এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,৩০ এপ্রিল : বুধবার রাজ্যের দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণ সম্পূর্ণ হয়েছে । ভোট পড়েছে ৯২.৬৭% । প্রথম দফায় ভোট পড়েছিল ৯৩.১৯ শতাংশ, যা নির্বাচন কমিশনের মতে স্বাধীনতার পর থেকে সর্বোচ্চ। ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে বুথ ফেরত সমীক্ষার প্রতিবেদন । অধিকাংশ সমীক্ষাতেই এরাজ্যে বিজেপির ক্ষমতায় আসার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে । এখন বুথ ফেরত সমীক্ষা কতটা সত্যি প্রমাণিত হয় তা আগামী ৪ মে ভোট গননার পরেই স্পষ্ট হবে । এদিকে বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার রাজ্য সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম আনসারি রাজ্যের বিদায়ী শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে সরাসরি “বদলার” হুমকি দিয়ে রেখেছেন।
গতকাল ভোট পর্ব মেটার পর তিনি নিজের ব্লগে লিখেছেন,”04 মে 2026 তৃণমূল মুক্ত পশ্চিমবঙ্গ হবে…তারপর সুদে আসলে সব দ্বিগুন ফেরত হবে……আমরা স্রোতের প্রতিকুলে 14 বছর ধরে লড়াই করছি, জীবনের বহু মূল্যবান সময় দলের স্বার্থে দিয়েছি এবং দিয়ে যাব ……আমাদের রাজনৈতিক জীবনে বহু মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছি আমরা , আমাদের অনেকজন বিজেপি করার অপরাধে জেল পর্যন্ত খেটেছেন…….তৃণমূল নেতাদের উদ্দেশ্যে বলছি লড়াইয়ের ময়দান ছেড়ে পালাবেন না। 14 বছর নয় শুধু 14 মাস স্রোতের বিপরীতে লড়াই করবেন যদি এক বাপের বেটা হয়ে থাকেন তাহলে ।4 মে বিকেল 4 ঘটিকার পরে শুধু বদলা আর বদলা……।”
প্রসঙ্গত,২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে নয়া ইতিহাস গড়েছে পশ্চিমবঙ্গ। ১৩ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে দেশের মধ্যে সর্বকালের সর্বোচ্চ ভোটদানের নজির তৈরি করল বাংলা। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, প্রথম ও দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শেষে বাংলায় সামগ্রিক ভোটদানের হার দাঁড়িয়েছে ৯২.৮৫ শতাংশ। এর আগে কোনো রাজ্যই এই পরিসংখ্যান ছুঁতে পারেনি।এতদিন পর্যন্ত ভারতের বিধানসভা নির্বাচনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ভোটদানের রেকর্ড ছিল ত্রিপুরার দখলে। ২০১৩ সালে সেখানে ৯১.৮২ শতাংশ ভোট পড়েছিল । গত ১৩ বছর ধরে সেই নজির অক্ষত থাকলেও ২০২৬-এর বাংলা তা টপকে গেছে । ১৩ বছর আগে ত্রিপুরাবাসী রেকর্ড সংখ্যায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করে সিপিএম-এর দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটায় । এবারের পশ্চিমবঙ্গে রেকর্ড ভাঙা ভোটদানের মাধ্যমে তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনের অবসানের পক্ষেই মানুষ রায় দিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে৷ তবে দ্বিমত প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ ।।
