এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,০১ জুলাই : স্বামীকে ছেড়ে ফেসবুকের মুসলিম প্রেমিকের সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন বাংলাদেশের মাগুরার এক হিন্দু তরুনী । এক বছরের অধিক সময় ধরে তারা স্বামী-স্ত্রীর মত বসবাস করেছেন । কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তরুনী বিয়ের জন্য চাপ দিলে প্রেমিক তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা করে । শেষ পর্যন্ত তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন । সম্পা বিশ্বাস (Sompa Biswas) নামে ওই তরুনীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তার প্রেমিক মাগুরা সদর উপজেলা কৃষক দলের আহবায়ক রিফাতুল ইসলাম রায়হানকে গ্রেপ্তার করেছে । তার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস,প্রাণনাশের হুমকি এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে ৷ এখন প্রতারিত তরুনী কাঁদতে কাঁদতে সংবাদমাধ্যমের কাছে বলেছেন : “আমি এখন কোথায় যাব ? আমি দেশবাসীর কাছে বিচার চাই ।”
মাগুরা সদর থানায় দায়ের করা অভিযোগে সম্পা বিশ্বাস (২৯) জানিয়েছেন, তিনি মাগুরার তাঁতিপাড়ার বাসিন্দা কার্তিক বিশ্বাসের মেয়ে ৷ বর্তমানে কলেজপাড়ার কাছে পুরাতন পাসপোর্ট অফিস সংলগ্ন জনৈক জিল্লুর রহমানের বাড়ীর নিচ তলায় ভাড়া থাকেন । তার প্রেমিক রিফাতুল ইসলাম রায়হান আশুরা জেলার আপুরার বাসিন্দা বাকি মিয়ার ছেলে ।
মহিলার অভিযোগ অনুযায়ী, রিফাতুল ইসলাম রায়হানের সাথে এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার পরিচয় হয়। তারপর তিনি স্বামীর সংসার ছেড়ে ছেলেকে নিয়ে প্রেমিকের কাছে পালিয়ে আসেন । তারপর তারা পুরাতন পাসপোর্ট অফিস সংলগ্ন জনৈক জিল্লুর রহমানের বাড়ীর নিচ তলার একটা ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন । রিফাতুল ইসলাম তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস করছিল বলে অভিযোগ তার । কিন্তু বিয়ে করার কথা বললে বিভিন্ন অছিলায় সে এড়িয়ে যেতে থাকে ।
মহিলার অভিযোগ, শেষ পর্যন্ত ২৫.০৫.২০২৬ তারিখে তিনি বিয়ের জন্য চেপে ধরলে তার প্রেমিক বিয়ে করতে অস্বীকার করে এবং গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে প্রাণে মারার চেষ্টা করে । এরপর প্রেমিক তাকে গালিগালাজ ও বিভিন্ন হুমকি ধামকি দিয়ে সেখান থেকে চলে যায়। এই লিভ ইন সম্পর্কের মাঝে একবার তার গর্ভপাত করানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ ওই মহিলার ।
এই ঘটনায় মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রিফাতুল ইসলাম রায়হানকে গ্রেপ্তার করে।পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।এদিকে ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। আইনজীবীদের মতে, বিয়ের প্রলোভন, প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা হত্যাচেষ্টার মতো অভিযোগ প্রমাণিত হলে দেশের প্রচলিত আইনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।।
