এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০২ মে : দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ভাই কার্তিক ব্যানার্জিকে সতর্ক করে দেওয়া কালীঘাট থানার ওসি গৌতম দাসকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চামেলি মুখোপাধ্যায়কে। তবে কালীঘাট থানার ওসিকে সাসপেন্সনের পিছনে রয়েছে অন্য কারন৷
সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে তার একটি ছবি পোস্ট নিয়ে অভিযোগ জানায় তৃণমূল । তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার ওই ছবি পোস্ট করে জানান যে,দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ অগ্রবাল এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দকে এই বিষয়টি চিঠি লিখে অবগত করা হয়েছে।ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একটি অত্যাধুনিক বন্দুক হাতে থানায় নিজের চেয়ারে বসে রয়েছেন গৌতম। তার পরনে পুলিশের উর্দি ।
জয়প্রকাশের মতে, ‘পশ্চিমবঙ্গে কর্তব্যরত কোনও পুলিশ কর্মকর্তা ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় নিজের ছবি তুলে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করতে পারেন না। সেটি কলকাতা পুলিশের সমাজমাধ্যম ব্যবহার সংক্রান্ত নির্দেশিকাতে উল্লেখ রয়েছে। অন্য অনেক রাজ্যেই এ ধরনের বিধিনিষেধ বলবৎ রয়েছে। পাশাপাশি, সমাজমাধ্যম ব্যবহার সংক্রান্ত ভারত সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, হুমকিমূলক কোনও ধরনের ক্যাপশন-সহ অস্ত্রের ছবি প্রকাশ করা নিষিদ্ধ বলেও তিনি দাবি করেন ।
যদিও পরে পোস্টটি মুছে ফেলা হয় । লালবাজার সূত্রে খবর,তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগের পর পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্বাচন কমিশনের কাছে গৌতম দাসকে সাসপেন্ড করার সুপারিশ করা হয়৷ তার ভিত্তিতেই সাসপেনশন বলে জানা গেছে । উল্লেখ্য,দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন মমতা ব্যানার্জির ভাই কয়েজনের সাথে রাস্তার পাশে বসে গল্পগুজব করছিলেন । সেই সময় কার্তিককে নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি জমায়েত না করার নির্দেশ দেন ওসি গৌতম দাস৷ অবশ্য এই বিষয়ে তৃণমূলের তরফে কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি ।
প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় দফার ভোটের মুখে কালীঘাট থানার ওসি বদলে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তবে তার আগে গত ২৯ মার্চ কালীঘাট থানার ওসি এক দফা বদল করা হয়েছিল। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উৎপল ঘোষকে কালীঘাট থানার ওসি করে আনা হয়েছিল। সেই নিয়োগের এক মাসের মধ্যেই উৎপলকে সরিয়ে দিল কমিশন। তাঁর জায়গায় কালীঘাট থানার নতুন ওসি করা হয় গৌতমকে। তিনি কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চে ছিলেন।।
