এইদিন ওয়েবডেস্ক,মুম্বাই,১০ জুন : নভি মুম্বাইয়ের নেরুল এলাকায় ইচ্ছাকৃতভাবে হিন্দু দেবদেবীর বিগ্রহ অবমাননার অভিযোগে এক খ্রিস্টান নার্সের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে । নভি মুম্বাইয়ের নেরুল (পশ্চিম) সেক্টর ৬-এর ‘শুশ্রুষা হার্ট কেয়ার সেন্টার অ্যান্ড স্পেশালিটি হসপিটাল’-এর হোস্টেলে এক খ্রিস্টান ধর্মান্তরিত তরুণীর হিন্দু দেবদেতার মূর্তি ছুঁড়ে ফেলার ঘটনাটি প্রকাশ্যে এসেছে। ওই খ্রিস্টান নার্স হিন্দু দেব-দেবীর মূর্তি এবং ঈশ্বরের মন্দিরের প্রতি এক সচেতন বিদ্রূপাত্মক আচরণ করেছেন। অভিযোগকারী হর্ষালা পাটিল হিন্দু জনজাগৃতি সমিতি (এইচজেএস)-এর কাছে অভিযোগ জানানোর পর এই মামলাটি দায়ের করা হয়। সংস্থাটির হস্তক্ষেপে নেরুল পুলিশ ভারতীয় দণ্ডবিধি (আইপিসি), ২০২৩-এর ২৯৮ এবং ৩৫১(২) ধারায় একটি মামলা নথিভুক্ত করেছে।
নেরুলের একটি হোস্টেলের ঘরে বসবাসকারী হর্ষালা পাটিল একটি ছোট মন্দির তৈরি করে সেখানে গণেশ এবং রাধা-কৃষ্ণের মূর্তি স্থাপন করেন এবং প্রতিদিন সেগুলোর পূজা করেন । ২০২৬ সালের মে মাসের শেষের দিকে তিনি এখানে চলে আসার পর অভিযুক্ত নার্স মন্দিরটি নিয়ে আপত্তি জানাতে শুরু করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে যে, এই বিষয়টি নিয়ে তিনি হর্ষালা পাটিলের সঙ্গে বারবার তর্ক করতেন।
গত ৫ই জুন হর্ষালা কাজ থেকে ফিরে এসে দেখেন যে পূজামণ্ডপটি জুতার তাকে সরানো হয়েছে এবং মূর্তিগুলো তার কাছেই পড়ে আছে। এই ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি নাকি বলেন যে তিনি হিন্দু দেব-দেবী চান না। তিনি তাদের বিশ্বাস করেন না। অভিযোগকারী এই মন্তব্যকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতমূলক বলে বর্ণনা করেছেন। বিষয়টি হাসপাতাল প্রশাসনের নজরে আনা হলে, ৬ই জুন ওই নার্সকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সেই একই সন্ধ্যায় নার্সটি তার জিনিসপত্র নেওয়ার অজুহাতে হোস্টেলের ঘরে ফিরে এসে আবারও পূজামণ্ডপটি জুতার তাকে সরিয়ে রাখেন এবং মূর্তিগুলো টেবিলের ওপর ছুড়ে ফেলেন। অভিযোগ করা হয় যে, হর্ষালা যখন সেখানে ছিলেন না, তখন বেশ কয়েকবার এই কাজ করা হয়েছিল।
জানা গেছে, হোস্টেলের ঘর থেকে বেরোনোর সময়েও হর্ষালাকে হুমকি দিয়েছিল ওই নার্স । ঘটনাটি সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পর, হিন্দু জনজাগৃতি সংগঠনের প্রতিনিধিরা নেরুল থানার কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। এরপর পুলিশ বিএনএস-এর প্রাসঙ্গিক ধারায় একটি এফআইআর দায়ের করে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।।
