এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,২৮ মে : সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ইসলামি রাষ্ট্র বাংলাদেশে ধর্মীয় উগ্রতা ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে৷ সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ভারত-ইসরায়েল ও আমেরিকা বিদ্বেষ । নখদন্তহীন ও হতদরিদ্র বাংলাদেশি উগ্রপন্থীদের দেশগুলির বিরুদ্ধে বিশেষ কিছু করার উপায়ও নেই । তাই তারা ভারত-ইসরায়েল ও আমেরিকার রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্পর্কে অপমানজনক আচরণের পথ বেছে নিয়েছে। সম্প্রতি ‘অ্যালবিনো’ প্রজাতির একটি মহিষকে সোশ্যাল মিডিয়া জোর চর্চা চলছিল। কারন মহিষটির মাথার সোনালি রঙের চুলের ঝুঁটির কারণে তার নামকরণ করা হয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে । আজ ঈদ উপলক্ষে মহিষটির কুরবানি বা জবাই করে ট্রাম্পের উপর গায়ের ঝাল মেটাতে চেয়েছিলে বাংলাদেশি উগ্রপন্থীরা । কিন্তু মার্কিন রোষের মুখে পড়ার আশঙ্কায় বাংলাদেশ সরকার মহিষটির হত্যা আটকে দিয়েছে। শেষ মুহূর্তে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মহিষটিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ঢাকার মিরপুর চিড়িয়াখানায়। মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ার রাবেয়া এগ্রো ফার্মে লালন-পালন করা প্রায় ১,৫০০ পাউন্ড ওজনের ওই মহিষটি নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাপক চর্চা চলছিল । ঈদের দিনে জবাই করা জন্য মোষটি কিনেছিল মহম্মদ তাইবুর রহমান নামে এক ব্যক্তি । তিনি বলেন, ‘আমরা মূলত ঈদ কোরবানির জন্য মহিষটি কিনেছিলাম । তবে পরে জানতে পারি এটি অত্যন্ত বিরল একটি মহিষ। প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সং রক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ায় আমরা মহিষটি তাদের কাছে হস্তান্তর করেছি।’
এদিকে এই অ্যালবিনো মহিষটির সোনালি লোম ও চুলের কারনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় আসে। গাজা যুদ্ধে ভূমিকার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপর রোষ মেটাতে উগ্রপন্থীরা মহিষটির নামকরণ করে “ডোনাল্ড ট্রাম্প”৷ ভাইরাল হওয়ার পর দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ মহিষটি দেখতে খামারে ভিড় করেন। দেশীয় গণমাধ্যমের পাশাপাশি এএফপি থেকে রয়টার্সের মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও এটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। কিন্তু দেশের কট্টরপন্থীদের এই প্রকার আচরণে মার্কিন রোষের মুখে পড়ার ভয় কাজ করে বাংলাদেশ সরকার মোষটির জবাই করা আটকে দিয়েছে ।।
