এইদিন ওয়েবডেস্ক,বেঙ্গালুরু,১১ জুলাই : ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ছেলেপিলে নিয়ে ভারতেই ঘাঁটি গেড়ে বসেছিল এক পাকিস্তানি মহিলা । স্থানীয় সহানুভূতিশীল লোকজনের বানিয়ে ফেলেছিল আধার কার্ড ও ভোটার কার্ড । তারপর ভারতীয় নাগরিকত্ব অর্জন না করেই বহাল তবিয়তে ভোট দিয়ে যাচ্ছিল । কর্ণাটকের চিক্কাবল্লাপুর জেলা থেকে ওই পাকিস্তানি মহিলা ও তার এক ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ । অভিযুক্তরা হলেন ফারহানাজ ও তার বড় ছেলে মহম্মদ ফারদিন খান।পুলিশ জানিয়েছে, ওই দুজন দাসাগারেপল্লি গ্রামে বসবাস করছিলেন এবং ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য নির্ধারিত সরকারি নথি জোগাড় করার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েন।
পুলিশের ভাষ্যমতে, পাকিস্তানি নাগরিক ফারহানাজ দাসাগারেপল্লি গ্রামের বাসিন্দা মহম্মদ আইয়ুব খানকে বিয়ে করেছিলেন এবং এই দম্পতির দুটি সন্তান রয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ফারহানাজ ও ফারদিন উভয়েই পাকিস্তানি নাগরিক।
প্রাথমিক তদন্ত চলাকালে কর্মকর্তারা জানতে পারেন যে, ভারতীয় নাগরিক না হওয়া সত্ত্বেও মা ও ছেলে আধার কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র, রেশন কার্ডসহ বেশ কয়েকটি ভারতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছিলেন এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টও খুলেছিলেন।
কর্তৃপক্ষ এখন খতিয়ে দেখছে, কীভাবে এই নথিগুলো জারি করা হয়েছিল এবং এই প্রক্রিয়ায় কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছিল কি না।
পরিবারের নথিপত্রের সরকারি যাচাইয়ের পর বাগেপল্লীর তহসিলদার মনীষা এন পাত্রির করা অভিযোগের ভিত্তিতে বাগেপল্লী পুলিশ মামলাটি নথিভুক্ত করে।
প্রাথমিক তথ্য প্রতিবেদন (এফআইআর) অনুযায়ী, গত ৯ই জুলাই রাতে পুলিশের কাছে অভিযোগটি দাখিল করা হয়েছিল। এতে বলা হয়েছে যে, দাসাগারেপল্লি গ্রামের বাসিন্দা মহম্মদ আইয়ুব খানের স্ত্রী ফারহানাজ এবং তাঁর বড় ছেলে মহম্মদ ফারদিন, উভয়েই ভারতীয় নাগরিকত্ব অর্জন না করা সত্ত্বেও ভোটার পরিচয়পত্র ও রেশন কার্ড পেয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগে আরও বলা হয়েছে যে, পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে ২০২৬ সালের ১৭ই মার্চ তারিখের একটি চিঠির মাধ্যমে কর্মকর্তাদের আইন অনুযায়ী বিষয়টি খতিয়ে দেখে একটি জরুরি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়ার পরেই এই যাচাইকার্যটি সম্পন্ন করা হয়েছিল।
তদন্ত চলাকালে রাজস্ব কর্মকর্তারা উপলব্ধ নথি খতিয়ে দেখেন এবং জানা যায় যে, ফারহানাজ ও তার ছেলে উভয়েই প্রথমে ভারতীয় নাগরিক না হয়েই ভোটার পরিচয়পত্র ও রেশন কার্ডের জন্য নিবন্ধন করেছিলেন।এই প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তহসিলদার এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, ভারতীয় নাগরিকত্ব ছাড়া এই ধরনের নথি নিজের কাছে রাখা বেআইনি এবং তিনি উভয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন । অভিযোগের ভিত্তিতে বাগেপল্লি পুলিশ একটি এফআইআর দায়ের করে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে।
কর্মকর্তারা এখন পরিচয়পত্রগুলোর সত্যতা যাচাই করছেন, সেগুলো কীভাবে ইস্যু করা হয়েছিল তা খতিয়ে দেখছেন এবং এই প্রক্রিয়াটি সহজতর করার ক্ষেত্রে কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত ছিলেন কি না, তা তদন্ত করছেন।
বৃহত্তর তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ অভিযুক্তদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোও খতিয়ে দেখছে।
কর্তৃপক্ষ অভিযোগের মাত্রা নির্ধারণ করবে, অভিযুক্তের সাথে সম্পর্কিত সমস্ত নথি যাচাই করবে এবং চলমান তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।।
