এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৯ জুলাই : জমে উঠেছে “কালীঘাট তৃণমূল” বনাম “নতুন তৃণমূল” -এর লড়াই । এতদিন ‘নতুন তৃণমূল’কে “গদ্দার” বলে কটাক্ষ করা “কালীঘাট তৃণমূল”-এর বিধায়ক কুণাল ঘোষের লেখা ১২ বছর আগের একটি ‘বিস্ফোরক’ চিঠি প্রকাশ্যে আনলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ও বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জি । কুণাল ঘোষ জেলে বন্দি থাকার সময় ওই ৯১ পাতার চিঠিটি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সিবিআই ডিরেক্টরের উদ্দেশ্যে লিখেছিলেন বলে জানান তিনি । ঋতব্রত-র দাবি, সেই সময় তৃণমূলের বর্তমান “ম্যানেজিং ডিরেক্টর” অর্থাৎ কুণাল ঘোষ অভিযোগ তুলেছিলেন যে “চিটফান্ডের টাকার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হলেন মমতা ব্যানার্জি” । অবশ্য আজ সাংবাদিক সম্মেলনে এই বিস্ফোরক চিঠির প্রসঙ্গ উত্থাপন করার সময় কখনোই কুণাল ঘোষের নাম নেননি তিনি । পরিবর্তে তাকে তৃণমূলের বর্তমান “ম্যানেজিং ডিরেক্টর” বলে উল্লেখ করেছেন ।
ঋতব্রত অভিযোগ করেন, ”বেইমান, গদ্দার, রোজ আমাদের বলা হচ্ছে। তবে যত দিন যাবে বেইমান, গদ্দার বলার প্রবনতা আরও বাড়বে। আরও অনেককে গদ্দার বলা হবে। ” এরপরই নাম না করে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষকে আক্রমণ করেন তিনি। বলেন, ”সম্প্রতি ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদে উন্নীত হওয়া এক ব্যক্তি যিনি আমাকে বেইমান বলছেন। তিনি সাংসদ হয়েছিলেন। যিনি সেই সময় জেলে যান। আর জেলবন্দী থাকার সময় তার লেখা ৯১ পাতার একটা চিঠি পড়েছি। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী,সিবিআই ডিরেক্টর সহ প্রাণসখাকে পাঠানো হয়। এটাকেই যেন শেষ বয়ান হিসাবে ধরা হয় সেটাই বলেছিলেন। অর্থাৎ, এটাই ছিল তার সুইসাইড নোট ।’ ঋতব্রতের কটাক্ষ,’তিনি দলকে চাঁদা দেন, কিন্তু আবার দুর্নীতি নিয়ে চিঠি দেন সিবিআইয়ের ডিরেক্টর কাছে। তাহলে বলতে হয়, দলের সাংসদ দলের বিরুদ্ধে কি বেইমানি করেছিলেন ?’
তিনি বলেন, ‘এই ৯১ পাতার দলিল, একটা দল তুলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। প্রকৃতপক্ষে সলতে পাকানো শুরু হয়েছিল তখনই। এখন ভাবতে হয়, দলের সাংসদ দলের বিরুদ্ধে কি বেইমানি করেছিলেন তখন? যা লিখেছিলেন, যাঁদের অ্যাড্রেস করেছিলেন, ওই দলিলে যা আছে, সেটা কি তাহলে বেইমানি।’ ওই চিঠিতে কাকে নিয়ে নিয়ে এবং কি সম্পর্কে কী লেখা হয়েছিল? সেই প্রসঙ্গও তুলে আনেন ঋতব্রত। তারপরেই বলেন, ‘আমি সেই ম্যানেজিং ডিরেক্টরকে অনুরোধ করব, দিদির এখন অখণ্ড অবসর। ৯১ পাতার চিঠি, একদিনে না হলেও, দু’দিনে পড়া হয়ে যাবে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, দিদিকে অনুরোধ করব আমি চিঠিটা চেয়ে নিন। ভাল করে পড়ুন। বুঝতে পারবেন, আপনার দল তুলে দেওয়ার সলতে কবে পাকানো শুরু হয়েছিল, কে শুরু করেছিল। বেইমানির ইতিহাস অনুমান করতে পারবেন। ১৫ দিনের মধ্যে যদি না পৌঁছয়, আমরা কুরিয়ার করে দিদিকে পাঠিয়ে দেব।’
তিনি বলেন,’এক প্রাণসখা আর দুই একজনের কাছে এই চিঠি ছিল। দলকে চাঁদা দেওয়া আর একই সাথে দলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি কাজ চালিয়েছেন। তদন্তকারী সংস্থা এবার সেই চিঠি দেখুক। তদন্ত করুন। বেইমানির সলতে কীভাবে পাকিয়েছিলেন সেটা দেখুন। রোমহষর্ক চিঠি। উদ্বৃত্ত ৩০ কোটি টাকা কোথায় যাবে, সেটাও বলা আছে চিঠিতে।’
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, ”রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়ে সব থেকে বেশি লেখা আছে। দিদির এখন অখন্ড অবসর। বর্তমান ম্যানেজিং ডিরেক্টর থেকে সেই চিঠি নিন দিদি। দল তুলে দেওয়ার সলতে কে পাকিয়েছিল, সেটা দেখুন। আপনি চিঠি চেয়ে নিন ওনার থেকে। নাহলে ১৫ দিন পরে পাঠিয়ে দেব ক্যুরিয়ার করে আপনার কাছে। চিঠিতে লেখা আছে চিটফান্ডের টাকায় চলেন মুখ্যমন্ত্রী। ”
ঋতব্রত জানান, ‘এই চিঠিতে লেখা রয়েছে, একজন রাজ্যের নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী চিটফান্ডের পয়সায় চলেন । লেখা রয়েছে, গোটা ভারতের চিটফান্ডের সবথেকে বড় বেনিফিসিয়ারির নাম মমতা ব্যানার্জি।’
