালে তসলিমা নাসরিনের ‘দ্বিখণ্ডিত’ উপন্যাসকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে ওঠে কলকাতা। ইসলামি মৌলবাদী শক্তির আগ্রাসন ও তীব্র অশান্তি সামলাতে তৎকালীন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সরকারকে সেনা পর্যন্ত নামাতে হয়েছিল। ২০০৭ সালের ২১শে নভেম্বর কলকাতার পার্ক সার্কাস অঞ্চলে ইসলামি চরমপন্থীদের হিংস্র আন্দোলনের সামনে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার হাঁটু গেড়েছিল। আক্রান্ত লেখককে সুরক্ষা দেওয়ার বদলে রাতারাতি কলকাতা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। ২০১১ সালের ‘পরিবর্তন’- এর পর ভাবা হয়েছিল তৃণমূল সরকার হয়তো এই ঐতিহাসিক অন্যায়ের সংশোধন করবে। কিন্তু বাস্তবে তসলিমা নাসরিনের সম্পর্কে সিপিএমের নীতিই মেনে চলেছিলেন মমতা ব্যানার্জি । বামপন্থীরা যাকে এক রাতে তাড়িয়েছিল, তৃণমূল সেই নির্বাসনকে কার্যত নীরবে স্থায়ী করে দিল। কারন মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক হারানোর ভয় ।
এখন ওই সমস্ত ছদ্ম ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দলগুলি কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে । হিন্দুত্ববাদী সরকার আসতেই বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত তসলিমা নাসরিন অবশেষে আবার তিলোত্তমার মাটিতে পা রাখতে চলেছেন৷ ‘সেক্যুলার মিশন’ এবং ‘এইচআরবিএফএফ’ (HRBFF)-এর যৌথ উদ্যোগে রবীন্দ্রসদনে আয়োজিত হতে চলা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তসলিমা। উদ্যোক্তারা তাঁকে ‘মৌলবাদ বিরোধী প্রতিবাদের অগ্নিসম প্রতীক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পয়লা আগস্টের সেই অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠও করবেন লেখিকা। সব মিলিয়ে, এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের অপেক্ষায় এখন বাংলার সাহিত্য ও সংস্কৃতি মহল। একদিকে যখন বাংলাদেশ ইসলামি চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলির হাতে চলে গেছে, তখন অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে তসলিমা নাসরিনের আগমন তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে । এখন কলকাতায় এসে তসলিমা ইসলামি চরমপন্থীদের উদ্দেশ্যে কি বার্তা দেন, সেটা দেখার বিষয় ।।
