এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,২৮ মে : রাশিয়ায় বসবাসরত বেশ কয়েকজন আফগানের সঙ্গে এক বৈঠকে তালেবানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন যে, অতীতে আফগানিস্তানে হিন্দু ও শিখদের জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্য ছিল, কিন্তু এখন তাদের সংখ্যা খুবই কম। মোহাম্মদ ইয়াকুব মুজাহিদ আরও বলেন যে, আফগানিস্তানের হিন্দু ও শিখদের নিজ মাতৃভূমিতে ফিরে আসার এবং এর ওপর মালিকানা ও আপনত্বের অনুভূতি লাভের অধিকার রয়েছে।
তিনি এই নাগরিকদের আফগানিস্তানে ফিরে আসার আহ্বান জানান এবং দাবি করেন যে, তালেবানরা তাদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইয়াকুব মুজাহিদ জোর দিয়ে বলেন, “তাদের প্রতি কখনো অবিচার করা হবে না।”
তালেবানের এক কর্মকর্তা বলেছেন যে, দেশের অগ্রগতির জন্য সকল আফগান নাগরিক তাদের মতামত ও পরামর্শ তালেবান প্রশাসনের কাছে জানাতে পারেন।তিনি আরও দাবি করেন যে, তালেবানরা আফগানিস্তান জুড়ে এমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে যা “গত চার দশকে নজিরবিহীন”। তিনি আরও বলেন যে, আফগানিস্তানের পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ প্রয়োজন এবং চার দশকের যুদ্ধ দেশটির ব্যাপক ক্ষতি করেছে। তার মতে, দেশ পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় সময় লাগবে এবং ব্যাপক প্রচেষ্টা প্রয়োজন হবে।
তালেবানরা পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর আফগানিস্তানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের, বিশেষ করে হিন্দু ও শিখদের ওপর হামলা বেড়ে যায়, যার ফলে তারা দলে দলে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। এই নাগরিকদের অধিকাংশই ভারতে আশ্রয় নেয়।
গত বছর ভারত সফরকালে তালেবানের বিদেশমন্ত্রী নয়াদিল্লিতে আফগান হিন্দু ও শিখ গোষ্ঠীর বেশ কয়েকজন শীর্ষ সদস্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং বলেন যে, তালেবান ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে ও তাদের উপাসনালয়গুলো পুনর্নির্মাণ করবে।
আফগানিস্তানে হিন্দু ও শিখ নাগরিকদের জনসংখ্যা হ্রাস পেয়েছে এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো তাদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান বৈষম্য, সামাজিক চাপ, নিরাপত্তাহীনতা ও ব্যাপক বিধিনিষেধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ।
ধর্মীয় চাপ এবং বিধিনিষেধ
মহম্মদ ইয়াকুব মুজাহিদ যখন আফগানিস্তানের হিন্দু ও শিখদের অধিকার এবং তাদের মালিকানা ও আপনত্বের অনুভূতি নিয়ে কথা বলছেন, তখন একজন শিয়া ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব তালেবানের কঠোর বিধিনিষেধের সমালোচনা করেছেন।আফগানিস্তানের শিয়া ধর্মীয় নেতা ওয়াইজ্জাদা বেহসুদি বলেছেন যে, গত পাঁচ বছরে জাফরী সম্প্রদায়ের অনুসারীদের ওপর তালেবানের চাপ ক্রমাগত বেড়েছে। তিনি তার ঈদুল আযহার খুতবায় বলেন, এই চাপের কারণে মানুষ আলেমদের কাছে গিয়ে কান্নাকাটি করে।।
