এইদিন ওয়েবডেস্ক,লখনউ,২০ মে : ভারতের বৃহত্তম অঙ্গরাজ্য হল উত্তরপ্রদেশ । এক সময় কুখ্যাত অপরাধীদের অবাধ বিচরণভূমি ছিল এই রাজ্য ৷ বিশেষ করে অভিযোগ ওঠে যে মুলায়েম সিং যাদব ও তার ছেলে অখিলেশ যাদবের শাসনকালে পুলিশ নয়, কার্যত মাফিয়াদের শাসন চলত উত্তরপ্রদেশে ৷ পিতাপুত্রের জমানায় বরঞ্চ পুলিশেরই কোনো নিরাপত্তা ছিল না, সাধারণ মানুষ তো দুরের কথা ৷ কিন্তু যোগী আদিত্যনাথ মুখ্যমন্ত্রী হয়ে আসার পর থেকেই উত্তর প্রদেশের ক্রাইম রেট আস্তে আস্তে কমতে শুরু করে । আর এটা সম্ভব হয়েছে কোনো যাদু বলে নয়,বরঞ্চ অপরাধকে নির্মুল করার শাসকের সদিচ্ছার কারনেই । যোগী আদিত্যনাথ কতটা কঠোর হাতে অপরাধকে দমন করেছেন,তার একটা খন্ডচিত্র তুলে ধরেছে এনডিটিভি ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী,বিগত ৯ বছরে উত্তর প্রদেশ জুড়ে মোট ১৭,০৪৩টি এনকাউন্টার অভিযান চালানো হয়েছে । যেখানে ২৮৯ জন অপরাধীর মৃত্যু হয়েছে । আহত হয়েছে ১১,৮৩৪ জন । গ্রেপ্তার হয়েছে মোট ৩৪,২৫৩ জন দুষ্কৃতী । তবে এই অভিযানে পুলিশেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে । প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্তব্যরত অবস্থায় ১৮ জন পুলিশ কর্মী নিহত এবং ১,৮৫২ জন আহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এনকাউন্টার অভিযানে শীর্ষে মিরাট জোন । পুলিশ এখানে ৪,৮১৩টি এনকাউন্টার পরিচালনা করে ৮,৯২১ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার এবং ৩,৫১৩ জনকে আহত করেছে। ঘটনাস্থলেই মোট ৯৭ জন অপরাধী নিহত হয়েছে, যা রাজ্যে সর্বোচ্চ। এই অভিযানগুলো চলাকালে ৪৭৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হন এবং কর্তব্যরত অবস্থায় দুইজন পুলিশ সদস্য প্রাণ হারান।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বারাণসী অঞ্চল । এখানে ১,২৯২টি এনকাউন্টার পরিচালনা করা হয়েছে । পুলিশ ২,৪২৬ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে এবং এনকাউন্টারে ২৯ জনকে হত্যা করে। এই সময়ে ৯০৭ জন অপরাধী এবং ১০৪ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।
আগ্রা অঞ্চল তৃতীয় স্থানে রয়েছে । আগ্রায় ২,৪৯৪টি এনকাউন্টার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এযাবৎ । এই অভিযানগুলো চলাকালে পুলিশ ৫,৮৪৫ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে, ৯৬৮ জনকে আহত করে এবং ২৪ জনকে হত্যা করে। আগ্রা অঞ্চলের এনকাউন্টারগুলোতে মোট ৬২ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।
অনান্য জোন ও কমিশনারেট জুড়ে এনকাউন্টারের তথ্য
গাজিয়াবাদ কমিশনারেট : কমিশনারেটগুলোর মধ্যে গাজিয়াবাদে সর্বাধিক সংখ্যক অপরাধী নিহত হয়েছে। ৭৮৯টি এনকাউন্টারে মোট ১৮ জন অপরাধী নিহত হয়েছে।
কানপুর জোন: ৭৯১টি এনকাউন্টারে ১২ জন অপরাধী খতম
কানপুর কমিশনারেট: ২৫৩টি এনকাউন্টারে ৪ জন অপরাধীর মৃত্যু
লখনউ কমিশনারেট: ১৪৭টি এনকাউন্টারে মৃত্যু ১২ জন অপরাধীর
আগ্রা কমিশনারেট: ৪৮৯টি এনকাউন্টারে ১০ জন অপরাধী নিহত
বারাণসী কমিশনারেট: ১৪৬টি এনকাউন্টারে ৮ জন অপরাধী নিহত
প্রয়াগরাজ কমিশনারেট: ১৫০টি এনকাউন্টারে ৬ জন অপরাধী নিহত
প্রয়াগরাজ জোন: ৬৪৩টি এনকাউন্টারে ১১ জন অপরাধী নিহত
গোরখপুর জোন: ৬৯৯টি এনকাউন্টারে ৮ জন অপরাধী নিহত
গৌতম বুদ্ধ নগর: ১,১৪৪টি এনকাউন্টারে ৯ জন অপরাধী নিহত
এছাড়া, বেরেলি জোন : ২,২২২টি এনকাউন্টারে ২১ জন অপরাধীর মৃত্যু
লখনউ জোন : ৯৭১টি এনকাউন্টারে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে
এনকাউন্টার অভিযানের পাশাপাশি, কর্তৃপক্ষ সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকরণ, গ্যাংস্টার আইনের অধীনে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং … এর মতো কঠোর পদক্ষেপও প্রয়োগ করেছে ।
