এইদিন ওয়েবডেস্ক,দক্ষিণ ২৪ পরগণা,১১ জুলাই : কিশোরীর ধর্ষণ-খুনে জড়িত সন্দেহে ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল নামে এক অটোচালক যুবককে নৃশংসভাবে পিটিয়ে মারে উগ্রবাদী জনতা । নিহতের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা ও নিহত যুবকের দাদা বাপি মণ্ডলকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি দিল রাজ্য সরকার । সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাপির কর্মস্থল হবে নবগঠিত সূর্যপুর পুলিশ ফাঁড়ি। এদিন ওই ফাঁড়ির উদ্বোধনও করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে পুলিশ আধিকারিক ও মহিলা পুলিশকর্মী-সহ মোট ২০ জন দায়িত্বে থাকবেন বলে জানা গিয়েছে। আজ শনিবার বারুইপুরে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিহত যুবকের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মৃতের শোকসন্তপ্ত বাবা-মায়ের হাতে ২৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দিয়ে পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন । সেই সাথে বাড়ি সংস্কার থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধাসহ পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি । হামলার সময় ক্ষতিগ্রস্ত ইন্দ্রজিতের বাড়ি প্রশাসনের তরফে সংস্কার করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর বাবার বার্ধক্যভাতা এবং মায়ের জন্য অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধার ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের ঘটনাকে নিছক গনরোষ হিসাবে মানতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । তিনি পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর দাবি করেন, ইন্দ্রজিৎকে নাম ও পরিচয় দেখে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক উসকানি এবং মৌলবাদী বা উগ্রপন্থী শক্তির ভূমিকা থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী মৃতের পরিবারকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, ‘ইন্দ্রজিৎকে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয় । ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। পুলিশ ইতিমধ্যেই একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তদন্ত চলছে ।’ তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন,’ইন্দ্রজিতের খুনি এবং যারা এই হিংসায় উসকানি দিয়েছে, কাউকেই রেয়াত করা হবে না। খুনি ও ধর্ষকরা এবার থেকে ভয়ের মধ্যে থাকুক।’
এদিন এলাকায় নবনির্মিত স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। নাবালিকার মৃত্যুর পর স্থানীয় বাসিন্দারা ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে এলাকায় নিরাপত্তার জন্য যে পুলিশ ফাঁড়ি তৈরির দাবি জানানো হয়েছিল, তা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়িত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, নাবালিকার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে চারজন অভিযুক্তকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পুরো তদন্ত প্রক্রিয়া তাঁর ব্যক্তিগত তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। বারুইপুরের এই থমথমে পরিবেশে নতুন পুলিশ ফাঁড়ি উদ্বোধন এবং মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া অবস্থান অপরাধীদের মনে ত্রাস সৃষ্টির পাশাপাশি এলাকায় শান্তি ফেরাতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।।
