এইদিন ওয়েবডেস্ক,বর্ধমান,২১ জুন : সিপিএম থেকে তৃণমূলে যোগ দিয়ে দল শাসনক্ষমতায় থাকার সুযোগে শ্লীলতাহানি-তোলাবাজি-বালি সিন্ডিকেট চালানো থেকে শুরু করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার অভিযোগ উঠেছিল । রাজ্যে পালাবদল হতেই অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়না-১ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি বামদেব মণ্ডল। আজ রবিবার ভোর রাত প্রায় ২টা নাগাদ রায়নার যাকতা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় । তার কাছ থেকে পুলিশ একটি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে বলে জানা গেছে । সেই সাথে বামদেব মণ্ডলের ছায়াসঙ্গী কাজলকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ । পরে ধৃতদের বর্ধমান জেলা আদালতে পাঠানো হয় । পুলিশ ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে চেয়ে আবেদন জানিয়েছে ।
জানা গেছে, বামফ্রন্টের জমানায় একই ভাবে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছিল বামদেব। ২০০৬ সালে অর্থাৎ তৃণমূল সরকার গঠনের আগেই সুযোগ বুঝে বাম রাজনীতি ছেড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহযোগী হন। তৎকালীন বাম সরকারের দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাবাসে ছিলেন তিনি । জেলজীবন কাটিয়ে ফেরার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে বর্ধমানের রায়না ১ ব্লকের সভাপতির দায়িত্ব দেন। প্রায় বছর দশেক সেই পদেই ছিলেন । কিন্তু সেই সময়কালের মধ্যেই সিপিএমের জমানার সন্ত্রাস শুরু করে বামদেব ।
২০২৪ সালে লোকসভা ভোটের প্রচারের সময় হিজলনা অঞ্চলের বামুনিয়া বাজারে বিজেপির এক মহিলা কর্মীর শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল নেতা বামদেব মণ্ডলের বিরুদ্ধে । ঘটনার বিবরণ দিতে দিয়ে নির্যাতিতা মহিলা বলেন,’বামদেব মণ্ডল, বাদশা মির্জারা প্রকাশ্যে আমার শাড়ি খুলে ফেলে আমার শ্লীলতাহানি করে । আমার পিঠ ও বুক ব্লেড দিয়ে চিড়ে দেয় । পরে আমায় হুমকি দেয় যে বিজেপি করলে আমার মতই আমার মেয়ের অবস্থা করবে । বাড়িতে আগুন ধরিয়ে আমাদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারার হুমকি পর্যন্ত দেয় ।’ নির্যাতিতার অভিযোগ,’বিজেপি করার অপরাধে বামদেব মণ্ডল আমার কাছে এক লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে । কিন্তু আমরা গরবী মানুষ । অত টাকা তাকে দিতে পানিনি । অনেক কষ্ট করে জমানো ৩০ হাজার টাকা মণ্ডলের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হই ।’
শুধু শ্লীলতাহানি, সন্ত্রাস বা তোলাবাজিই নয়, দামোদরের বালি সিন্ডিকেট চালানোর অভিযোগ রয়েছে ওই কুখ্যাত তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে । ২৬শের বিধানসভার ভোটের প্রচারে যেকথা উল্লেখ করেছিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন বামদেব মন্ডল । তার বিরুদ্ধে তোলাবাজি,সাধারণ মানুষকে মারধর,শ্লীলতাহানি,বেআইনিভাবে আগ্নেয়াস্ত্র রাখাসহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রজু করেছে পুলিশ ।।
