এইদিন ওয়েবডেস্ক,উত্তরপ্রদেশ,৩০ জুন : উত্তর প্রদেশের শামলিতে আয়ুষ মালিকের ধর্ম পরিবর্তনের মামলাটি নতুন মোড় নিয়েছে। মুসলিম নারী জিম প্রশিক্ষক চাঁদনী কোরেশীর লাভ জিহাদে ফেঁসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিজের নাম মহম্মদ আলী রাখা আয়ুষ এখন আবার হিন্দু ধর্মে ফিরে এসেছেন ।
সোমবার(২৯ জুন), বাড়িতে পৌঁছানোর পর তিনি একটি ভিডিও প্রকাশ করে জানান যে, তিনি আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেও এখন সনাতন ধর্মে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ভিডিওতে আয়ুশ তার বাবা-মা এবং আত্মীয়দের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি বলেন, “মা, তোমার কষ্ট দেখে আমি নিজের ইচ্ছায় আমার আসল ধর্ম, হিন্দু ধর্মে ফিরে এসেছি। দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিও।” তিনি আরও বলেন যে তিনি এখন তার বাবা-মায়ের ভালোবাসা ও যত্নে জীবন কাটাতে চান।
ফিরে আসার পরপরই আয়ুশ তার বাড়ির ভেতরের মন্দিরে প্রার্থনা করেন। তিনি আরতির জন্য প্রদীপ জ্বালান, ভগবান হনুমানের কপালে তিলক পরিয়ে দেন এবং মায়ের পায়ে হাত দিয়ে তাঁর আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। তাঁর পরিবার জানিয়েছে, তিনি কোনো রকম চাপ ছাড়াই মন থেকে হিন্দুধর্মে ফিরে এসেছেন।
আয়ুশ হলেন শামলির ওষুধ ব্যবসায়ী দেবরাজ মালিকের একমাত্র ছেলে। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে মহম্মদ আলী রাখেন। তিনি নামাজ পড়াও শুরু করেছিলেন, দাড়ি রেখেছিলেন, টুপি পরতেন এবং পরিবারের সঙ্গে থাকা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। আয়ুশ প্রায় পাঁচ বছর আগে জিম প্রশিক্ষক চাঁদনি কুরেশিকে বিয়ে করেছিলেন। তার পরিবারের দাবি, টাকা ও সম্পত্তির লোভে চাঁদনি তাকে ধর্ম পরিবর্তনে প্রভাবিত করেছিল । তারা আরও দাবি করেন যে, ধর্মান্তরের পর আয়ুশ তার পরিবার থেকে দূরে সরে যান।
দেবরাজ মালিক অভিযোগ দায়ের করার পর বিষয়টি পুলিশের কাছে পৌঁছায়। তিনি বলেন, তাঁর ছেলের ধর্মান্তর স্বেচ্ছায় হয়নি এবং কিছু লোক আয়ুশকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে তার সম্পত্তি দখল করতে চেয়েছিল।
অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ নগর থানায় তিন মৌলানাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করে। তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ চাঁদনি কোরেশি ও তার বাবা ইসলাম কোরেশিকে গ্রেপ্তার করেছে। মামলাটির তদন্ত এখনও চলছে।।
