এইদিন ওয়েবডেস্ক,নয়াদিল্লি,২৮ জুন : নিষিদ্ধ সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হামাসের আঁতুরঘর হল গাজা । যারা দক্ষিণ ইসরায়েলে অতর্কিতে হামলা চালিয়ে ১২০০-এর অধিক শিশু-নারী-পুরুষকে হত্যা করেছে । এই সেই হামাস,যারা অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তানের সঙ্গ দিয়েছিল এবং এখনো দিচ্ছে । যারা বাংলাদেশের উগ্রপন্থী গোষ্ঠী জামাত ইসলামির সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভারতকে অস্থির করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বলে অভিযোগ উঠছে । এহেন হামাসের ঘাঁটি গাজাকে কার্যত শ্মশানে পরিনত করে দিয়েছে ইসরায়েল । আর এতে বুকফাটা আর্তনাদ করছে ভারতের শতাব্দী প্রাচীন দল কংগ্রেস ও বামপন্থীরা । সেই সাথে ভারতের বন্ধু রাষ্ট্র,যারা প্রতিটি বিপদে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে,সেই ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখায় কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের সমালোচনা করছে ওই ছদ্ম ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলি ।
ফের একবার গাজার জন্য “আর্তনাদ” করতে দেখা গেলো কংগ্রেসের সোনিয়া গাঁধি ও রাহুল গাঁধিকে । শনিবার রাহুল গাঁধি কেন্দ্রী সরকারের বিদেশ নীতির সমালোচনা করেছেন। তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে, ইসরায়েলের কৌশলগত কক্ষপথের দিকে ঝুঁকে পড়ছে ভারত, যখন বাকি বিশ্ব ক্রমশ তা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। রাহুলের এই মন্তব্যটি এসেছে কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সোনিয়া গাঁধির সাম্প্রতিক একটি সম্পাদকীয়র সমর্থনে, যেখানে তিনি জাতিকে তার স্বাধীন কণ্ঠস্বর পুনরুদ্ধার করতে এবং গাজায় শান্তি ও ‘মানবিক মূল্যবোধের’ পক্ষে কথা বলতে আহ্বান জানিয়েছেন।
এক্স-এ শেয়ার করা একটি পোস্টে রাহুল গাঁধি সিপিপি চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধীর লেখা সম্পাদকীয়র প্রতিধ্বনি করে একটি মানবিক আবেদন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।সিপিপি চেয়ারপার্সনের অবস্থানের সঙ্গে নিজের একাত্মতা তুলে ধরে তিনি লিখেছেন, “কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন শ্রীমতী সোনিয়া গাঁধিজি তাঁর সম্পাদকীয়র মাধ্যমে ভারতকে তার স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি পুনরুদ্ধার করতে, মানবিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে এবং গাজা বিষয়ে নৈতিক স্বচ্ছতার সঙ্গে কথা বলতে আহ্বান জানিয়েছেন।”
বিরোধীদলীয় নেতা ভারতের বর্তমান কূটনৈতিক পথ নিয়ে তাঁর উদ্বেগ আরও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন এবং অভিযোগ করেছেন যে, যখন বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ ইসরায়েল থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিচ্ছে, তখন ভারত বিপজ্জনকভাবে ইসরায়েলের ‘কৌশলগত বলয়ের’ সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।তিনি লিখেছেন, “আমরা ইসরায়েলের কৌশলগত কক্ষপথে আরও গভীরে প্রবেশ করছি, এমন এক সময়ে যখন বিশ্ব ক্রমশ তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ইসরায়েল সফর ইতিহাসে এক হতবাক করা কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে লিপিবদ্ধ হবে।”
তাঁর বার্তার মূল বিষয় হিসেবে মানবিক বাধ্যবাধকতার ওপর জোর দিয়ে তিনি লিখেছেন, “ভারতীয় জাতীয়তাবোধের দাবি হলো, আমরা যেন আমাদের সেই ফিলিস্তিনি ভাই-বোনদের পক্ষে কথা বলি, যাদের সন্তানদের এত নৃশংসভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।” কিন্তু “ফিলিস্তিনি ভাই-বোনদের” জন্য ব্যাকুল হলে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের হিন্দুদের উপর ক্রমান্বয়ে ঘটে চলা সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনায় মুখ খুলতে দেখা যায়নি কংগ্রেসের এই দুই চালিকা শক্তিকে ।।
