এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,০৩ জুন : গির্জায় হামলাকারী ৪ জনকে ফাঁসির নির্দেশ দিয়েছে নাইজেরিয়ার আবুজার ফেডারেল হাইকোর্ট । ২০২২ সালের ৫ জুন ওন্দো রাজ্যের ওও-তে অবস্থিত সেন্ট ফ্রান্সিস ক্যাথলিক গির্জায় (Saint Francis Catholic Church) ভয়াবহ হামলা চালানোর জন্য ওই চারজনকে ফাঁসির মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে । যেখানে ৪০ জনেরও বেশি উপাসক নিহত হয়েছিলেন। এই মামলায় একজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে৷
ডিপার্টমেন্ট অফ স্টেট সার্ভিসেস (ডিএসএস) কর্তৃক দায়ের করা নয়টি সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে অভিযুক্ত পাঁচজনের মধ্যে এই চারজনের বিচার চলছিল। তারা হল ইদ্রিস আব্দুল মালিক ওমেইজা (২৫), আল কাসিম ইদ্রিস (২০), জামিউ আব্দুল মালিক (২৬), এবং আব্দুল হালিম ইদ্রিস (২৫)। অন্যদিকে, পঞ্চম অভিযুক্ত মোমোহ ওতুহো আবুবকর (৪৭) খালাস ও মুক্তি পেয়েছে ।
বিচারপতি এমেকা নুইতে তাঁর রায়ে চারজন আসামিকে সন্ত্রাসবাদ (প্রতিরোধ ও নিষেধাজ্ঞা) আইন লঙ্ঘনের দায়ে নয়টি অভিযোগের সবকটিতেই দোষী সাব্যস্ত করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অপরাধগুলোর মধ্যে রয়েছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আল-শাবাব (আইএসডব্লিউএপি-এর একটি সহযোগী সংগঠন)-এর সদস্যপদ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ষড়যন্ত্র, অপহরণ ও পনবন্দি করা এবং ৪০ জনেরও বেশি উপাসককে হত্যা। বিচারপতি নুইতে বলেন যে, রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগ যুক্তিসঙ্গত সন্দেহের ঊর্ধ্বে প্রমাণ করতে পেরেছে। তবে বিচারপতি বলেন যে, রাষ্ট্রপক্ষ পঞ্চম আসামির বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষীদের শনাক্তকরণ, ফোন ট্র্যাকিং ডেটা, সেল টাওয়ার রেকর্ড এবং স্বীকারোক্তিমূলক বিবৃতির মাধ্যমে আসামিদের ওও হামলার সাথে যুক্ত করেছে। অভিযুক্তরা আইএসডব্লিউএপি-এর সহযোগী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আল-শাবাবের সদস্য বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এই গোষ্ঠীটি মূলত কোগি রাজ্যের ওকেনেতে সক্রিয়। ২০২৫ সালের আগস্টে আদালতে হাজির করা হলে আসামীরা নিজেদের নির্দোষ বলে দাবি করে ।
মামলা চলাকালীন ডিএসএস ১১ জন সাক্ষীকে ডেকেছিল এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ হিসেবে ২৩টি নথি পেশ করেছিল। এদের মধ্যে ছিলেন হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা (যাদের মধ্যে একজন দুই পা ও একটি চোখ হারানোর পর হুইলচেয়ারে বসে সাক্ষ্য দেন), প্রার্থনা পরিচালনাকারী একজন ক্যাথলিক যাজক, গির্জার সদস্য, আমোটেকুন নিরাপত্তা কর্মী এবং ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ডিএসএস তদন্তকারীরা। বেশ কয়েকজন সাক্ষী সাংকেতিক পরিচয়ে সুরক্ষার অধীনে সাক্ষ্য দেন। মামলা চলাকালীন ডিএসএস মোট ২৩টি নথি সাক্ষ্যপ্রমাণ হিসেবে পেশ করে।
আইনজীবী আয়োদেজি আদেদিপের নেতৃত্বে রাষ্ট্রপক্ষ অপরাধের ভয়াবহতার কথা উল্লেখ করে আসামীদের দোষী সাব্যস্ত করতে এবং ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড বা ফাঁসির সর্বোচ্চ শাস্তি আরোপ করার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানায়।প্রতিরক্ষা পক্ষ তাদের মামলা উপস্থাপন করে এবং বেশিরভাগ আসামী তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাঁড়ায়।আসামীদের স্বীকারোক্তিমূলক বিবৃতির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে একটি ‘বিচারের মধ্যে বিচার’ অনুষ্ঠিত হয়, যা প্রতিরক্ষা পক্ষের দাবি অনুযায়ী জোরপূর্বক আদায় করা হয়েছিল। তারা দাবি করেছে যে, ওও গির্জায় হামলার দায় স্বীকারে বাধ্য করার জন্য তাদের বিবস্ত্র করে পেট ও যৌনাঙ্গে বৈদ্যুতিক শকসহ মারধর ও নির্যাতন করা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে যে, ডিএসএস কর্মীরা বলেছিল, ‘তাদের হয় স্বীকারোক্তি দিতে হবে, নয়তো মরতে হবে।’
চারজন অভিযুক্ত অভিযোগ করেছেন যে, মারাত্মক ওও গির্জা হামলার অপারেশনাল লিডার হিসেবে পঞ্চম অভিযুক্ত মোমোহ ওতুহো আবুবাকারকে অভিযুক্ত করতে পারলে তাদের মোটা অঙ্কের অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল।বিচারপতি এমেকা নুইতে এই মামলার সভাপতিত্ব করেন, যা পূর্বে বেশ কয়েকবার বিলম্বিত হলেও ২০২৫ এবং ২০২৬ সালে ধারাবাহিকভাবে অগ্রসর হয়েছিল।
ওও গির্জায় হামলা নাইজেরিয়ার সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম জঘন্যতম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে রয়ে গেছে। সে সময় কোনো গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে এর দায় স্বীকার করেনি, যদিও প্রাথমিকভাবে সন্দেহ ইসলামিক স্টেট-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর দিকেই গিয়েছিল।।
