এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,১১ জুন : নিজের দেশের এক হিন্দু বৃদ্ধের সঙ্গে চুড়ান্ত বর্বর আচরণ করল বাংলাদেশিরা । ভারতীয় তকমা দিয়ে জুতোপেটা করা হয় তাঁকে । ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয় বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে । মঙ্গলবার (৯ জুন) গভীর রাত থেকে জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর-রামরামপুর সীমান্তের ১০৮২ নম্বর আন্তর্জাতিক পিলারের কাছে ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’ (শূন্য রেখা) অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে বৃদ্ধের। বুধবার (১০ জুন) বিকেল পর্যন্ত এমন অমানবিক দৃশ্য দেখা গেছে। জানা গেছে,ষাটোর্ধ্ব ওই বৃদ্ধের নাম ছষ্ঠী চন্দ্র বর্মন। বাবার নাম বাবু চন্দ্র বর্মন বাড়ি বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানার অন্তর্গত চান্দলাই গ্রামে । পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মানসিক ভাবে অসুস্থ ওই বৃদ্ধ গত দু’মাস আগে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যান । পরিবারের লোকজন তার পরিচয় নিশ্চিত করলে বৃদ্ধকে বকশীগঞ্জ থানায় নিয়ে যাওয়া হয় ।
বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবি জানিয়েছে, জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কথিত পুশইনের শিকার বৃদ্ধের নাম ষষ্টি চন্দ্র বর্মন এবং তিনি বাংলাদেশি নাগরিক । প্রায় ২৪ ঘণ্টা নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থানের পর তাকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ থানা হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সীমান্তের ১০৮২ নম্বর আন্তর্জাতিক পিলারের সামনে শূন্যরেখা এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পরে তাকে বকশীগঞ্জ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবারের সদস্যরা বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে পরিচয় যাচাই-বাছাই করে তাকে সীমান্ত এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।
এর আগে কামালপুর সীমান্তে ওই বৃদ্ধকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা, বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিজিবি গ্রামের লোকজন জড়ো করলে বৃদ্ধকে চুড়ান্ত হেনস্থা করা হয় । এই ঘটনায় সীমান্তজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম নেয়।বকশীগঞ্জ থানার ওসি মহম্মদ মকবুল হোসেন বলেছেন, বৃদ্ধের জাতীয় পরিচয়পত্র হাতে পেয়েছি। বৃদ্ধকে থানায় পাঠিয়েছে বিজিবি। তার স্বজনরা রাজশাহী থেকে ইতিমধ্যে রওনা দিয়েছেন। তার স্বজনরা এলে যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।।
