আপনারা হয়তো লক্ষ্য করে থাকবেন যে বলিউড মহেশ ভাট হিন্দুধর্মের বিরুদ্ধে প্রায় সময়েই বিষ উগরে দেন । প্রকৃতপক্ষে তিনি আদ্যপ্রান্ত একজন হিন্দু বিদ্বেষী । কিন্তু হিন্দুদের প্রতি তার এই ঘৃণার কারন কি ? আসলে মহেশ ভাটের হিন্দু বিদ্বেষের নেপথ্যের প্রধান কারিগর হলেন তাদের মা শিরিন মহম্মদ আলী ।
বলিউড পরিচালক মহেশ ভাটদের হিন্দু বিদ্বেষ ও ইসলাম প্রীতির উৎস জানতে গেলে তাদের জন্মের ইতিহাস জানা জরুরি । আসলে, মহেশ ভাটের বাবা নানভাই ভাট, যাঁর আসল নাম ছিল যশোবন্ত ভাট, যিনি বটুকভাই ভাট মঞ্চনামে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে শব্দ সংযোজনও করেছিলেন, তিনি ছিলেন তিন ভাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে ছোট, তাই লোকেরা তাঁকে নানভাই বলে ডাকত। প্রকৃতপক্ষে তিনি নানভাই ভাট নামেই পরিচিত ছিলেন। নানভাই ভাট ছিলেন গুজরাটের পোরবন্দরের বাসিন্দা এবং একজন নাগর ব্রাহ্মণ ছিলেন। নাগর ব্রাহ্মণ প্রথা অনুযায়ী প্রেমলতা ভাটের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল এবং তাঁদের তিন সন্তান ছিল।
নানভাই ভাট এবং তাঁর দাদা চলচ্চিত্র জগতে সুপরিচিত সাউন্ড টেকনিশিয়ান এবং স্পেশাল এফেক্টস টেকনিশিয়ান ছিলেন। তিনি সেই সময়ে প্রায়ই ‘মুঘল-এ-আজম’ ছবির পরিচালক কে. আসিফের অফিসে যেতেন। শিরিন মহম্মদ আলী নামের একটি মেয়ে আসিফের অফিসে রিসেপশনিস্ট হিসেবে কাজ করত। বিবাহিত নানভাই ভাট শিরিন মহম্মদ আলী নামের ওই মুসলিম মেয়ের প্রেমে পড়ে যান। যেহেতু হিন্দু রীতি অনুযায়ী নানভাই ভাট পুনরায় বিয়ে করতে পারতেন না, তাই তারা মন্দিরে গন্ধর্ব রীতিতে বিয়ে করেন। কিন্তু আইনত, তিনি কখনোই তাকে নিজের স্ত্রীর মর্যাদা দিতে পারেননি। শোনা যায় যে,একবার নানভাই ভাট তার স্ত্রী শিরিন মহম্মদ আলীকে নিয়ে পোরবন্দরের নিজের গ্রামে যান । কিন্তু সেখানে তার নাগর ব্রাহ্মণ আত্মীয়রা তার সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করে, কারণ শিরিন মুসলিম ছিল এবং খাসির মাংস ও মাছ খেত, অথচ নাগর ব্রাহ্মণরা ধর্মীয়ভাবে অত্যন্ত কঠোর নিরামিষাশী।
শিরিন মহম্মদ আলীর গর্ভে নানভাই ভাটের এক কন্যা ও তিন পুত্রসন্তান ছিল, যাদের মধ্যে মহেশ ভাট এবং বিক্রম ভাট অন্যতম। তার প্রথম স্ত্রীর গর্ভেও দুই পুত্র ও এক কন্যা সন্তান ছিল। নানভাই ভাটের আত্মীয়রা শিরিন মহম্মদ আলীকে কখনোই মেনে নেননি । আর এই ঘটনা শিরিন মহম্মদ আলীর মনে হিন্দুধর্মের প্রতি গভীর ঘৃণার জন্ম দেয় এবং তিনি সেই ঘৃণা নিজের সন্তানদের মধ্যেও সঞ্চারিত করেন।
শিরিন মহম্মদ আলীর সন্তান মুকেশ ভাট, মহেশ ভাট এবং বিক্রম ভাট কেবল নামেই হিন্দু, কিন্তু তারা সম্পূর্ণ ইসলামি ধর্মীয় পরিবেশে বড় হয়েছেন । কারণ শিরিন মহম্মদ আলী তার বাপের বাড়ির পাশেই থাকতেন এবং মহেশ ভাট তাদের মুসলিম মামা মাসিদের মাঝেই বড় হয়েছেন। যদিও মহেশ ভাটের নাম থেকে মনে হতে পারে যে তিনি হিন্দু,কিন্তু তিনি আদপে একজন মুসলিম । যেটা প্রায়ই নিজের আচার আচরণে প্রকাশ করেছেন । বিশেষ করে বিতর্কিত ইসলামি বক্তা জাকির নায়েকের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে ইতিপূর্বে প্রশ্ন উঠেছিল।।
