গুজরাটের রাজকোটের ট্রাফিক শাখায় কর্মরত হেড কনস্টেবল ইমরান হাবিবভাই রাউমা এক হিন্দু মহিলাকে বারবার ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছে। ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযুক্ত তার মেয়ের সামনে বিবস্ত্র করে অশালীন কাজ করে এবং তাকে আফ্রিকায় বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দেয়। তার এই কাজের ফলে মেয়েটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং নিজের মায়ের কাছে যেতেও ভয় পেতে শুরু করে। অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।
ভুক্তভোগী পুলিশকে জানান যে, প্রায় নয় বছর আগে তার বিয়ে হয়েছিল। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি তার পাঁচ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে মায়ের বাড়িতে চলে আসেন। এই সময়ে, যে দর্জির দোকানে তিনি কাপড় সেলাই করাতেন, সেখানেই ইমরানের সাথে তার পরিচয় হয়। তাদের পরিচয় গভীর হওয়ার পর, ইমরান ওই মহিলাকে হয়রানি করতে শুরু করে।
ওই মহিলার ভাষ্যমতে, এক রাতে প্রায় ১২টার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তি জোর করে তার বাড়িতে প্রবেশ করে। সে তাকে মারধর করে, বিবস্ত্র করে, ছবি ও ভিডিও তোলে এবং তারপর ধর্ষণ করে। সে এও হুমকি দেয় যে, ওই মহিলা কাউকে কিছু বললে ছবি ও ভিডিওগুলো ভাইরাল করে দেওয়া হবে। ভুক্তভোগীর দাবি, ভয় ও মানহানির আশঙ্কায় তিনি দীর্ঘদিন চুপ ছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে যে, অভিযুক্ত তার পুলিশের পোশাক ও পদের অপব্যবহার করেছে। সে বারবার মহিলাটিকে হুমকি দিয়েছে এবং তার সাথে সম্পর্কে জড়াতে বাধ্য করেছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ইমরান তাকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার জন্য চাপ দিয়েছিল।মহিলাটি জানান যে, ক্রমবর্ধমান ভয় ও হয়রানিতে বিপর্যস্ত হয়ে তিনি তার শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যান, কিন্তু অভিযুক্ত নাছোড়বান্দা ছিল। অভিযোগ করা হয় যে, ডিউটিরত অবস্থায় ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়লেও, সে মহিলাটিকে সেখানে ডেকে নিয়ে তার ওপর জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে।
অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত মেয়েটির সাথে অশ্লীল কর্মকাণ্ডেও লিপ্ত হয়, তার সামনে বিবস্ত্র হয়ে যায় এবং অশালীন আচরণ করে। এটি মেয়েটির মানসিক অবস্থার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। অবশেষে, হতাশ হয়ে মহিলাটি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ইমরানকে গ্রেপ্তার করে এবং একটি তদন্ত শুরু করে।।
