এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২১ জুন : বয়স বাড়ার সাথে সাথে অসুস্থতাও বাড়ে—এই ধারণাটি বদলানোর সময় এসেছে। যোগ শুধু শরীরকে শক্তিশালী করার একটি উপায় নয়, বরং এটি একটি সুস্থ ও প্রাণবন্ত বার্ধক্যের পথ। ৭০ বছর বয়সে একজনের ৫০ বছর বয়সের চেয়েও বেশি সুস্থ থাকা উচিত। তাই, যোগকে শুধু একদিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জীবনের অংশ করে নিন—দেশের মানুষের প্রতি এমন আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোডে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, এ বছরের ‘স্বাস্থ্যকর বার্ধক্যের জন্য যোগ’ প্রতিপাদ্য বিষয়ের উল্লেখ করে বলেন যে, বার্ধক্য একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও, এর অর্থ এই নয় যে স্বাস্থ্য ও শারীরিক সক্ষমতার অবনতি ঘটবে।আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত ৫০ বছরের চেয়ে ৭০ বছর বয়সে জীবনযাত্রাজনিত রোগের বিরুদ্ধে বেশি প্রতিরোধী হওয়া, ২০ বছরের চেয়ে ৪০ বছর বয়সে বেশি প্রফুল্ল থাকা এবং ৩০ বছরের চেয়ে ৫০ বছর বয়সে বেশি উদ্যমী থাকা। এই লক্ষ্যগুলো অর্জনে যোগব্যায়াম একটি শক্তিশালী মাধ্যম।
প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্থূলতা এবং মানসিক চাপজনিত রোগের দ্রুত বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন যে, এই ধরনের জীবনযাত্রাজনিত রোগ থেকে দূরে থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো যোগব্যায়াম। তিনি বলেছেন,নিয়মিত যোগব্যায়াম শুধু শরীরের নমনীয়তাই বাড়ায় না, মানসিক স্বাস্থ্যেরও উন্নতি ঘটায়।
তিনি বলেন,যোগ শুধু একটি শারীরিক ব্যায়াম নয়, এটি একটি সামগ্রিক জীবনশৈলী যা দেহ, মন ও আত্মার মধ্যে ভারসাম্য আনে। প্রতিদিন কয়েক মিনিটের যোগাভ্যাস একজন ব্যক্তির আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে এবং মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে। যোগ শুধু আমাদের স্বাস্থ্যই দেয় না, এটি জীবনকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিও বদলে দেয়। যোগের মাধ্যমে আমরা শারীরিকভাবে সুস্থ এবং মানসিকভাবে শান্ত ও ভারসাম্যপূর্ণ ব্যক্তিতে পরিণত হতে পারি ।
একই সাথে,প্রধানমন্ত্রী যোগ দিবসকে শুধু একদিনের উদযাপনে সীমাবদ্ধ না রাখার আহ্বান জানান এবং সকলকে যোগকে তাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তোলার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, পরিবারের সদস্য, শিশু ও যুবকদের মধ্যে যোগের প্রতি আগ্রহ জাগিয়ে তোলা এবং তা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রত্যেকের দায়িত্ব। এই উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী বাংলার আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করেন এবং রামকৃষ্ণ পরমহংস ও স্বামী বিবেকানন্দের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন,বাংলার এই পবিত্র ভূমি ভারতকে অনেক মহান সাধু ও চিন্তাবিদ উপহার দিয়েছে। তিনি বলেন যে, ভারতীয় যোগ ও আধ্যাত্মিকতার বার্তা বিশ্বে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বামী বিবেকানন্দ এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
সব শেষে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আসুন, আমরা যোগকে একদিনের আচার-অনুষ্ঠান হিসেবে না দেখে, একে জীবনের এক অবিচ্ছিন্ন চর্চায় পরিণত করি। আসুন, একজন সুস্থ ব্যক্তি, একটি সুস্থ পরিবার এবং একটি সুস্থ সমাজ গড়তে যোগকে গ্রহণ করি।”
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে এবং বিশ্বের বহু দেশে যোগ কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ যোগাভ্যাসে অংশগ্রহণ করছেন এবং একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারার গুরুত্ব প্রচার করছেন। আজ রবিবার কলকাতায় অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে হাজার হাজার যোগপ্রেমী, ছাত্রছাত্রী, বিভিন্ন সংগঠনের সদস্য এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।।

