নতুন গবেষণায় দেখা গেছে যে, বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের শরীর আগের প্রজন্মের তুলনায় দ্রুত বুড়িয়ে যাচ্ছে। গবেষকদের মতে, এই প্রবণতাটিই ফুসফুস, পরিপাকতন্ত্র এবং জরায়ুর ক্যান্সারসহ কিছু রোগের কম বয়সে আক্রান্ত হওয়ার হার বৃদ্ধির একটি কারণ হতে পারে।স্বনামধন্য বৈজ্ঞানিক জার্নাল ‘নেচার মেডিসিন’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণার ফলাফল ইঙ্গিত দেয় যে, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু ক্যান্সারের প্রকোপ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হতে পারে শরীরের দ্রুততর জৈবিক বার্ধক্য।
গবেষকরা আশা করছেন যে, যেসব মানুষের শরীর তাদের প্রকৃত বয়সের চেয়ে দ্রুত বুড়িয়ে যায়, তাদের শনাক্ত করার মাধ্যমে ক্যান্সার প্রতিরোধ ও প্রাথমিক শনাক্তকরণ কর্মসূচিগুলো এই ধরনের মানুষদের ওপর আরও বেশি কেন্দ্রীভূত করা সম্ভব হবে।
সেন্ট লুইসের ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ মেডিসিনের আণবিক মহামারী বিশেষজ্ঞ ইয়িন কাও এবং তার সহকর্মীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় ব্রিটেনের দেড় লক্ষেরও বেশি এবং আমেরিকার প্রায় দশ হাজার প্রাপ্তবয়স্কের স্বাস্থ্য তথ্য ও রক্ত পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করা হয়েছে।
বার্ধক্যের হার পরিমাপ করার জন্য, গবেষকরা অংশগ্রহণকারীদের বয়সের পাশাপাশি নয়টি রক্ত পরীক্ষার ফলাফলও খতিয়ে দেখেছেন। এর মধ্যে ছিল রক্তে শর্করার মাত্রা, ক্রিয়েটিনিন, অ্যালবুমিন এবং শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা। এই তথ্যগুলো একত্রিত করে, তারা জৈবিকভাবে প্রতিটি ব্যক্তির শরীরের বার্ধক্য কতটা ঘটেছে তা অনুমান করতে এবং একই বয়সী অন্যান্য মানুষের সাথে তার তুলনা করতে সক্ষম হয়েছেন।
এই গবেষণায় জন্মসাল অনুসারে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মানুষদের মধ্যে তুলনা করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যে, ১৯৫০ থেকে ১৯৫৪ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণকারীদের সাথে ১৯৬৫ থেকে ১৯৭৪ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণকারীদের তুলনা করা হয়েছিল। ফলাফলে দেখা গেছে যে, দ্বিতীয় গোষ্ঠীর মানুষদের কালানুক্রমিক বয়স একই হওয়া সত্ত্বেও, তাদের শারীরিক চেহারায় বার্ধক্যের লক্ষণ বেশি ছিল।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৯ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণকারীদের তুলনায় ১৯৯০ থেকে ১৯৯৯ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণকারীদের ‘বয়সের ব্যবধান’ গড়ে ৯২ শতাংশ বেশি ছিল। বয়সের ব্যবধান হলো কোনো ব্যক্তির প্রকৃত বয়স এবং রক্ত পরীক্ষার ভিত্তিতে তার শারীরিক অবস্থা দ্বারা নির্দেশিত বয়সের মধ্যকার পার্থক্য।
এই গবেষণার ফলাফলে আরও দেখা গেছে যে, বয়সের ব্যবধান সূচকে যাদের স্কোর বেশি, তাদের ৫৫ বছর বয়সের আগে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
গবেষকরা দেখেছেন যে, এই সূচকের প্রতি এক ইউনিট বৃদ্ধির ফলে প্রাথমিক পর্যায়ের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে যায়।
ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের আণবিক মহামারী বিশেষজ্ঞ ইন কাও বলেছেন, এই গবেষণার লক্ষ্য হলো, আজকের পরিবেশ ও জীবনযাত্রা কীভাবে দেহে জৈবিক পরিবর্তন ঘটায় এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়, তা নির্ধারণ করা।
গ্লোবাল গ্র্যান্ড চ্যালেঞ্জেস ক্যান্সার ইনিশিয়েটিভের পরিচালক ডেভিড স্কট আরও বলেছেন যে, প্রাথমিক পর্যায়ের ক্যান্সার বৃদ্ধির সঠিক কারণ এখনও অজানা, তবে এই ধরনের গবেষণা থেকে বোঝা যায় যে, এই রোগটি কেবল কোষের ভেতরের পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সারা শরীরে ঘটে যাওয়া পরিবর্তনগুলোও এতে ভূমিকা রাখতে পারে।।
