ভাগবত পুরাণের দশম স্কন্ধে বর্ণিত ‘বাল রক্ষা’ বা ‘বালা রক্ষা স্তোত্রম’ (Bala Raksha Stotra) হলো গোপীদের দ্বারা গাওয়া একটি অত্যন্ত পবিত্র প্রার্থনা । কৃষ্ণ ও বলরামের বাল্যকালে তাঁদের অশুভ শক্তি ও নানা বিপদ থেকে রক্ষা করার জন্য এই স্তোত্র পাঠ করা হতো ।
ভাগবত পুরাণের দশম স্কন্ধের ষষ্ঠ অধ্যায়ে (গোপীকৃত বালরক্ষা) এই মন্ত্রটির উল্লেখ রয়েছে । গোপীরা তাঁদের সন্তানদের (মূলত কৃষ্ণ ও বলরাম) সমস্ত বিপদ, যেমন: ডাইনি (ডাকিণী), অপদেবতা এবং অশুভ স্বপ্ন থেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য শ্রীবিষ্ণুর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন
‘বাল রক্ষা’ স্তোত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব:
পাঠের উদ্দেশ্য: সনাতন ধর্মে জন্ম থেকে ৫ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের বিভিন্ন রোগবালাই ও অশুভ নজর থেকে রক্ষা করার জন্য মা বা অভিভাবকরা এই স্তোত্রটি পাঠ করেন ।
রক্ষাকবচ: এই প্রার্থনায় ভগবান বিষ্ণু এবং কৃষ্ণের বিভিন্ন অঙ্গের নাম উল্লেখ করে তাঁদের প্রতি শিশুর প্রতিটি অঙ্গ রক্ষা করার আবেদন জানানো হয় । অশুভ শক্তির বিনাশ: স্তোত্রটিতে বিভিন্ন অশুভ গ্রহ, প্রেতাত্মা, এবং ক্ষতিকর রোগ বা দৈব-অদৈব শক্তির নাম নিয়ে বিষ্ণুর নামে সেগুলো দূর করার প্রার্থনা করা হয় ।
বালা রক্ষা স্তোত্রম
শ্রী গণেশায় নমঃ ।
অব্যাদজোঽংঘ্রি মণিমাংস্তব জান্বথোরূ
যজ্ঞোঽচ্যুতঃ কটিতটং জঠরং হয়াস্যঃ ।
হৃত্কেশবস্ত্বদুর ঈশ ইনস্তু কণ্ঠং
বিষ্ণুর্ভুজং মুখমুরুক্রম ঈশ্বরঃ কম্ ॥১॥
চক্র্যগ্রতঃ সহগদো হরিরস্তু পশ্চাত্
ত্বত্পার্শ্বয়োর্ধনুরসী মধুহাজনশ্চ ।
কোণেষু শংখ উরুগায় উপর্য়ুপেংদ্রস্
তার্ক্ষ্য়ঃ ক্ষিতৌ হলধরঃ পুরুষঃ সমংতাত্ ॥২॥
ইংদ্রিয়াণি হৃষীকেশঃ প্রাণান্নারাযণোঽবতু ।
শ্বেতদ্বীপপতিশ্চিত্তং মনো যোগেশ্বরোঽবতু ॥৩ ॥
পৃশ্নিগর্ভস্তু তে বুদ্ধিমাত্মানং ভগবান্ পরঃ ।
ক্রীড়ংতং পাতু গোবিংদঃ শয়ানং পাতু মাধবঃ ॥৪ ॥
ব্রজংতমব্যাদ্বৈকুংঠ আসীনং ত্বাং শ্রিয়ঃ পতিঃ ।
ভুংজানং যজ্ঞভুক্পাতু সর্বগ্রহভয়ংকরঃ ॥৫॥
ডাকিন্যো যাতুধান্যশ্চ কুষ্মাণ্ডা যেঽর্ভকগ্রহাঃ ।
ভূতপ্রেতপিশাচাশ্চ যক্ষরক্ষোবিনায়কাঃ ॥৬॥
কোটরা রেবতী জ্যেষ্ঠা পূতনা মাতৃকাদয়ঃ ।
উন্মাদা যে হ্যপস্মারা দেহপ্রাণেংদ্রিয়দ্রুহঃ ॥৭ ॥
স্বপ্নদৃষ্টা মহোত্পাতা বৃদ্ধবালগ্রহাশ্চ যে ।
সর্বে নশ্ য়ংতু তে বিষ্ণোর্নামগ্রহণভীরবঃ ॥৮॥
॥ ইতি শ্রীমদ্ভাগবতে দশমস্কন্ধে গোপীকৃতবালরক্ষা সমাপ্তা ॥

