এইদিন ওয়েবডেস্ক,কেরালা,০৯ জুলাই : উজবেকিস্তানে এমবিবিএস অধ্যয়নরত কেরালার আলাপ্পুঝার( Alappuzha) হরিপদের বাসিন্দা ২২ বছর বয়সী মেডিকেল ছাত্রী সাওয়ারিয়া বসন্ত( Savariya Basanto) তার সহপাঠী, মালাপ্পুরমের বাসিন্দা সাদারুল আনামের (Sadharul Anam)হাতে নৃশংস ভাবে খুন হয়ে গেলেন । ওই তরুনীর মাথায় আঘাতের পাশাপাশি শরীরের একাধিক জায়গায় গভীর ক্ষত দেখতে পাওয়া যায় । আত্মীয়রা জানান,সাওয়ারিয়া বসন্তকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল। তার সারা শরীরে কাটা ও কালশিটে দাগ রয়েছে। তার বুকে একাধিকবার লাথি মারার চিহ্নও আছে। আত্মীয়রা জানান, তার সহপাঠীরা পুলিশকে বলেছে যে অভিযুক্ত, মালাপ্পুরমের বাসিন্দা সদরুল আনাম, তাকে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করেছিল। আলাপ্পুঝা বন্দনম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মেয়েটির মৃতদেহের পুনরায় ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।
মৃত সাওয়ারিয়া বসন্ত এবং ঘাতক সাদারুল আনাম উজবেকিস্তানের বুখারা স্টেট মেডিকেল ইউনিভার্সিটির প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। কলেজে হোস্টেলের সুবিধা সীমিত থাকায় ছেলে ও মেয়েরা একই হোস্টেলে থাকত। গত শনিবার সকালে খবর আসে যে সাওয়ারিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক। পরে তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়। সাওয়ারিয়ার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। আত্মীয়রা জানান, সাদারুল আনাম হোস্টেলে বেশ কয়েকদিন ধরে মেয়েটিকে নির্মমভাবে মারধর করেছিল। তার সহপাঠীরা এই বিষয়ে স্থানীয় পুলিশকে জানিয়েছে।
মৃত্যুর কারণ শুধু ল্যাপটপ দিয়ে মাথায় আঘাতই ছিল না, বরং নৃশংস হামলাও করা হয়ে ছিল। বুখারা পুলিশ পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করেনি। তারা মৃতদেহটি যেকোনো ভাবে বাড়িতে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করছিল। তারা অভিযুক্তের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেছিল কিন্তু উজবেকিস্তানের পুলিশ অনুমতি দেয়নি।
পরিবার গুরুতর অভিযোগ করেছে যে, অভিযুক্ত সাদারুল আনাম ক্রমাগত সাওয়ারিয়াকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে চাপ দিচ্ছিল এবং মেয়েটি তাতে রাজি হয়নি।
হরিপদ পুলিশও অভিযুক্ত সাদারুল আনার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে। সে বর্তমানে উজবেকিস্তানে বুখারা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। সাওয়ারিয়াকে নৃশংসভাবে হত্যাকারী অভিযুক্ত যাতে আইনের হাত থেকে পালাতে না পারে, তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই এখানে অভিযোগটি দায়ের করা হয়েছে। আইনি পরামর্শের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বন্দনম মেডিকেল কলেজে পুনঃময়নাতদন্তের পর হরিপদের বাড়িতে তরুনীর অন্তেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠিত হবে।।
