১৭০৫ সালের ১৩ই ডিসেম্বর, হিন্দু ব্যবসায়ী টোডর মল(Todar Mal) মুঘল হানাদার আওরঙ্গজেবের কাছ থেকে ৭,৮০০ স্বর্ণমুদ্রার বিনিময়ে ৪ গজ জমি কিনেছিলেন গুরু গোবিন্দ সিং-এর দুই শিশুপুত্র ও বৃদ্ধা মৃতদেহ দাহ করার জন্য। যে ইতিহাস ইতিহাস পরিকল্পিত ভাবে গোপন করে গেছে কংগ্রেস সরকার ও বামপন্থী ইতিহাসকাররা৷ জানুন মুঘল হানাদারদের সেই অজানা নৃশংসতার কথা ।
দিনটা ছিল ১৭০৫ সালেত ১৩ই ডিসেম্বর৷ স্থান পাঞ্জাবের সিরহিন্দ । মুঘল সেনাপতি ওয়াজির খানের আদেশে, গুরু গোবিন্দ সিংয়ের দুই শিশুপুত্র —বাবা জোরাওয়ার সিং (৯ বছর বয়সী) এবং বাবা ফতেহ সিং (৭ বছর বয়সী)—ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে অস্বীকার করায় তাদের ইটের গাঁথনির মধ্যে জীবন্ত কবর দেওয়া হয়েছিল। যখন তাদের ঠাকুমা গুজরি দেবী, এই খবর জানতে পারেন, তখন তিনি শোকে মারা যান।
হানাদার মুঘলরা এই শহীদদের শেষকৃত্যেরও অনুমতি দেয়নি। পরিবর্তে তারা একটি শর্ত আরোপ করেছিল: যে কেউ এই শহীদদের দাহ করার জন্য জমি কিনতে চাইবে, তাকে ততটুকু জমি দেওয়া হবে যতটুকু সে সোনার মুদ্রা দিয়ে ঢাকতে পারবে। সেই সময় সমস্ত শিখ সর্দাররা অসহায় ছিলেন। কারন তাদের সকলের মিলিয়ে অত বিপুল স্বর্ণমূদ্রা ছিল না । তখন একজন হিন্দু বণিক, দেওয়ান টোডর মল, এগিয়ে আসেন। তিনি মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবকে ৭,৮০০ স্বর্ণমুদ্রা দিয়ে মাত্র ৪ গজ জমি কিনেছিলেন। সেই ছোট্ট এক টুকরো জমিতেই তিন শহীদের শবদাহ করা হয়েছিল।
আজও তা সিরহিন্দে দাঁড়িয়ে আছে—সেই মহান আত্মত্যাগ এবং হিন্দু-শিখ ঐক্যের সাক্ষী হয়ে টোডর মল ম্যানশন বা পাঞ্জাব ম্যানশন । সবচেয়ে বড় পরিহাস হলো, ভারতই একমাত্র দেশ যেখানে এর প্রকৃত ঐতিহ্য পরবর্তী প্রজন্মের কাছ থেকে গোপন রাখা হয় এবং মিথ্যা শিক্ষা দেওয়া হয়। পাঞ্জাব ম্যানশন আজ ধ্বংসস্তুপ । এই ঐতিহাসিক স্থানটি সংরক্ষণ করার পর্যন্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি ।।
