এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,২৯ জুন : রবিবার (২৮ জুন, ২০২৬) দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর অবস্থানগুলোর ওপর একটি ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এ সময় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননে একটি বড় সুড়ঙ্গ ধ্বংস করে দেয়। লেবাননের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ওই এলাকায় হামলার খবর দিয়েছে। এদিকে, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ বলছে, এই হামলার জবাব দেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শুক্রবার (২৬ জুন, ২০২৬) লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরই এই ঘটনাগুলো ঘটে। এই চুক্তির উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা।লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) বেশ কয়েকটি ইসরায়েলি হামলার খবর দিয়েছে, যার মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নাবাতিয়াহতে চালানো একটি হামলাও রয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণে ইসরায়েলি গ্রেনেডের আঘাতে দুজন আহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সরকার জানিয়েছে, এই হামলার লক্ষ্য ছিল ২০০ মিটারের বেশি দীর্ঘ এবং ২৫ মিটার গভীর একটি সুড়ঙ্গ ধ্বংস করা। সুড়ঙ্গটিতে শত শত অস্ত্র এবং বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক ছিল, যা ইসরায়েলে হামলা এবং বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়েছিল।
ইসরায়েল এমনকি এও জানিয়েছে যে, হামলার আগেই তারা লেবানন ও যুক্তরাষ্ট্রকে অবহিত করেছিল। একজন ইসরায়েলি মুখপাত্র বলেছেন, “এই অবকাঠামো ধ্বংস করার আগে যুক্তরাষ্ট্র এবং লেবাননে নিযুক্ত মার্কিন প্রতিনিধিকে জানানো হয়েছিল।”
লেবাননের মাজদাল জুন গ্রামের কাছে বিস্ফোরণের ধোঁয়া ১০ কিলোমিটার দূর থেকেও দেখা যাচ্ছিল। উপকূলীয় শহর টায়ারে থাকা এএফপি-র একজন প্রতিবেদক ধোঁয়াটি দেখতে পান। তিনি বলেন, ইসরায়েল বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে—লেবাননের গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশের পর টায়ারের দক্ষিণের শহরগুলোর লোকজন এলাকা ছেড়ে চলে যায়।
রবিবারের হামলার জবাবে হিজবুল্লাহ বলেছে, “আমরা আবারও বলছি যে, শত্রু যা করেছে তা এখন পর্যন্ত পালিত যুদ্ধবিরতির একটি নির্লজ্জ লঙ্ঘন। আমরা এই লঙ্ঘনগুলোর ওপর নজর রাখছি এবং আমাদের দেশ ও জনগণকে রক্ষা করার অধিকার আমাদের রয়েছে।”।
