এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৪ মে : কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চত্বরের মধ্যে অবস্থিত ১৩৬ বছরের পুরোনো বাঁকরা মসজিদটি সরানোর প্রস্তুতি জোরদার হয়েছে। জেলা প্রশাসন এবং এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (এএআই)-র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি দল মসজিদটির স্থান পরিদর্শন করেছে। এর পরে, রাজ্য প্রশাসন এবং মসজিদ কমিটির প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে মসজিদটি স্থানান্তরের জন্য চাপ দেওয়া হয়। প্রায় ৩০ বছর ধরে, পূর্ববর্তী সরকারগুলো বারবার এটি সরানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। এখন, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসায়, এটি সরানোর সম্ভাবনা ক্রমশ বাড়ছে।
কর্মকর্তারা বলছেন যে, রানওয়ের কাছাকাছি মসজিদটির অবস্থান বিমানবন্দরের নিরাপত্তা, বড় আকারের বিমানের অবতরণ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবস্থা স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। মনে করা হচ্ছে, ঈদুল আজহার পর এই বিষয়ে একটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। বানকারা মসজিদ নামে পরিচিত এই মসজিদটি বিমানবন্দর নির্মাণেরও আগে নির্মিত বলে জানা যায়।তবে, বিমানবন্দর সম্প্রসারণের পর এটি এখন দ্বিতীয় রানওয়ের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে (দ্বিতীয় রানওয়ে থেকে মাত্র ৩০০ মিটার দূরে) । আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বিধি অনুযায়ী রানওয়ে এবং যেকোনো স্থায়ী কাঠামোর মধ্যে একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব থাকা আবশ্যক, কিন্তু এখানে সেই মান বজায় রাখা হচ্ছে না। ফলস্বরূপ, বিমানবন্দরের কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিচ্ছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, মসজিদটির বর্তমান অবস্থানের কারণে দ্বিতীয় রানওয়েটি পুরোপুরি ব্যবহার করা যায় না। এর ফলে বড় আকারের ওয়াইড-বডি বিমানের অবতরণে সমস্যা হয়। এছাড়াও, উন্নত ইন্সট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম (আইএলএস) স্থাপনে প্রযুক্তিগত অসুবিধা রয়েছে, যা খারাপ আবহাওয়া এবং কম দৃশ্যমানতার সময় ব্যবহৃত হয়।
সম্প্রতি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন এবং মসজিদ কমিটির মধ্যে বেশ কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত কারণ দেখিয়ে কর্মকর্তারা মসজিদটি স্থানান্তরের প্রস্তাব দিয়েছেন। এদিকে, মসজিদ কমিটি জানিয়েছে যে তারা কোনো সংঘাত চায় না, তবে এ বিষয়ে প্রধান মুসলিম সংগঠনগুলোর পরামর্শ নেবে।
মসজিদটি বিমানবন্দরের উচ্চ-নিরাপত্তা অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত, তাই সেখানে আগত মুসল্লিদের সিআইএসএফ দ্বারা পরীক্ষা করা হয় এবং তারপর একটি বিশেষ গাড়িতে করে মসজিদে নিয়ে যাওয়া হয়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ মনে করে, ভবিষ্যতে যেকোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে এই সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।।
