সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে : “এক মুসলমান অন্য মুসলমানের ভাই। সে তার ওপর অত্যাচার করতে পারে না এবং তাকে শত্রুর হাতে সঁপে দিতে পারে না।” ধর্মগ্রন্থে উল্লিখিত নির্দেশ সম্প্রতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে দেখা যায় জম্মু-কাশ্মীরের মুসলিমদের । মার্কিন- ইসরায়েলি যৌথবাহিনী ইরানে প্রথম দফার হামলা চালালে জম্মু-কাশ্মীরের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ নিজেদের মধ্যে টাকাপয়সা, সোনারুপোর অলঙ্কার থেকে ঘটিবাটি পর্যন্ত সংগ্রহ করে ইরানকে সাহায্য পাঠায় । কিন্তু হাদিসে বর্ণিত একই নির্দেশ অনুযায়ী ইরানে অর্থ সাহায্য করতে গিয়ে সৌদি আরবে চরম বিপাকে পড়ে গেছে উত্তর প্রদেশের আমরোহা নিবাসী মোহাম্মদ রাহিব ও মোহাম্মদ জাফর নামে দুই ভাই । সৌদি পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠিয়েছে । এখন তারা সাহায্যের জন্য মোদীর “হিন্দুত্ববাদী” সরকারের কাছে আকুতি জানাচ্ছেন ।
প্রসঙ্গত,সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে ইতিমধ্যে একাধিকবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান । হামলার ফলে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে সৌদি আরবকে । যেকারণে দুই দেশের মধ্যে সাপে-নেউলে সম্পর্ক হয়ে গেছে । এমতবস্থায় দুই ভারতীয় মুসলিম যুবক কর্মসূত্রে সৌদিতে অবস্থান করে ইরানকে সাহায্য করায় তারা চরম ক্ষুব্ধ ।
বিষয়টি নিয়ে জাহাস তানভীর (Zahac Tanvir) নামে একজন এক্স ব্যবহারকারী(https://x.com/i/status/2064225977425682516) টুইট করেছেন,ইরানে অর্থ পাঠানোর অভিযোগে সৌদি আরবে দুই ভারতীয় ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এখন তারা সাহায্যের জন্য মোদীর “হিন্দুত্ববাদী” সরকারের কাছে আকুতি জানাচ্ছেন।
উত্তর প্রদেশের আমরোহা নিবাসী মোহাম্মদ রাহিব ও মোহাম্মদ জাফর কায়িক শ্রমের কাজের জন্য সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। তারা কঠোর পরিশ্রম করে দেশে অর্থ পাঠাতেন, যাতে পক্ষাঘাতগ্রস্ত বাবা ও গৃহিণী মায়ের ভরণপোষণ চালানো যায়।
গত মার্চ মাসে তাদের মা ভারত থেকে ইরানে থাকা কিছু মানুষের কাছে অর্থ পাঠাতে চেয়েছিলেন। নিজের পরিবারেরই যখন অধিক মনোযোগ ও সহায়তার প্রয়োজন ছিল, তখনও তিনি ইরানিদের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। জাফর সৌদি আরবে তার ভাই রাহিবের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ২০০ সৌদি রিয়াল (SAR) নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসের সাথে যুক্ত একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করেন।
আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরেই সৌদি সিআইডি (CID) এই দুই ভাইয়ের সন্ধান পায়। এরপর থেকে তাদের বিষয়ে আর কোনো খবর পাওয়া যায়নি। পরিবারটি এখন ভারত সরকারের কাছে হস্তক্ষেপ এবং তাদের মুক্তির জন্য সহায়তা চেয়ে অনুনয়-বিনয় করছে।
তিনি লিখেছেন,এটা বোঝা প্রয়োজন যে, ইরানি বা ফিলিস্তিনিদের চেয়ে আপনার নিজের পরিবার ও দেশবাসীই আপনার সাহায্যের বেশি হকদার। তাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো শক্তিশালী লবি এবং প্রভাবশালী সমর্থক রয়েছে; কিন্তু আপনার ক্ষেত্রে বিষয়টি তেমন নয়। তাই আবেগতাড়িত হয়ে বোকামি করা বন্ধ করুন। তাছাড়া, মোদী সরকারের প্রতি যতই কটাক্ষ করুন না কেন, যখন নিজের বিপদ ঘনিয়ে আসে, তখন শেষ পর্যন্ত সাহায্যের জন্য সেই সরকারের কাছেই আপনাকে ছুটতে হয়।
জানা গেছে, মহম্মদ রাহিব ও মোহাম্মদ জাফর হল সহদর ভাই । গত পাঁচ বছর ধরে সৌদি আরবের দাম্মাম শহরের একটি দোকানে কাজ করছিলেন।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনার সময় তাঁরা ফোনে তাঁদের মায়ের সঙ্গে কথা বলছিলেন। কথোপকথনের এক পর্যায়ে তাঁদের মা তাঁদের কিছু টাকা পাঠাতে বলেন, যাতে তিনি তা ইরানে দান করতে পারেন। জবাবে দুই ভাই জানান যে, তাঁরা সৌদি আরবে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসের মাধ্যমে সরাসরি সেই অর্থ দান করবেন।
জানা গেছে, তাঁরা ২০০ সৌদি রিয়াল দান করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু পরে সেই অর্থ তাঁদের অ্যাকাউন্টে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এর কিছুদিন পরই সৌদি পুলিশ দুই ভাইকে আটক করে কারাগারে পাঠায়।
বর্তমানে তাঁদের বাবা-মা ভারত সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছেন যেন সরকার এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে, তাঁদের ছেলেদের আইনি সহায়তা প্রদান করে এবং তাঁদের ভারতে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়।।
