২০১৬ সালে ইরানের চাবাহার বন্দর থেকে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI) ও ইসলামি চরমপন্থী গোষ্ঠীর সহায়তায় অপহরণ করা হয়েছিল । ভারতীয় নৌবাহিনী অফিসার কুলভূষণ যাদব ইরানের চাবাহার বন্দরে নিজের ব্যক্তিগত ব্যবসা পরিচালনা করতেন। সেখান থেকে তাকে অপহরণ করে অবৈধভাবে পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। পাকিস্তানের সামরিক আদালত তাকে গুপ্তচরবৃত্তি ও নাশকতার মিথ্যা অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেয়। তারই প্রতিশোধ নিতে ঠিক এক বছরের মধ্যে এক অবসরপ্রাপ্ত পাকিস্তানি সেনা লেফটেন্যান্ট কর্নেলকে নেপাল থেকে গায়েব করে দিয়েছিল রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং বা “র” । ওই লেফটেন্যান্ট কর্নেল হল মুহাম্মদ হাবিব জহির।
এজন্য রীতিমতো ফাঁদ পেতেছিল “র” । অবসরপ্রাপ্ত পাকিস্তানি সেনা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহাম্মদ হাবিব জহিরকে জাতিসংঘের একটি প্রকল্পের জন্য ভুয়া সাক্ষাৎকারের উদ্দেশ্যে নেপালে ডাকা হয়। এই ফাঁদটি সিনেমার গল্পের চেয়েও বেশি রোমাঞ্চকর।
তিনি পাকিস্তান থেকে দুবাই হয়ে কাঠমান্ডুতে যান, তাঁর স্ত্রীকে ভিডিও কল করে খবরটি জানান এবং তারপর লুম্বিনিতে চলে যান। তিনি পরের দিন তাঁর সাথে কথা বলার প্রতিশ্রুতি দেন। কয়েক মিনিট পরেই তাঁর মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৭ সালের এপ্রিলে।
লুম্বিনি থেকে ভারতীয় সীমান্ত মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে। তার নিখোঁজ হওয়ার পর নেপালে অবস্থিত পাকিস্তান দূতাবাস জানায়, “র” তাঁকে অপহরণ করে ভারতে নিয়ে গেছে। ভারত সরকার জানায়, তাদের কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।
এখন ভারতের একটি কারাগারে পরিচয় গোপন রেখে মারা যাবে মুহাম্মদ হাবিব জহির। তাঁর দেহ পাকিস্তানেও যাবে না। ভারতের কোনো কারাগারের নথিতে তাঁর নাম পর্যন্ত নথিভুক্ত নেই।।
